মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার ১৩ বছর পর দেশে
- আপডেট সময় : ০৩:২০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 196
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জামায়াতের সাবেক রোকন (সদস্য) আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্টারের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামির আত্মসমর্পণের আবেদনটি প্রসিকিউশন পেয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, “মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আত্মসমর্পণ করার আবেদন পেয়েছে প্রসিকিউশন।”
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি তার ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। নিজের সাজা স্থগিত চেয়ে গত বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি। এরপর আজ নিজেই আত্মসমর্পণ করলেন।
২০১৩ সালের গত ২১ জানুয়ারি যুদ্ধাপরাধ মামলার প্রথম রায়ে বাচ্চু রাজাকারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারায় দণ্ড বা খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এক মাস অর্থাৎ ৩০ দিন। তবে পলাতক থাকায় সে সুযোগ হারিয়েছেন বাচ্চু রাজাকার। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আগেই পালিয়ে যান তিনি। সে কারণে তার অনুপস্থিতিতেই তার বিচার চলে।
রায়ের পর আপিলের সুযোগ পাওয়ার জন্য নির্ধারিত ৩০ দিনও তিনি পলাতকই ছিলেন। পলাতক থাকায় তিনি বা তার পরিবার আইনজীবী নিয়োগ না করায় ট্রাইব্যুনাল তার পক্ষে আইনি লড়াই করতে নিয়োগ দেন আইনজীবী আব্দুস শুকুর খানকে। এমনকি বাচ্চু রাজাকারের পক্ষে সাফাই সাক্ষীও দেননি তার পরিবার।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটররা ২০১২ সালের ২ সেপ্টেম্বর বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানান। ট্রাইব্যুনাল ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওই দিনই তাকে গ্রেফতার অভিযানে নামে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তার রাজধানীর উত্তরার বাসায় গিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরে জানায়, তিনি ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে গেছেন।
বাচ্চু রাজাকার পলাতক থাকায় এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও হাজির না হওয়ায় গত বছরের ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর ৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে ৬ ধরনের ৮টি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে সাতটিতে দোষী সাব্যস্ত করে গত ২১ জানুয়ারি তার ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয় রায়ে।
ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ে বলা হয়, ১৯৪৭ সালের ৫ মার্চ ফরিদপুরের বড়খাড়দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী আবুল কালাম আযাদ রাজেন্দ্র কলেজে লেখাপড়া করেন। তিনি জামায়াতের তৎকালীন ছাত্রসংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
আদালত বলে, একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে রাজাকার বাহিনী গঠনের আগ পর্যন্ত আযাদ পাকিস্তানি সেনাদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন।
১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল তিনি ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলোর সঙ্গে একত্র হয়ে’ ফরিদপুরে পাকিস্তানি সেনাদের ‘অভ্যর্থনা’ জানান। আযাদ স্থানীয় রাজাকার বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন এবং আলবদর বাহিনীরও প্রধান ছিলেন।
পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে মিলে তিনি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও স্বাধীনতার পক্ষের বাঙালি জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংস নির্যাতন চালান বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উঠে আসে।


















