পে স্কেল নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীরা
- আপডেট সময় : ১০:৩৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 357
কর্মচারীদের আন্দোলন স্তিমিত করতে পে কমিশন গঠন করা হয়েছিল—অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল করিমের এমন বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সংগঠনের সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে ২৮ জানুয়ারি থেকে তিন দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি দাবি আদায় না হলে লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা গেছে—বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল করিম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্তব্য করেন যে, বর্তমান সরকার পে স্কেল বাস্তবায়ন করবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কর্মচারীদের আন্দোলন স্তিমিত রাখতেই পে কমিশন গঠন করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সরকার চাইলে কমিশনের প্রস্তাব গ্রহণ কিংবা বাতিল করতে পারে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
উপদেষ্টার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং দ্রুত তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেল ঘোষণা, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কর্মচারীদের দুর্বিষহ জীবনযাপনের বিষয় তুলে ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার নবম পে কমিশন গঠন করে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সরকারের হাতে রয়েছে। বাজেট পুনর্বিন্যাস করে পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানও করা হয়েছে। এখন কেবল গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা। এই পর্যায়ে এসে এ ধরনের বক্তব্য নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীদের অসহায় অবস্থাকে উপহাস করার শামিল বলে মনে করা হচ্ছে।
কর্মচারী নেতারা বলেন, গত ১১ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী সরকার কর্মচারীদের পে স্কেল থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল। পে স্কেল প্রাপ্তির তীব্র প্রত্যাশার মধ্যেই এমন বক্তব্য ‘তুষের আগুনে ঘি ঢালার’ মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ক্ষুধার কষ্টে জর্জরিত মানুষ রাস্তায় নামলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।
বিবৃতিতে অবিলম্বে ‘অবিবেচনাপ্রসূত, হঠকারী, অগ্রহণযোগ্য ও তামাশামূলক বক্তব্য’ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ করে ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করার জোর দাবি জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়, শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রত্যাশা—তিনি কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন এবং অবহেলিত কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটাবেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্য প্রত্যাহার ও পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ ছাড়া আগামী ৩০ জানুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকেই ১ ফেব্রুয়ারি থেকে গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানানো হয়।


















