ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

নির্বাচনী প্রচারে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 107
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় নেমে পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে এক সময়ের দুই মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। ‘দোষারোপ,’ ‘সমালোচনা’ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেও এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিচ্ছেন। নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকার কারণেই এমনটা ঘটছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগ থাকলে বিএনপি ও জামায়াতের লক্ষ্য থাকতো আওয়ামী লীগ। দুই দলের বক্তব্য থাকতো কাছাকাছি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রেখেছে। নির্বাচন থেকেও দলটিকে দূরে রেখেছে।

মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর নিয়ে নারীদের ‘একটি দল বিভিন্ন ভাবে বিভ্রান্ত করছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও মি. রহমানের সমালোচনায় ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি বলেছেন, “আমরা দেখেছি গত ১৫ বছর ১৬ বছর জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে, এখন এই দেশে বর্তমানে আরেকটি রাজনৈতিক দল তারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে,”।

এছাড়াও তিনি বলেন “নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেব, ওই দেব বলছে, টিকিট দেব বলছে। যেটার মালিক মানুষ না, সেটার (দেওয়ার) কথা যদি সে বলে, তাহলে এক তো শিরক হচ্ছে, সবকিছুর ওপরে আল্লাহর অধিকার। তারা আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তাহলে কেমন ঠকান ঠকাবে বোঝেন এবার”।

যদিও তিনদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেছিলেন দোষারোপের রাজনীতি নয়, মানুষকে ভালো রাখার রাজনীতি করতে হবে। “দোষারোপের রাজনীতি করলে মানুষের পেট ভরবে না,” ভার্চুয়ালি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বলেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান আজকের সমাবেশে “আমি কারো সমালোচনা করতে চাই না” বললেও অনেকটা ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

দলটির জনসভায় তিনি বলেন “ফ্যাসিবাদ এখন যদি নতুন কোনো জামা পরে সামনে আসে, পাঁচ আগস্ট যে পরিণতি হয়েছিল, সেই নতুন জামা পরা ফ্যাসিবাদের একই পরিণতি হবে”।

বিগত তিনটি নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সমাবেশে বলেন “আপনারা কি নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চান? আমরা নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চাই না।”

এছাড়া “চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, পাথর মেরে লোক হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে লোক হত্যা, এগুলো থেকে যারা নিজের কর্মীকে বিরত রাখতে পারবে, আশা করি আগামীর বাংলাদেশ তারা জনগণকে উপহার দিতে পারবে” বলেন তিনি।

‘দোষারোপ,’‘সমালোচনা’ করতে না চেয়েও সেভাবেই প্রচারণা শুরু করলো বিএনপি-জামায়াত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আনোয়ারুল ইসলাম অভি

সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডটকম
ট্যাগস :

নির্বাচনী প্রচারে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত

আপডেট সময় : ১১:৫১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় নেমে পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে এক সময়ের দুই মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। ‘দোষারোপ,’ ‘সমালোচনা’ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেও এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিচ্ছেন। নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকার কারণেই এমনটা ঘটছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগ থাকলে বিএনপি ও জামায়াতের লক্ষ্য থাকতো আওয়ামী লীগ। দুই দলের বক্তব্য থাকতো কাছাকাছি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রেখেছে। নির্বাচন থেকেও দলটিকে দূরে রেখেছে।

মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর নিয়ে নারীদের ‘একটি দল বিভিন্ন ভাবে বিভ্রান্ত করছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও মি. রহমানের সমালোচনায় ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি বলেছেন, “আমরা দেখেছি গত ১৫ বছর ১৬ বছর জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে, এখন এই দেশে বর্তমানে আরেকটি রাজনৈতিক দল তারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে,”।

এছাড়াও তিনি বলেন “নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেব, ওই দেব বলছে, টিকিট দেব বলছে। যেটার মালিক মানুষ না, সেটার (দেওয়ার) কথা যদি সে বলে, তাহলে এক তো শিরক হচ্ছে, সবকিছুর ওপরে আল্লাহর অধিকার। তারা আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তাহলে কেমন ঠকান ঠকাবে বোঝেন এবার”।

যদিও তিনদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেছিলেন দোষারোপের রাজনীতি নয়, মানুষকে ভালো রাখার রাজনীতি করতে হবে। “দোষারোপের রাজনীতি করলে মানুষের পেট ভরবে না,” ভার্চুয়ালি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বলেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান আজকের সমাবেশে “আমি কারো সমালোচনা করতে চাই না” বললেও অনেকটা ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

দলটির জনসভায় তিনি বলেন “ফ্যাসিবাদ এখন যদি নতুন কোনো জামা পরে সামনে আসে, পাঁচ আগস্ট যে পরিণতি হয়েছিল, সেই নতুন জামা পরা ফ্যাসিবাদের একই পরিণতি হবে”।

বিগত তিনটি নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সমাবেশে বলেন “আপনারা কি নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চান? আমরা নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চাই না।”

এছাড়া “চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, পাথর মেরে লোক হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে লোক হত্যা, এগুলো থেকে যারা নিজের কর্মীকে বিরত রাখতে পারবে, আশা করি আগামীর বাংলাদেশ তারা জনগণকে উপহার দিতে পারবে” বলেন তিনি।

‘দোষারোপ,’‘সমালোচনা’ করতে না চেয়েও সেভাবেই প্রচারণা শুরু করলো বিএনপি-জামায়াত।