ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রবাসীদের দাবিতে সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বাঁচাতে বিএনপির উদ্যোগ ৬২টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী ৭২ জন  কাকরদিয়া- তেরাদল- আলিপুর এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু জামায়াত আমির বললেন, গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না, গর্জে উঠব পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করবে স্পেন পৃথিবীতে জালিয়াতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা পুরস্কার ঘোষণা করে কী লাভ হলো? লুটের অস্ত্র অপরাধীদের হাতে, নির্বাচন ঘিরে ‘বাড়তি উদ্বেগ’ পে স্কেল নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীরা যুক্তরাজ্যে ‘অতিদারিদ্র্যে’ রেকর্ডসংখ্যক মানুষ, তালিকায় বাংলাদেশিরাও ভোট দিয়ে ফেলেছেন ৪ লাখ প্রবাসী

ঢাকায় সেপ্টেম্বরেই আ.লীগের ৪০ মিছিল, কীভাবে সম্ভব হলো?

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 124

তেজগাঁওয়ে ৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের মিছিল

অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত ৪০টি ঝটিকা মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ। এ সব মিছিল থেকে আটক করা হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রায় পাঁচ শতাধিক কর্মীকে।

গ্রেপ্তার হওয়া এসব কর্মীর বেশির ভাগই ঢাকার বাইরের। তথ্য বলছে, তাদের প্রায় ৪০ শতাংশ ইতোমধ্যেই জামিন পেয়ে আবারও মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঐক্যে ভাঙন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়েই তারা মাঠে নামছে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন

কার্যক্রম–নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সদর দপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ হলে এবং মামলা সংক্রান্ত অভিযোগপত্র সময়মতো না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে মোহাম্মদপুরের সহকারী কমিশনারসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছে ডিএমপি।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৪০টি ঝটিকা মিছিল থেকে প্রায় পাঁচ শ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডিএমপি মিডিয়া সেলের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমরা কোনো ধরনের ছাড় দেব না। ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারী ও অর্থ সহায়তাকারীসহ অনেককে আমরা গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি।’

তবে অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার অনেকেই ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় মিছিলে যোগ দিচ্ছেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশই ঢাকার বাইরের বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালেবুর রহমান আরও বলেন, ‘যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের ভেতরে অনেকে ঢাকায় থাকেন না। অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে এসে এসব মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন বা ফিরে গেছেন। আবার অনেকে অর্থের বিনিময়ে ঢাকার বাইরে থেকে এসে এসব মিছিলে যোগ দিয়েছেন।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়েই নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা মাঠে সক্রিয় হতে পারছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী যে ঐক্য, সেই ঐক্যটা এখন নেই তাদের মধ্যে। এইটার বিরুদ্ধেও না তারা। কিন্তু ঐক্যটা নেই। এটি অবশ্যই একটি দুর্বলতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন একটি ঐক্য থেকে সবাই সরে যায়, তখন যে যার মতো নিজের স্বার্থের জন্য কাজ করবে।’

উল্লেখ্য, গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এ বছরের ১০ মে রাজনৈতিক দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকায় সেপ্টেম্বরেই আ.লীগের ৪০ মিছিল, কীভাবে সম্ভব হলো?

আপডেট সময় : ০৭:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজধানীতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত ৪০টি ঝটিকা মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ। এ সব মিছিল থেকে আটক করা হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রায় পাঁচ শতাধিক কর্মীকে।

গ্রেপ্তার হওয়া এসব কর্মীর বেশির ভাগই ঢাকার বাইরের। তথ্য বলছে, তাদের প্রায় ৪০ শতাংশ ইতোমধ্যেই জামিন পেয়ে আবারও মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঐক্যে ভাঙন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়েই তারা মাঠে নামছে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন

কার্যক্রম–নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সদর দপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ হলে এবং মামলা সংক্রান্ত অভিযোগপত্র সময়মতো না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে মোহাম্মদপুরের সহকারী কমিশনারসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছে ডিএমপি।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৪০টি ঝটিকা মিছিল থেকে প্রায় পাঁচ শ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডিএমপি মিডিয়া সেলের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমরা কোনো ধরনের ছাড় দেব না। ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারী ও অর্থ সহায়তাকারীসহ অনেককে আমরা গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি।’

তবে অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার অনেকেই ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় মিছিলে যোগ দিচ্ছেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশই ঢাকার বাইরের বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালেবুর রহমান আরও বলেন, ‘যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের ভেতরে অনেকে ঢাকায় থাকেন না। অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে এসে এসব মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন বা ফিরে গেছেন। আবার অনেকে অর্থের বিনিময়ে ঢাকার বাইরে থেকে এসে এসব মিছিলে যোগ দিয়েছেন।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়েই নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা মাঠে সক্রিয় হতে পারছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী যে ঐক্য, সেই ঐক্যটা এখন নেই তাদের মধ্যে। এইটার বিরুদ্ধেও না তারা। কিন্তু ঐক্যটা নেই। এটি অবশ্যই একটি দুর্বলতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন একটি ঐক্য থেকে সবাই সরে যায়, তখন যে যার মতো নিজের স্বার্থের জন্য কাজ করবে।’

উল্লেখ্য, গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এ বছরের ১০ মে রাজনৈতিক দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।