ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

টাওয়ার হ্যামলেটসে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস সার্ভিস উদ্বোধন

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 29

ইয়াং কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস (ওয়াইসিএল) সার্ভিস উদ্বোধন অনুষ্ঠান

অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে জমকালো আয়োজনে উদ্বোধন হলো ইয়াং কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস (ওয়াইসিএল) সার্ভিস। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারী) বিকেল ৫টা থেকে সাতটা পর্যন্ত টাউন হলের গ্রোসার’স উইংয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান ওয়াইসিএল সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

আনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান, ডেপুটি মেয়র ও এডুকেশন, ইয়ুথ অ্যান্ড লাইফলং লার্নিংয়ের কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলার মাইয়ুম তালুকদার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ঐতিহ্যবাহী ভাষার গুরুত্ব‘ নিয়ে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ ড. বেকি উইনস্ট্যানলি। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় পাঁচ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি। এতে ওয়াইসিএল সার্ভিসের লক্ষ্য, কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে নিজের সন্তানদের বাংলা শেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অভিভাবক তাহমিনা খানম জানান, ছোটবেলায় বাংলাদেশে গিয়ে তিনি বাংলা শিখেছিলেন, কিন্তু নিজের সন্তানদের টাওয়ার হ্যামলেটসে সেই সুযোগ করে দিতে পারছিলেন না। এখন তার সন্তানরা বাসায় ছোট ছোট বাংলা শব্দ বলতে পারে, যা তার কাছে বড় আনন্দের বিষয়।

এর পর ভাষা শেখায় অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কাউন্সিলের একজন ডিরেক্টর গুলাম হুসেইন।

মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটস বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক মানুষের বাসস্থান। যেসব শিশু একাধিক ভাষায় দক্ষ, তারা শিক্ষাগতভাবে আরও ভালো করে, আত্মবিশ্বাসী হয় এবং ভবিষ্যতে বেশি সফল হয়। এ কারণেই আমরা প্রায় এক মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ করেছি, যাতে আমাদের শিশুরা শুধু ইংরেজি নয়, নিজেদের কমিউনিটির ভাষা এবং অন্যান্য ভাষা শিখতে পারে।”

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনার সন্তানের ভাষাগত দক্ষতা যত বাড়বে, তার বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি, মননশীলতা এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতিও ততই শক্তিশালী হবে।”

ডেপুটি মেয়র মাইয়ুম তালুকদার বলেন, বহু বছর আগে বাজেট কাটছাঁটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাস আবার চালু হওয়ায় তরুণ তরুণী ও শিশুদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। তিনি বলেন, “আমি নিজেই জর্জ গ্রিনস স্কুলে বাংলা পড়েছি এবং ভালো ফল করেছি। তাই জানি কমিউনিটি ভাষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানুষকে একত্র করে, বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলে এবং আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করে।”

ডেপুটি মেয়রের বক্তব্যের পর প্রদর্শিত হয় বিবিসি‘র `বেনেফিট অব বাইলিঙ্গুয়ালিজম‘ ডকুমেন্টারি, যেখানে বহুভাষিক দক্ষতার উপকারিতা তুলে ধরা হয়।

এরপর শুরু হয় শিশু কিশোরদের পরিবেশনা। আরবি ও বাংলা ছড়া-গান, বাংলা কবিতা, সোমালি গান এবং চাইনিজ লায়ন ডান্সে টাউন হল প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ভাষার শিশুদের সম্মিলিত পরিবেশনায় বহুসংস্কৃতির আবহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

চাইনিজ শিক্ষক জিয়াংকান ইয়াং বলেন, “যখন শিশুরা চাইনিজ ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করে, তখন তা শুনে এক ভিন্ন রকম আনন্দ তৈরি হয়।”

ছয় বছরের শিক্ষার্থী মাইমুনা জানায়, সে এখন অ, আ পড়তে পারে,যা তার কাছে খুবই রোমাঞ্চকর।

উল্লেখযোগ্য, ওয়াইসিএল সার্ভিসের আওতায় বর্তমানে বারার আটটি কেন্দ্রে বাংলা, আরবি, ক্যান্টনিজ, ম্যান্ডারিন ও সোমালি – এই পাঁচটি ভাষায় সপ্তাহে মোট ২২টি ক্লাস চলছে এবং প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। স্কুল সময়ের বাইরে এবং সপ্তাহান্তে পরিচালিত এসব ক্লাস শিশুদের শুধু ভাষা শেখার সুযোগই দিচ্ছে না, বরং তাদের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছে। তাছাড়া কাউন্সিল ভবিষ্যতে আরও বেশি স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে। ২০২৬ সালের মে মাস থেকে বাংলা ও অন্যান্য কমিউনিটি ভাষায় জিসিএসই এবং এ-লেভেল পর্যায়ের পাঠদান চালুর প্রস্তুতিও চলছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। প্রাইমারি শেষ করা শিক্ষার্থীদের বিশেষ সার্টিফিকেট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা ভাষাশিক্ষা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত হয়।

এই সার্ভিস টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাসকারী, এই বারার স্কুলে অধ্যয়নরত এবং যাদের বাবা মা বা অভিভাবক টাওয়ার হ্যামলেটসে কাজ করেন, তাদের সবার জন্যই উন্মুক্ত। ফলে বহু পরিবার সহজে সুবিধা নিতে পারছে এবং শিশুরা নিজেদের মাতৃভাষা ও কমিউনিটি ভাষার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আনোয়ারুল ইসলাম অভি

সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডটকম

টাওয়ার হ্যামলেটসে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস সার্ভিস উদ্বোধন

আপডেট সময় : ০৯:২৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে জমকালো আয়োজনে উদ্বোধন হলো ইয়াং কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস (ওয়াইসিএল) সার্ভিস। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারী) বিকেল ৫টা থেকে সাতটা পর্যন্ত টাউন হলের গ্রোসার’স উইংয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান ওয়াইসিএল সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

আনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান, ডেপুটি মেয়র ও এডুকেশন, ইয়ুথ অ্যান্ড লাইফলং লার্নিংয়ের কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলার মাইয়ুম তালুকদার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ঐতিহ্যবাহী ভাষার গুরুত্ব‘ নিয়ে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ ড. বেকি উইনস্ট্যানলি। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় পাঁচ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি। এতে ওয়াইসিএল সার্ভিসের লক্ষ্য, কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে নিজের সন্তানদের বাংলা শেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অভিভাবক তাহমিনা খানম জানান, ছোটবেলায় বাংলাদেশে গিয়ে তিনি বাংলা শিখেছিলেন, কিন্তু নিজের সন্তানদের টাওয়ার হ্যামলেটসে সেই সুযোগ করে দিতে পারছিলেন না। এখন তার সন্তানরা বাসায় ছোট ছোট বাংলা শব্দ বলতে পারে, যা তার কাছে বড় আনন্দের বিষয়।

এর পর ভাষা শেখায় অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কাউন্সিলের একজন ডিরেক্টর গুলাম হুসেইন।

মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটস বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক মানুষের বাসস্থান। যেসব শিশু একাধিক ভাষায় দক্ষ, তারা শিক্ষাগতভাবে আরও ভালো করে, আত্মবিশ্বাসী হয় এবং ভবিষ্যতে বেশি সফল হয়। এ কারণেই আমরা প্রায় এক মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ করেছি, যাতে আমাদের শিশুরা শুধু ইংরেজি নয়, নিজেদের কমিউনিটির ভাষা এবং অন্যান্য ভাষা শিখতে পারে।”

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনার সন্তানের ভাষাগত দক্ষতা যত বাড়বে, তার বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি, মননশীলতা এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতিও ততই শক্তিশালী হবে।”

ডেপুটি মেয়র মাইয়ুম তালুকদার বলেন, বহু বছর আগে বাজেট কাটছাঁটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাস আবার চালু হওয়ায় তরুণ তরুণী ও শিশুদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। তিনি বলেন, “আমি নিজেই জর্জ গ্রিনস স্কুলে বাংলা পড়েছি এবং ভালো ফল করেছি। তাই জানি কমিউনিটি ভাষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানুষকে একত্র করে, বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলে এবং আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করে।”

ডেপুটি মেয়রের বক্তব্যের পর প্রদর্শিত হয় বিবিসি‘র `বেনেফিট অব বাইলিঙ্গুয়ালিজম‘ ডকুমেন্টারি, যেখানে বহুভাষিক দক্ষতার উপকারিতা তুলে ধরা হয়।

এরপর শুরু হয় শিশু কিশোরদের পরিবেশনা। আরবি ও বাংলা ছড়া-গান, বাংলা কবিতা, সোমালি গান এবং চাইনিজ লায়ন ডান্সে টাউন হল প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ভাষার শিশুদের সম্মিলিত পরিবেশনায় বহুসংস্কৃতির আবহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

চাইনিজ শিক্ষক জিয়াংকান ইয়াং বলেন, “যখন শিশুরা চাইনিজ ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করে, তখন তা শুনে এক ভিন্ন রকম আনন্দ তৈরি হয়।”

ছয় বছরের শিক্ষার্থী মাইমুনা জানায়, সে এখন অ, আ পড়তে পারে,যা তার কাছে খুবই রোমাঞ্চকর।

উল্লেখযোগ্য, ওয়াইসিএল সার্ভিসের আওতায় বর্তমানে বারার আটটি কেন্দ্রে বাংলা, আরবি, ক্যান্টনিজ, ম্যান্ডারিন ও সোমালি – এই পাঁচটি ভাষায় সপ্তাহে মোট ২২টি ক্লাস চলছে এবং প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। স্কুল সময়ের বাইরে এবং সপ্তাহান্তে পরিচালিত এসব ক্লাস শিশুদের শুধু ভাষা শেখার সুযোগই দিচ্ছে না, বরং তাদের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছে। তাছাড়া কাউন্সিল ভবিষ্যতে আরও বেশি স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে। ২০২৬ সালের মে মাস থেকে বাংলা ও অন্যান্য কমিউনিটি ভাষায় জিসিএসই এবং এ-লেভেল পর্যায়ের পাঠদান চালুর প্রস্তুতিও চলছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। প্রাইমারি শেষ করা শিক্ষার্থীদের বিশেষ সার্টিফিকেট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা ভাষাশিক্ষা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত হয়।

এই সার্ভিস টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাসকারী, এই বারার স্কুলে অধ্যয়নরত এবং যাদের বাবা মা বা অভিভাবক টাওয়ার হ্যামলেটসে কাজ করেন, তাদের সবার জন্যই উন্মুক্ত। ফলে বহু পরিবার সহজে সুবিধা নিতে পারছে এবং শিশুরা নিজেদের মাতৃভাষা ও কমিউনিটি ভাষার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পাচ্ছে।