জামায়াত আমিরের সম্পদ দেড় কোটি টাকা, কৃষিখাত থেকে আয় ৩ লাখ
- আপডেট সময় : ১০:০৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 82
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে একসময় ৩৪টি মামলা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব মামলার বড় অংশ থেকেই তিনি রেহাই পেয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় দাখিল করা হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
টানা তৃতীয়বারের মতো জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হওয়া শফিকুর রহমান সোমবার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তার জন্ম মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়।
তিনি ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছিলেন। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল থাকায় তখন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ ছিল না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রতীকসহ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহাল হয়। ফলে এবারের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থীরা ভোটের মাঠে রয়েছেন।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামায় প্রার্থীর ১০ ধরনের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। এসব হলফনামা ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রমাণিত হলে ভোটের পরেও সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিধান রয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের বিপরীতে আড়াই সহস্রাধিক মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক দলের দুই সহস্রাধিক নেতা রয়েছেন, আর বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২৭৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বাছাই, আপিল ও নিষ্পত্তি শেষে আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে। পরদিন রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেবেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, একই দিনে গণভোটও হওয়ার কথা রয়েছে।
আয় ও আয়করের তথ্য
হলফনামায় দেওয়া আয়কর বিবরণী অনুযায়ী, জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ১ কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।
২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে তার মোট আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ আয় থেকে তিনি ৩০ হাজার টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
কৃষিখাত থেকে তার আয় ৩ লাখ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয় ৬০ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ২১৭ শতক কৃষিজমি, যার অর্জনকালীন মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এছাড়া ১৩ শতক অকৃষি জমির অর্জনকালীন মূল্য ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩৪ টাকা।
শফিকুর রহমানের মালিকানায় রয়েছে ১১ দশমিক ৭৭ শতক জমির ওপর নির্মিত একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য ২৭ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৪ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার হাতে নগদ রয়েছে ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৭ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৪ লাখ ৯০ হাজার ২৬৩ টাকা।
বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এবং তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার মিলিয়ে তার বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকা।
এ ছাড়া তার রয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, যার অর্জনকালীন মূল্য ১ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ২ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ১ কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা।
সন্তানের সম্পদের বিবরণ
হলফনামায় তার তিন সন্তানের আয়ের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। কন্যা সালওয়া সাফীর সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা।
অন্য কন্যা সাবরীন রাদীর সম্পদের পরিমাণ ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ১৭৯ টাকা। তিনি ২৫ হাজার ১৭৯ টাকা আয়ের বিপরীতে ৩ হাজার ৭৯৯ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
ছেলে রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহ গত অর্থবছরে আয় করেছেন ৬৬ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং তার সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।
মামলা থেকে রেহাই
হলফনামায় শফিকুর রহমান তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৩৪টি মামলার তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে দুটি ফৌজদারি মামলা হাইকোর্টে স্থগিত রয়েছে।
এ ছাড়া ২০০৮, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৭ ও ২০২২ সালে দায়ের হওয়া ৩২টি মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৭ ও ২০২১ সালে সিলেটের দুটি মামলায় তিনি অব্যাহতি পান।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রত্যাহার, অব্যাহতি ও খালাস পাওয়া মামলার সংখ্যা ৩০ বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
হলফনামার অন্যান্য তথ্য
৬৭ বছর বয়সী শফিকুর রহমানের জন্ম মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। তার বাবার নাম আবরু মিয়া এবং মায়ের নাম খাতিবুন্নেছা।
হলফনামায় তিনি তার পেশা চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রী আমেনা বেগম গৃহিণী এবং তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ছিলেন।
তার স্থায়ী ঠিকানা সিলেট শহরে হলেও বর্তমানে তিনি মিরপুর বড়বাগ এলাকায় বসবাস করছেন।
জামায়াতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শফিকুর রহমানের জন্ম ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর। তিনি ১৯৭৪ সালে কুলাউড়ার বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৬ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ১৯৮৩ সালে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা স্কুল জীবনেই। ১৯৭৩ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগে যোগ দেন। এরপর ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যুক্ত হন। ছাত্রশিবিরের সিলেট মেডিকেল কলেজ শাখা ও সিলেট শহর শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৮৪ সালে মূল দল জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।



















