ঘন কুয়াশায় ঢাকায় নামতে না পেরে ফ্লাইট গেল কলকাতা, ব্যাংক
- আপডেট সময় : ০৪:১০:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 86
ঘন কুয়াশার কারণে অবতরণে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এইচএসআইএ) থেকে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নয়টি ফ্লাইটকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠাতে হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বার্তায় জানিয়েছে, ডাইভার্ট করা ফ্লাইটগুলোর মধ্যে চারটি চট্টগ্রামে, চারটি ভারতের কলকাতায় এবং একটি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবতরণ করে।
পরবর্তীতে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা ও কম দৃশ্যমানতার কারণে বারবার ফ্লাইট ডাইভার্ট হওয়ার পেছনে ঢাকার বিমানবন্দরে ক্যাটাগরি-২ ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস) না থাকাকে একটি প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ব্যবহৃত ক্যাটাগরি-১ আইএলএসকে ক্যাটাগরি-২-এ উন্নীত করা গেলে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব। তবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ক্যাব) এখনো এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি।
আইএলএস একটি অত্যন্ত নির্ভুল রানওয়ে অ্যাপ্রোচ সহায়ক ব্যবস্থা, যা রেডিও সিগন্যাল ও শক্তিশালী আলোক ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘন কুয়াশার মধ্যেও পাইলটদের নিরাপদ অবতরণে সহায়তা করে।
এই ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় কম দৃশ্যমানতার সময়ে প্রায়ই ফ্লাইটগুলোকে সিলেট, চট্টগ্রামসহ ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করতে হয়। এতে ফ্লাইট সূচিতে বিলম্ব ঘটে, যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার, বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ ও পার্কিং ফিসহ নানা খরচের কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর আর্থিক ক্ষতি হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন জ্যেষ্ঠ পাইলট আজ দ্য ডেইলি স্টার-কে জানান, একটি ফ্লাইট ডাইভার্ট করে পরে ঢাকায় ফিরিয়ে আনতে দূরত্ব অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত জ্বালানি প্রয়োজন হয়।
বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট সেফটি প্রধানরা বলেন, ঢাকার বিমানবন্দরের জন্য আসলে ক্যাটাগরি-৩ আইএলএস প্রয়োজন, যা শূন্য দৃশ্যমানতাতেও বিমান অবতরণে সক্ষম। তারা উল্লেখ করেন, কলকাতা বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে ক্যাটাগরি-২ আইএলএস কার্যকর রয়েছে।
পাইলটদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য ন্যূনতম ৮০০ মিটার দৃশ্যমানতা প্রয়োজন।
আইএলএস উন্নীত করতে হলে অত্যন্ত নির্ভুল রেডিও সিগন্যালভিত্তিক নেভিগেশন সহায়ক ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে, যা পাইলটদের উল্লম্ব ও অনুভূমিক উভয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।



















