ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী–সন্তানের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ১১:০০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 104
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে কারাবন্দী। এ অবস্থায় তাঁর স্ত্রী ও শিশুসন্তানের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিহতদের ছবি এবং কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতার একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা (২২)-এর ঝুলন্ত মরদেহ এবং তাঁদের ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসানের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জুয়েল বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

স্বজন ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, কানিজ সুবর্ণা প্রথমে তাঁর শিশুসন্তানকে হত্যা করে পরে নিজে আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, শনিবার কানিজ সুবর্ণার বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

স্ত্রী ও সন্তানের শেষ মুখ দেখার জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে যশোরে প্যারোলের আবেদন করেছিল তার পরিবার। কিন্তু সাদ্দামকে প্যারোল দেওয়া হয়নি; সাদ্দামের ভাগ্যে স্ত্রী ও কন্যার জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি। এরপর স্ত্রী ও শিশু কন্যার লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয় যশোর কারাগারের উদ্দেশে। সেখানেই সাদ্দামের সঙ্গে তার মৃত স্ত্রী ও শিশু কন্যার লাশের দেখা হয়। এরপর সন্ধ্যা সোয়া আটটার দিকে মরদেহ নিয়ে পরিবার বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করার কথা রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক বছর আগে কানিজ সুবর্ণা ও জুয়েল হাসানের বিয়ে হয়। সন্তানের জন্মের আগ থেকেই জুয়েল কারাগারে রয়েছেন।

নিহত কানিজ সুবর্ণার ভাই মো. শুভ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দী থাকায় তাঁর বোন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং হতাশায় ভুগছিলেন। তবে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেটাকে আমার দুলাভাই একবারও কোলে নিতে পারেনি। শেষবারের মতো যেন একটু দেখতে পারে, সে কারণেই আমরা লাশ সেখানে নিয়ে গিয়েছিলাম।’

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে জুয়েল আত্মগোপনে ছিলেন। গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আনোয়ারুল ইসলাম অভি

সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডটকম
ট্যাগস :

কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী–সন্তানের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১১:০০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে কারাবন্দী। এ অবস্থায় তাঁর স্ত্রী ও শিশুসন্তানের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিহতদের ছবি এবং কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতার একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা (২২)-এর ঝুলন্ত মরদেহ এবং তাঁদের ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসানের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জুয়েল বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

স্বজন ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, কানিজ সুবর্ণা প্রথমে তাঁর শিশুসন্তানকে হত্যা করে পরে নিজে আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, শনিবার কানিজ সুবর্ণার বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

স্ত্রী ও সন্তানের শেষ মুখ দেখার জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে যশোরে প্যারোলের আবেদন করেছিল তার পরিবার। কিন্তু সাদ্দামকে প্যারোল দেওয়া হয়নি; সাদ্দামের ভাগ্যে স্ত্রী ও কন্যার জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি। এরপর স্ত্রী ও শিশু কন্যার লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয় যশোর কারাগারের উদ্দেশে। সেখানেই সাদ্দামের সঙ্গে তার মৃত স্ত্রী ও শিশু কন্যার লাশের দেখা হয়। এরপর সন্ধ্যা সোয়া আটটার দিকে মরদেহ নিয়ে পরিবার বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করার কথা রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক বছর আগে কানিজ সুবর্ণা ও জুয়েল হাসানের বিয়ে হয়। সন্তানের জন্মের আগ থেকেই জুয়েল কারাগারে রয়েছেন।

নিহত কানিজ সুবর্ণার ভাই মো. শুভ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দী থাকায় তাঁর বোন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং হতাশায় ভুগছিলেন। তবে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেটাকে আমার দুলাভাই একবারও কোলে নিতে পারেনি। শেষবারের মতো যেন একটু দেখতে পারে, সে কারণেই আমরা লাশ সেখানে নিয়ে গিয়েছিলাম।’

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে জুয়েল আত্মগোপনে ছিলেন। গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন।