ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

‘একটা দল ভোট দখলের চেষ্টা করছে’, সতর্ক থাকতে বললেন তারেক

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ১২:২৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 80

বিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে নির্বাচনি জনসভার মঞ্চে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সংশ্লিষ্ট দলটি বিভিন্ন কৌশলে ভোট দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, “আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হচ্ছে, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার নির্বাচন, জনগণের শাসন কায়েমের নির্বাচন, দেশ গড়ার নির্বাচন। তাই ফজরের নামাজ নয়; তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। দলীয় নেতাকর্মীকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। একটা দল নানাভাবে ভোট দখলের চেষ্টা করছে।”

ওই দলটির প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, “কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি। এবার একে দেখেন। ৫০ বছর আগেই তাদেরকে দেখেছি। ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধে তারা স্বাধীনতার বিরোধীপক্ষে ছিলেন। যাদের ভূমিকার জন্য এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাই শহীদ হয়েছেন। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনের সম্মানহানি হয়েছে। তাদের তো বাংলাদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাসুল (সা.) ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করবে।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকাশ নম্বর, এনআইডি সংগ্রহ করছে। বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিচ্ছে। নির্বাচনের আগেই অসৎ হলে তারা কিভাবে ‘সৎ মানুষের শাসন’ কায়েম করবে?”

তিনি বলেন, “কেউ যায় দিল্লি, কেউ যায় পিন্ডি। দিল্লিও নয়, পিন্ডিও নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষই হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সব ক্ষমতার উৎস। সে জন্যই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করি।”

বিএনপি দেশের প্রতিটি মানুষকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে চায়—এমন মন্তব্য করে তারেক রহমান জানান, এ সময় তিনি দুটি কার্ড প্রদর্শন করেন এবং বলেন, “ক্ষমতায় গেলে চা বাগানের নারী শ্রমিক এবং গ্রামগঞ্জের নারীদের জন্য ফ্যামেলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে।”

জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশের মঞ্চে তারেক রহমান উপস্থিত হন বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মঞ্চেই তিনি মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। এরপর প্রায় ২৮ মিনিট ধরে বক্তব্য দেন।

তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগেই সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মঞ্চে উঠে বিএনপি চেয়ারম্যান হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার সিফা। তিনি জেলার চারটি আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

সভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম ইসলাম তরফদার তনু। বক্তব্য দেন বিএনপি প্রার্থী ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, ড. রেজা কিবরিয়া, জি কে গউছ, এস এম ফয়সল এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আহমদ আলী মুকিম।

জনসভায় তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে এবং বিদেশগামী যুবকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল দেখেই বোঝা যায়, আপনাদের এলাকার স্কুল- কলেজ ও হাসপাতালের কী অবস্থা।”

বিভিন্ন আসনের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে উপস্থিত হন। তারা ধানের শীষ, বিএনপি, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে স্লোগান দেন। অনেকেই মাথায় ধানের শীষের ছবি সংবলিত টুপি ও কপালে দলীয় পতাকা বেঁধে সমাবেশে অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আনোয়ারুল ইসলাম অভি

সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডটকম
ট্যাগস :

‘একটা দল ভোট দখলের চেষ্টা করছে’, সতর্ক থাকতে বললেন তারেক

আপডেট সময় : ১২:২৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সংশ্লিষ্ট দলটি বিভিন্ন কৌশলে ভোট দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, “আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হচ্ছে, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার নির্বাচন, জনগণের শাসন কায়েমের নির্বাচন, দেশ গড়ার নির্বাচন। তাই ফজরের নামাজ নয়; তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। দলীয় নেতাকর্মীকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। একটা দল নানাভাবে ভোট দখলের চেষ্টা করছে।”

ওই দলটির প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, “কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি। এবার একে দেখেন। ৫০ বছর আগেই তাদেরকে দেখেছি। ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধে তারা স্বাধীনতার বিরোধীপক্ষে ছিলেন। যাদের ভূমিকার জন্য এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাই শহীদ হয়েছেন। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনের সম্মানহানি হয়েছে। তাদের তো বাংলাদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাসুল (সা.) ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করবে।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকাশ নম্বর, এনআইডি সংগ্রহ করছে। বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিচ্ছে। নির্বাচনের আগেই অসৎ হলে তারা কিভাবে ‘সৎ মানুষের শাসন’ কায়েম করবে?”

তিনি বলেন, “কেউ যায় দিল্লি, কেউ যায় পিন্ডি। দিল্লিও নয়, পিন্ডিও নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষই হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সব ক্ষমতার উৎস। সে জন্যই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করি।”

বিএনপি দেশের প্রতিটি মানুষকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে চায়—এমন মন্তব্য করে তারেক রহমান জানান, এ সময় তিনি দুটি কার্ড প্রদর্শন করেন এবং বলেন, “ক্ষমতায় গেলে চা বাগানের নারী শ্রমিক এবং গ্রামগঞ্জের নারীদের জন্য ফ্যামেলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে।”

জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশের মঞ্চে তারেক রহমান উপস্থিত হন বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মঞ্চেই তিনি মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। এরপর প্রায় ২৮ মিনিট ধরে বক্তব্য দেন।

তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগেই সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মঞ্চে উঠে বিএনপি চেয়ারম্যান হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার সিফা। তিনি জেলার চারটি আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

সভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম ইসলাম তরফদার তনু। বক্তব্য দেন বিএনপি প্রার্থী ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, ড. রেজা কিবরিয়া, জি কে গউছ, এস এম ফয়সল এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আহমদ আলী মুকিম।

জনসভায় তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে এবং বিদেশগামী যুবকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল দেখেই বোঝা যায়, আপনাদের এলাকার স্কুল- কলেজ ও হাসপাতালের কী অবস্থা।”

বিভিন্ন আসনের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে উপস্থিত হন। তারা ধানের শীষ, বিএনপি, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে স্লোগান দেন। অনেকেই মাথায় ধানের শীষের ছবি সংবলিত টুপি ও কপালে দলীয় পতাকা বেঁধে সমাবেশে অংশ নেন।