ঢাকা ১ বৈশাখ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ১ বৈশাখ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ
সিলেটের মেয়ে কানাডার এমপি হলেন ট্রাভেল পাস নিতে গিয়ে না ফেরার দেশে প্রবাসী অরুণ বিতর্কের মধ্যেও ‘মঙ্গল’ থাকছে—বর্ষবরণের নানা আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের 'একাত্তরের গল্প' অনুষ্ঠান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কেন ব্যর্থ হল? এরপর কী? হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের পাশাপাশি ইরানে আবার হামলার চিন্তা ট্রাম্পের লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সদস্যদের পিতার ইন্তেকালে ক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক কুষ্টিয়ায় দরবারে হামলা চালিয়ে পীরকে কুপিয়ে হত্যা, কী হয়েছিল সেখানে? ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ : খারাপ খবর! ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি: ভ্যান্স রোমে সুরঙ্গ খুঁড়ে বাংলাদেশি দোকানে চুরি 'আওয়ামী লীগ বাঁচাতে' শীর্ষ নেতাদের দেশে ফিরতে বলছে তৃণমূল কুয়েতে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য গোপন করছে যুক্তরাষ্ট্র? মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানের বহর পাঠাল পাকিস্তান, কেন? হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে ১৫ জাহাজ যেতে দেবে ইরান, ট্রাম্পের ক্ষোভ শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, অধ্যাপকসহ ৩০জনেরই সাজা যুদ্ধবিরতির একদিন পরও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ২০ বছরে বিএনপির বিরুদ্ধে দেড় লাখ মামলা, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ২০ মাসেই ‘লক্ষাধিক’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনা, কোন পক্ষ কী বলছে বাংলাদেশি ভিসা প্রক্রিয়ায় ১৩ দেশের কড়া বার্তা: দালাল এড়িয়ে চলুন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও মেয়র নির্বাচন ৭ মে দড়ি ধরে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মারা গেছেন বড়লেখা ফ্রেন্ডস ক্লাব ইউকে-র এজিএম ও দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা, নারী আটক : ‘নিকৃষ্ট আচরণ নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা’ বললো জামায়াত লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশি তরুণের মরদেহ উদ্ধার ১৭ মাস কোথায় ছিলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন? গ্রেপ্তারের খবর দিল ডিবি সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের কমিটি পুনর্গঠন, সভাপতি নজরুল-সম্পাদক মজিবুর আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ধসে পড়ল ভবন মার্কিন ক্রু উদ্ধারের প্রশংসায় ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: না মানলে "জাহান্নাম" নেমে আসবে, ইরানের প্রত্যাখ্যান

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কেন ব্যর্থ হল? এরপর কী?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কেন ব্যর্থ হল? এরপর কী?

প্রায় ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ বৈঠক। গত ৫০ বছরের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা।

কিন্তু রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ঘোষণা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, আলোচনা ভেস্তে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি ‘খারাপ খবর’।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ও ট্রাম্পের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র খুবই সরল এবং চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন দেখার বিষয় ইরান সেটি গ্রহণ করে কিনা।

ভ্যান্স আরও জানান, ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই আলোচনায় তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন।

তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে আগেই কিছুটা উদাসীন মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন।

মায়ামিতে একটি কুস্তি প্রতিযোগিতায় (ইউএফসি) যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তি হল কিনা, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে আলোচনায় ব্যস্ত থাকার সময়টিতে ট্রাম্প কুস্তি দেখে কাটিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।


মতবিরোধের মূল কারণ

আলোচনায় মতবিরোধ দেখা দেয় মূলত দুটি ইস্যুতে—হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর।

এই দুটি বিষয়ে মতানৈক্যই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।


একে অপরকে দোষারোপ

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স।

তিনি বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি’ প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ইরান শর্ত মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে এবং এমন কোনো সক্ষমতা অর্জন না করে যা দ্রুত তাদের পারমাণবিক শক্তিধর করে তুলতে পারে—এখন না, ভবিষ্যতেও না।

অন্যদিকে, ইরান আলোচনা ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

তাসনিম নিউজ জানায়, তেহরানের মতে এখন ‘বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে’।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রকেই ঠিক করতে হবে তারা ইরানের আস্থা অর্জন করতে চায় কি না।


ইরানের অবস্থান ও বক্তব্য

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ‘যৌক্তিক প্রস্তাব’ দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তা গ্রহণ করেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কালিবাফ লিখেছেন,
“আমাদের সদিচ্ছা ছিল, কিন্তু আগের দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে আমাদের প্রতিপক্ষের ওপর বিশ্বাস নেই।
আর অপর পক্ষও (যুক্তরাষ্ট্র) এই দফা আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, কয়েক সপ্তাহের সংঘাত ও গভীর অবিশ্বাসের পর এক দফা আলোচনায় সব সমাধান হবে—এমন ধারণা অবাস্তব।

তিনি জানান, কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হলেও দুই-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে।


‘কূটনীতি কখনও শেষ হয় না’

বাঘাই বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা, আস্থা ও ইরানের অধিকার স্বীকৃতির ওপর।

শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা শেষ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
“কূটনীতি কখনও শেষ হয় না।”

তিনি আরও জানান, পাকিস্তানসহ বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।


আঞ্চলিক ইস্যু ও জটিলতা

ইরান আগে থেকেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, জব্দকৃত অর্থ ফেরত, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে আসছিল।

বিশেষ করে ইসরায়েলের লেবাননে হামলা বন্ধের প্রশ্নে ইরান অনড় ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়—লেবানন ইস্যু আলোচনার অংশ নয়।


আরও আলোচনার আহ্বান

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার উভয়পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রেখে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সংলাপ চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংও পুনরায় আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।


এরপর কী? অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ

চুক্তি না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এখন প্রশ্ন—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আবার আলোচনায় বসবে, নাকি পরিস্থিতি আবার সংঘাতে গড়াবে?

যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ কী—এসব প্রশ্ন এখনো অনিশ্চিত।

তবে কূটনীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি—এমন ইঙ্গিত মিললেও পরবর্তী আলোচনার সময় ও স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি।