পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বিমান হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
হরমুজে অবরোধ ও সামরিক পরিকল্পনা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, রোববার (১২ এপ্রিল) ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে পুনরায় বিমান হামলার বিষয়টিও তাঁর বিবেচনায় রয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করা হবে।
জাহাজ চলাচল ও বাজারে প্রভাব
হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য দেশে যাওয়া-আসা করা জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ‘বাধা দেবে না’ বলে জানানো হয়েছে।
তবে এই অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া
ইরানি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কাছে তেহরান ‘নতি স্বীকার’ করবে না।
এছাড়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই নৌপথের কাছাকাছি আসা যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।
হোয়াইট হাউজের অবস্থান
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন নিয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, সব বিকল্প পথ খোলা রাখা হয়েছে।
মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, “প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়ে ইরানের চাঁদাবাজি বন্ধ করেছেন। একইসঙ্গে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সব বিকল্প পথও খোলা রেখেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ওয়াল স্ট্রিটকে যারা বলেছেন প্রেসিডেন্ট এরপর কী করবেন তারা স্রেফ অনুমান করে বলেছেন।”
ট্রাম্পের সরাসরি বার্তা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইউএস নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা ছেড়ে যেতে চেষ্টা করা ‘যে কোনো এবং সব জাহাজকে’ অবরোধ করবে।”
আরেক পোস্টে তিনি বলেন, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে,
“কারণ ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক।”
‘তারা ফিরুক বা না ফিরুক, সমস্যা নেই’
মার্কিন সামরিক ঘাঁটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন,
“তারা ফিরে আসুক বা না আসুক, আমার কিছু যায় আসে না। যদি তারা ফিরে না আসে, তাহলেও আমার কোনো সমস্যা নেই (আই এম ফাইন)।”
তিনি আরও বলেন, “ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।”
জ্বালানি বাজারে চাপ
শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং অবরোধের ঘোষণার পর জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৭.৫ শতাংশ বেড়ে ১০২.৩৭ ডলারে পৌঁছেছে।
এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের পাল্টা বক্তব্য
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, আলোচনা চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ, বারবার লক্ষ্য পরিবর্তন ও অবরোধ’ অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
স্পিকার গালিবফ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন,
“বর্তমান তেলের দাম দেখে আনন্দ করুন। শিগগিরই চার বা পাঁচ ডলারে গ্যাস পাওয়ার দিনের কথা মনে পড়বে।”
ইন্টারনেট সংকট ও নাগরিক ভোগান্তি
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন।
সরকার সাইবার হামলার আশঙ্কা দেখিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
বর্তমানে দুই ধরনের ব্যবহারকারী দেখা যাচ্ছে—
- অনুমোদিত ব্যবহারকারী (সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থী)
- সাধারণ ব্যবহারকারী, যারা স্টারলিংকের মতো ব্যয়বহুল স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন
স্টারলিংক ইন্টারনেটের দাম প্রতি গিগাবাইট প্রায় ৬ ডলার, যা ইরানের সাধারণ নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
এই সেবা ব্যবহারের জন্য দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলেও জানা গেছে।
-
ট্রাভেল পাস নিতে গিয়ে না ফেরার দেশে প্রবাসী অরুণ
-
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কেন ব্যর্থ হল? এরপর কী?
-
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ : খারাপ খবর! ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি: ভ্যান্স
-
রোমে সুরঙ্গ খুঁড়ে বাংলাদেশি দোকানে চুরি
-
কুয়েতে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য গোপন করছে যুক্তরাষ্ট্র?