গত এক মাস ধরে ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক গুপ্তহত্যার চেষ্টা চললেও তারা ভীত নন। রাজধানী তেহরান-এর রাস্তায় প্রকাশ্যে হেঁটে বেড়াতে দেখা গেছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। জনসমর্থন ও নিয়ন্ত্রণের বার্তা দিতেই তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) Reuters-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে কয়েকশ মানুষের সঙ্গে নেতাদের দেখা গেছে।
জনতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়—
- সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেলফি তুলছেন
- হাত মেলাচ্ছেন
- সরাসরি কথা বলছেন
সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি
তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি।
সমর্থন ও প্রতিবাদ
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে দেখা যায়—
- কেউ কেউ নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন
- অনেকে বোমা হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন
নিয়মিত সমাবেশ
প্রতিদিন রাতে তেহরানের বিভিন্ন চত্বরে সমাবেশের ডাক দেওয়া হচ্ছে।
এতে অংশ নিচ্ছেন—
- সরকারপন্থী সমর্থক
- সরকারি কর্মচারী
- শিক্ষার্থী
- সাধারণ জনগণ
বিশ্লেষকদের মতামত
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক DAWN-এর বিশ্লেষক ওমিদ মেমারিয়ান বলেন:
‘তীব্র চাপের মুখে থেকেও সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এ কৌশল নিয়েছে ইরানের নেতারা।’
‘মানবঢাল’ তত্ত্ব
নিউইয়র্কভিত্তিক Center for Human Rights in Iran-এর প্রধান হাদি ঘায়েমি ভিন্ন মত দেন।
তিনি বলেন:
‘বিশাল জনসমুদ্রের মাঝে থাকলে তাদের ওপর হামলা চালানো কঠিন হবে। কারণ এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে এবং বিশ্বজুড়ে ইরানের প্রতি সহানুভূতি তৈরি হবে।’
সাধারণ মানুষের আতঙ্ক
প্রতিবেদনে বলা হয়—
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত
- যুদ্ধ চলাকালে কয়েকজন বন্দির ফাঁসি কার্যকর
এসব কারণে অনেক মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না