ঢাকা ৫ বৈশাখ ১৪৩৩, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ৫ বৈশাখ ১৪৩৩, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ
ইসরায়েল ও লেবাননের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি: ‘ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি’ কী হবে? যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে বাংলাদেশিরা যা করছে : নাস্তিকতার ভান, সমকামী সাজছেন / বিবিসি’র অনুসন্ধান জিয়ার হাতে ধানের শীষ তুলে দেন ভাসানী, তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে মাঠ গরম করছে কারা? তেল রপ্তানি ছাড়াই দুই মাস কাটিয়ে দিতে পারবে ইরান তুতসি গণহত্যা নিয়ে ইউনেসকোর রাউন্ড টেবিল আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজারের বেশি সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র স্পেনে বাংলাদেশিসহ নথিহীন ৫ লাখ অভিবাসীর বৈধ হওয়ার সুযোগ মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ইরান ছাড়তে পারছে না তেলের ট্যাংকার ইরান যুদ্ধ বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে? সিলেটের মেয়ে কানাডার এমপি হলেন ট্রাভেল পাস নিতে গিয়ে না ফেরার দেশে প্রবাসী অরুণ বিতর্কের মধ্যেও ‘মঙ্গল’ থাকছে—বর্ষবরণের নানা আয়োজনে মেয়র লুৎফুর রহমান ও এসপায়ার পার্টির নির্বাচনী ক্যাম্পেইন উদ্বোধন স্বাধীনতা দিবসে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের 'একাত্তরের গল্প' অনুষ্ঠান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কেন ব্যর্থ হল? এরপর কী? হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের পাশাপাশি ইরানে আবার হামলার চিন্তা ট্রাম্পের লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সদস্যের পিতার ইন্তেকালে ক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক কুষ্টিয়ায় দরবারে হামলা চালিয়ে পীরকে কুপিয়ে হত্যা, কী হয়েছিল সেখানে? ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ : খারাপ খবর! ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি: ভ্যান্স রোমে সুরঙ্গ খুঁড়ে বাংলাদেশি দোকানে চুরি 'আওয়ামী লীগ বাঁচাতে' শীর্ষ নেতাদের দেশে ফিরতে বলছে তৃণমূল কুয়েতে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য গোপন করছে যুক্তরাষ্ট্র? মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানের বহর পাঠাল পাকিস্তান, কেন? হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে ১৫ জাহাজ যেতে দেবে ইরান, ট্রাম্পের ক্ষোভ শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, অধ্যাপকসহ ৩০জনেরই সাজা যুদ্ধবিরতির একদিন পরও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ২০ বছরে বিএনপির বিরুদ্ধে দেড় লাখ মামলা, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ২০ মাসেই ‘লক্ষাধিক’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনা, কোন পক্ষ কী বলছে বাংলাদেশি ভিসা প্রক্রিয়ায় ১৩ দেশের কড়া বার্তা: দালাল এড়িয়ে চলুন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও মেয়র নির্বাচন ৭ মে

দক্ষিণ আফ্রিকায় লাশ হলো পটিয়ার ফাহাদ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকায় লাশ হলো পটিয়ার ফাহাদ
দক্ষিণ আফ্রিকায় লাশ হলো পটিয়ার ফাহাদ

দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছেই প্রাণ হারিয়েছে চট্টগ্রামের পটিয়ার তরুণ মো. ফাহাদ (১৮)। চলতি বছর তাঁর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উন্নত জীবনের স্বপ্নে দালালের মাধ্যমে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠান বাবা নুর মোহাম্মদ। ইথিওপিয়া থেকে প্রায় ১৫ দিন দুর্গম জঙ্গলপথে যাত্রা শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।

হাসিখুশি স্বভাবের ফাহাদ ছোটবেলা থেকেই বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন। তাঁর দুই মামা দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা করে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন। তাঁদের মতো সফল হওয়ার আশায় তিনিও সেখানে যেতে চেয়েছিলেন। ছেলের ইচ্ছা পূরণে ৯ লাখ টাকা ব্যয় করে দালালের মাধ্যমে তাঁকে পাঠান বাবা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই ঝরে গেল তাঁর জীবন।

৩০ জানুয়ারি ঢাকা থেকে বিমানে রওনা দেন ফাহাদ। পরিকল্পনা ছিল—প্রথমে ইথিওপিয়া, সেখান থেকে আরেকটি ফ্লাইটে জিম্বাবুয়ে হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে বাস্তবে তা হয়নি। ইথিওপিয়া থেকে দালালরা তাঁকে জঙ্গলপথে জিম্বাবুয়ে নিয়ে যায়। সেখান থেকে সড়কপথে ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছান তিনি। সকালে পৌঁছানোর খবর পেলেও, একই রাতেই ফোনে আসে মৃত্যুসংবাদ।

ছেলের কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘আমি ছেলেকে কখনো কোনো অভাব দেখাইনি। বলতাম, বাবা তুই পড়ালেখা কর। কিন্তু সে দক্ষিণ আফ্রিকা যেতে চাইত। এরপর ব্যবস্থা করে দিই। এখন আমার ফাহাদ আর নেই।’

নুর মোহাম্মদ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা ইউনিয়নের উত্তর জোয়ারা গ্রামের বাসিন্দা। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে ফাহাদ ছিলেন মেজ। তিনি স্থানীয় কাঞ্চনাবাদ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। এ বছর তাঁর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন।

একটি বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নুর মোহাম্মদ জানান, ফাহাদের বড় মামা প্রায় ১০ বছর আগে এবং ছোট মামা ৮ মাস আগে একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় গেছেন। ছেলের অনুরোধে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দালালের মাধ্যমে তাঁর যাত্রার ব্যবস্থা করেন তিনি।

নুর মোহাম্মদ বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে বলা হয়, ‘আপনার ছেলে ফাহাদ আর নেই, ইন্না লিল্লাহ পড়েন, সে মারা গেছে।’

পরিবারের ধারণা, দীর্ঘ ও কষ্টকর পথযাত্রা, অনাহার, অসুস্থতা এবং চিকিৎসাসেবার অভাবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সঙ্গে ২০০ ডলার ও শুকনা খাবার দেওয়া হলেও জঙ্গলপথে সব ছিনতাই হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।

নুর মোহাম্মদ জানান, শুরুতে দুই লাখ টাকা দেন দালাল চক্রকে। যাত্রার সময় ব্যাংক হিসাব নম্বরে আরও সাত লাখ টাকা পাঠানো হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানোর পর দেড় লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। মৃত্যুর পর দালালরা টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়েছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুসিনা শহরে পৌঁছানোর খবর দিয়েছিলেন ফাহাদের ছোট মামা মোহাম্মদ ফয়সাল। একটি কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছেন—এই খবর শুনে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন পরিবার। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রাতে পাসপোর্টে থাকা ঠিকানা দেখে একজন ফোন করে মৃত্যুসংবাদ জানান।

শোকে স্তব্ধ নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘ছেলেকে অন্তত শেষবারের মতো দেখতে চাই। কীভাবে ওকে ছাড়া থাকব? এত হাসিখুশি ছেলেটার জীবন শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেল।’