ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ইতালি পাঠানোর নামে মাদারীপুরে সক্রিয় মানবপাচার চক্র: বন্দিশালায় রাকিবসহ নিখোঁজ অনেকে

তাসরিফ আহমেদ সৈকত

প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

ইতালি পাঠানোর নামে মাদারীপুরে সক্রিয় মানবপাচার চক্র: বন্দিশালায় রাকিবসহ নিখোঁজ অনেকে
নিখোঁজ রাকিবের খোঁজে স্বজনরা

মাদারীপুরে কোনোভাবেই থামছে না মানবপাচারের ভয়াবহ প্রবণতা। উন্নত জীবনের আশায় এবং সরাসরি ইতালি যাওয়ার প্রলোভনে পড়ে প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হয়ে পড়ছে সাধারণ পরিবারগুলো। বিদেশে গিয়ে নিখোঁজ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমছে না। লিবিয়া বা মৌরিতানিয়ার বন্দিশালায় আটকে রেখে মাফিয়া চক্র মুক্তিপণের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হাসানকান্দি গ্রামের প্রসাধন ব্যবসায়ী রাজ্জাক খানের একমাত্র ছেলে রাকিব খানকে সরাসরি আকাশপথে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল স্থানীয় দালালচক্র। ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল তাকে পাঠানো হয়। কিন্তু ইতালি নেওয়ার পরিবর্তে তাকে জিম্মি করে রাখা হয় মৌরিতানিয়ার একটি বন্দিশালায়। সেখানে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে আরও ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপর ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও রাকিবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রাকিবের পরিবার জানায়, লিটন ও রিপন মাতুব্বরসহ একটি সক্রিয় চক্র এই পাচার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ছেলের সন্ধানে রাজ্জাক খান আদালতে মামলা করলে পাচারকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধেই মাদারীপুর ও ফরিদপুরে দুটি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এবং মিথ্যা মামলার বোঝা টেনে এখন চরম বিপর্যস্ত এই পরিবার।

একই চক্রের মাধ্যমে পিয়াস মাতুব্বর, মীর ফরিদ উদ্দিন ও আল আমিন মিয়াসহ আরও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। মুক্তিপণ আদায়ের পর মাফিয়া চক্র ও স্থানীয় দালালেরা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদারীপুরের মানবপাচার দমন ট্রাইব্যুনালে প্রতি মাসে গড়ে ৩০-৩৫টি মামলা হলেও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রে পার পেয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যমান শাস্তির অভাবে পাচারকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তারা মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অভিযোগ পাওয়ামাত্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।