‘বেস্ট অনলাইন নিউজ রিপোর্টার ইন লন্ডন’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন আনোয়ারুল ইসলাম অভি
- আপডেট সময় : ১০:২৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / 66
ব্রিটেনে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম ও সবচেয়ে বড় সংগঠন লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও নির্বাচন উপলক্ষে প্রদত্ত সম্মাননায় ‘বেস্ট অনলাইন নিউজ রিপোর্টার ইন লন্ডন’ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন আনোয়ারুল ইসলাম অভি ।

সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম অভি একই সঙ্গে একজন কবি ও মানবাধিকার কর্মী। লন্ডনের মূলধারার চ্যারিটি ও কমিউনিটির সামাজিক ও অনুপ্রেরণামূলক কাজে রয়েছে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। এরই মধ্যে পেয়েছেন পর্যাদাপূর্ণ নানা স্বীকৃতি। ২০২৩ সালে ব্রিটেনের রাজার রাজ্যাভিষেকের বছর মানবিক ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ টাওয়ার হ্যামলেটস বরো কাউন্সিলের মর্যাদাকর সিভিক অ্যাওয়ার্ড-এ তাকে ভূষিত করা হয়েছে।
এ ছাড়াও কমিউনিটিতে সংবাদকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি Trees for Cities অ্যাপ্রিসিয়েশন-২০২৩, Dementia UK অ্যাপ্রিসিয়েশন-২০২৪, Alzheimer’s Society অ্যাপ্রিসিয়েশন-২০২৫, Macmillan Cancer Support অ্যাপ্রিসিয়েশন-২০২৫ এবং Tower Hamlets Borough Council Civic Award-২০২৩সহ বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক উন্নয়ন সাংবাদিকতা ও কমিউনিটি সম্মাননা ক্রেস্ট লাভ করেছেন।
আনোয়ারুল ইসলাম অভি ৫২বাংলা টিভির সম্পাদক ও প্রকাশক। ২০১৮ সালের ভাষার মাসে যাত্রা শুরু করা এই গণমাধ্যম বহুভাষিক ও বহু জাতিসত্তার ব্রিটেনের ডায়াসপোরা বাঙালি কমিউনিটির সাফল্য, সম্ভাবনা, সমস্যা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভালো কাজগুলো তুলে ধরছে। ‘বাংলা সংযোগ দেশে দেশে’ শ্লোগানে এর অন্যতম সম্পাদকীয় নীতি ও দর্শন হলো ‘ভাইরাল কন্টেন্ট’ ধারার বিপরীতে ‘কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ও উন্নয়ন সাংবাদিকতা’।

ছড়া ও কবিতা দিয়েই আনোয়ারুল ইসলাম অভির লেখক জীবনের সূচনা। মৌলিক ও সৃজনশীল লেখায় মানুষ, প্রকৃতি ও সমাজ তাঁর প্রধান বিষয়। লেখক হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যে সম্মোহনী প্রতিভা ও কল্যাণকামী সুন্দর কিছু আছে, যা আমরা বোধের আলোয় দেখতে চাই না বা চেষ্টা করি না। অথচ খুব সাধারণ এইসব বিষয়, ঘটনা বা অনুষঙ্গগুলো প্রকাশ পেলে ব্যক্তিজীবনে ও সমাজে আলোর স্ফুরণ ঘটতে পারে অনায়াসে।
অভি সম্পাদন করেছেন গ্রামভিত্তিক আঞ্চলিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘জলঢুপ: ইতিহাস ঐতিহ্য’ ( ২০০২)। মৌলিক গ্রন্থে মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ ‘ঝাউবন কান্দে ঘরকণ্যার লাগি’ (প্রকাশ: ২০১৩)। এছাড়া আরও তিনটি গ্রন্থ সম্পাদনা ও তিনটি ছোট কাগজ সম্পাদনা করেছেন। তিনি শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক ওয়েবজিন ‘পলল’-এর সম্পাদক।
নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রাবস্থায় সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা শাখায় জড়িয়ে পড়েন অভি। স্বপ্রতিভ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের প্রিয়মুখ হয়ে ওঠেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া আন্দোলনের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে ওঠেন তখনই। সংবাদকর্মী হিসেবে যাত্রা শুরু ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে। ’৯৮ সাল থেকে সিলেটের দৈনিক আজকের সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।
লন্ডনে প্রায় এক দশক হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার-এর একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে টিম লিডার হিসেবে কাজ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি নানা মানবিক কাজে আলোকিত চিহ্ন রেখে চলেছেন।
বাংলাদেশে অবসরপ্রাপ্ত গুণী শিক্ষকদের সার্বিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন ইউকে’-এর ফাউন্ডার সদস্য ও বর্তমানে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। এ সংগঠন থেকে প্রতি বছর শিক্ষক সম্মাননা পদক ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
অভি ‘উই ওয়ান্ট ঈদ হলিডে ইন ইউকে’ ক্যাম্পেইনের সমন্বয়ক। দীর্ঘদিন থেকে ব্রিটেনে মুসলমানদের দুই ধর্মীয় উৎসবে ঈদের ছুটির দাবি নিয়ে কমিউনিটিতে সচেতনতার কাজ করছেন তিনি, যা ইতিমধ্যে কমিউনিটিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই ক্যাম্পেইন থেকে যুক্তরাজ্যে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবেও ছুটির দাবি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে অসচ্ছল পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফলজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ এবং ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘সবুজে হাসি সবুজে বাঁচি’ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক তিনি।
তিনি দীর্ঘদিন থেকে যুক্তরাজ্যের NHS Blood Donation এবং Save the Children, London Air Ambulance-এর চ্যারিটি ডোনার হিসেবে মানবিক কাজে সম্পৃক্ত। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষদের মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ ও সম্পৃক্ত করার স্বেচ্ছাসেবী কাজ ধারাবাহিকভাবে করছেন। বিশ্বের ২১টি দেশের ১৬৮টি শহরে পরিচালিত পরিবেশ দূষণ নিয়ে কাজ করা Trees for Cities-এর সাথেও ভলান্টারি কাজ করছেন তিনি।
চার বোন ও দুই ভাই মিলে শিক্ষক বাবা সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব সমছুল ইসলাম ও মা করিমা ইসলামের নামে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘সমছুল-করিমা ফাউন্ডেশন’ শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব কাজের মাধ্যমে সমাজে আলো ছড়াচ্ছে। ‘অন্ধকারে আলো’ শ্লোগানে কাজ করা ফাউন্ডেশনের তিনি প্রধান নির্বাহী। আরেকটি চ্যারেটি উদ্যোগ ৫২বাংলা মিডিয়া ইউকে-এর অর্থায়নে বাংলাদেশে মেধাবী লেখকদের মৌলিক সৃজনশীল ৮টি বই প্রকাশ করা হয়েছে।
লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বারার বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম অভির দেশের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ (বড়বাড়ি)। সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার কমলা-আনারসখ্যাত ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল জলঢুপের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নয়ন সাহিত্য পরিষদ’।






















