ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

এবার বিএনপির সঙ্গ ছাড়লেন মান্না, বললেন: আগে রাজনীতি, পরে মন্ত্রিত্ব

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০২:৩৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 151
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাগরিক ঐক্য দল অবশেষে বিএনপির সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘোষণা করেছে। দল জানায়, আসন সমঝোতা না হওয়ায় তারা এককভাবে ‘কেটলি’ প্রতীক নিয়ে ১১টি আসনে নির্বাচন করবে। দলের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা-১৮ (বৃহত্তর উত্তরা) ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে নাগরিক ঐক্য ও বিএনপির বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে।

‘বদলে দাও বাংলাদেশ’

নাগরিক ঐক্য এই স্লোগানকে সামনে রেখে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। মাহমুদুর রহমান মান্না ছাড়াও ৯ জন নেতা প্রার্থী হয়েছেন।

  • রংপুর-৫: মোফাখখারুল ইসলাম (প্রেসিডিয়াম সদস্য)

  • সিরাজগঞ্জ-১: নাজমুস সাকিব আনোয়ার (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)

  • জামালপুর-৪: মো. কবির হাসান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)

  • পাবনা-৪: শাহনাজ রানু (অর্থ বিষয়ক সম্পাদক)

  • চট্টগ্রাম-৯: স্বপন মজুমদার (কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য)

  • চাঁদপুর-২: এনামুল হক

  • কুড়িগ্রাম-২: মেজর (অব.) আব্দুস সালাম

  • রাজশাহী-২: মোহাম্মদ সামছুল আলম

  • লক্ষ্মীপুর-২: মোহাম্মদ রেজাউল করিম

বিএনপির সঙ্গে পথচলা শেষ

মাহমুদুর রহমান মান্না ও নাগরিক ঐক্যের বিএনপির সঙ্গে প্রায় এক যুগের সখ্য ও রাজনৈতিক পথচলা আপাতত শেষ হলো। মান্না বলেন, “বিএনপি আমাকে বগুড়া-২ আসনে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিল, আবার তাদের একজন প্রার্থীও দিল। পরে ঋণখেলাপি, হাবিজাবি নানা কথা বলা হলেও ঠিক কী কারণে এটি করেছে আমি জানি না।”

গত ২৪ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে ১০ জন নেতার সঙ্গে আসন সমঝোতার কথা জানিয়েছিলেন। ওই তালিকায় বগুড়া-২ আসনে মান্নার নামও ছিল। কিন্তু পরে বিএনপি শিবগঞ্জে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক দিয়েছে অন্য প্রার্থীকে।

এককভাবে নির্বাচন

মান্না ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত সোমবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্য এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।

‘আগে রাজনীতি, পরে মন্ত্রিত্ব’

গত শুক্রবার রাতে মান্না বুকে ব্যথা নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে এনজিওগ্রাম হয়। চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরেন।
মান্না প্রথম আলোকে বলেন, “আমার এনজিওগ্রাম হওয়ার আগে একজন সাংবাদিক এসে বলেন, যেহেতু আমি অসুস্থ, নির্বাচন না করাই ভালো হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান আমাকে মন্ত্রী বানাবেন। এতে রাজি থাকলে তিনি আমাকে দেখতে আসবেন।”

মান্না জানান, মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব তিনি নাকচ করেছেন। একই সঙ্গে বিএনপির একজন উচ্চপর্যায়ের নেতাকে বিষয়টি জানান। মঙ্গলবার রাতে মুগ্ধ মঞ্চে মান্না বলেন, “আমি রাজনীতি করব। নির্বাচন ছাড়ব না। মন্ত্রী হলে পরে হব, না হলে না হব। কিন্তু নির্বাচন ছাড়ব না। আমাকে কেউ কেউ বলেছিল আপনাকে মন্ত্রী বানানো হবে, এমপি হওয়ার দরকার কী। মন্ত্রী বানানোর আশ্বাস দিয়ে আমি রাজনীতি বন্ধ করব কেন? এটাতো সদকা বা ভিক্ষার মতো হবে।”

বিএনপির সঙ্গে সহযোগিতার ইতিহাস

  • ২০১৩ সাল: আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনের প্ল্যাটফর্মে মান্নার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দৃশ্যমান

  • ২০১৮: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নাগরিক ঐক্য অংশগ্রহণ করে, ৫টি আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন

  • ২০২২: জেএসডি, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্যসহ ছয় দল গঠিত করে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’, সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে নেতৃত্ব

বিএনপির সর্বশেষ আসন সমঝোতায় নাগরিক ঐক্যের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আনোয়ারুল ইসলাম অভি

সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডটকম
ট্যাগস :

এবার বিএনপির সঙ্গ ছাড়লেন মান্না, বললেন: আগে রাজনীতি, পরে মন্ত্রিত্ব

আপডেট সময় : ০২:৩৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

নাগরিক ঐক্য দল অবশেষে বিএনপির সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘোষণা করেছে। দল জানায়, আসন সমঝোতা না হওয়ায় তারা এককভাবে ‘কেটলি’ প্রতীক নিয়ে ১১টি আসনে নির্বাচন করবে। দলের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা-১৮ (বৃহত্তর উত্তরা) ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে নাগরিক ঐক্য ও বিএনপির বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে।

‘বদলে দাও বাংলাদেশ’

নাগরিক ঐক্য এই স্লোগানকে সামনে রেখে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। মাহমুদুর রহমান মান্না ছাড়াও ৯ জন নেতা প্রার্থী হয়েছেন।

  • রংপুর-৫: মোফাখখারুল ইসলাম (প্রেসিডিয়াম সদস্য)

  • সিরাজগঞ্জ-১: নাজমুস সাকিব আনোয়ার (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)

  • জামালপুর-৪: মো. কবির হাসান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)

  • পাবনা-৪: শাহনাজ রানু (অর্থ বিষয়ক সম্পাদক)

  • চট্টগ্রাম-৯: স্বপন মজুমদার (কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য)

  • চাঁদপুর-২: এনামুল হক

  • কুড়িগ্রাম-২: মেজর (অব.) আব্দুস সালাম

  • রাজশাহী-২: মোহাম্মদ সামছুল আলম

  • লক্ষ্মীপুর-২: মোহাম্মদ রেজাউল করিম

বিএনপির সঙ্গে পথচলা শেষ

মাহমুদুর রহমান মান্না ও নাগরিক ঐক্যের বিএনপির সঙ্গে প্রায় এক যুগের সখ্য ও রাজনৈতিক পথচলা আপাতত শেষ হলো। মান্না বলেন, “বিএনপি আমাকে বগুড়া-২ আসনে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিল, আবার তাদের একজন প্রার্থীও দিল। পরে ঋণখেলাপি, হাবিজাবি নানা কথা বলা হলেও ঠিক কী কারণে এটি করেছে আমি জানি না।”

গত ২৪ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে ১০ জন নেতার সঙ্গে আসন সমঝোতার কথা জানিয়েছিলেন। ওই তালিকায় বগুড়া-২ আসনে মান্নার নামও ছিল। কিন্তু পরে বিএনপি শিবগঞ্জে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক দিয়েছে অন্য প্রার্থীকে।

এককভাবে নির্বাচন

মান্না ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত সোমবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্য এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।

‘আগে রাজনীতি, পরে মন্ত্রিত্ব’

গত শুক্রবার রাতে মান্না বুকে ব্যথা নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে এনজিওগ্রাম হয়। চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরেন।
মান্না প্রথম আলোকে বলেন, “আমার এনজিওগ্রাম হওয়ার আগে একজন সাংবাদিক এসে বলেন, যেহেতু আমি অসুস্থ, নির্বাচন না করাই ভালো হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান আমাকে মন্ত্রী বানাবেন। এতে রাজি থাকলে তিনি আমাকে দেখতে আসবেন।”

মান্না জানান, মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব তিনি নাকচ করেছেন। একই সঙ্গে বিএনপির একজন উচ্চপর্যায়ের নেতাকে বিষয়টি জানান। মঙ্গলবার রাতে মুগ্ধ মঞ্চে মান্না বলেন, “আমি রাজনীতি করব। নির্বাচন ছাড়ব না। মন্ত্রী হলে পরে হব, না হলে না হব। কিন্তু নির্বাচন ছাড়ব না। আমাকে কেউ কেউ বলেছিল আপনাকে মন্ত্রী বানানো হবে, এমপি হওয়ার দরকার কী। মন্ত্রী বানানোর আশ্বাস দিয়ে আমি রাজনীতি বন্ধ করব কেন? এটাতো সদকা বা ভিক্ষার মতো হবে।”

বিএনপির সঙ্গে সহযোগিতার ইতিহাস

  • ২০১৩ সাল: আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনের প্ল্যাটফর্মে মান্নার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দৃশ্যমান

  • ২০১৮: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নাগরিক ঐক্য অংশগ্রহণ করে, ৫টি আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন

  • ২০২২: জেএসডি, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্যসহ ছয় দল গঠিত করে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’, সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে নেতৃত্ব

বিএনপির সর্বশেষ আসন সমঝোতায় নাগরিক ঐক্যের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।