ডাকসুর কনসার্টে বিনামূল্যে সিগারেট ও বিপরীত স্লোগান, কী ঘটেছিলো
- আপডেট সময় : ০৫:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 129
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কনসার্টে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনায় সমালোচনায় পড়েছে ডাকসু। এই কনসার্টে ওঠা নানা স্লোগান নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা।
শনিবার (১৭ জুলাই) ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মাঠে ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানেই স্টল বসিয়ে বিনা মূল্যে সিগারেট বিলি করা হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সঙ্গে এই কনসার্টের সহ–আয়োজক ছিল ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম।
কনসার্টস্থলে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা করছেন শিক্ষার্থীরা। এটা ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন, তা–ও তুলে ধরছেন তাঁরা।
এদিকে, ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টে ডাকসুর এক নেতার স্লোগানের বিপরীতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিদ্রুপাত্মক স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, কনসার্ট চলাকালে মঞ্চে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন। তবে তিনি যখন ‘কোটা না সংস্কার?’ স্লোগান দেন, তখন উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একাংশ পাল্টা জবাব হিসেবে চিৎকার করে ‘কোটা, কোটা’ বলতে থাকেন। আবার অন্য একটি অংশকে ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’ বলে বিদ্রুপ করতে শোনা যায়।
একইভাবে মুসাদ্দেক যখন ‘গোলামী না সংস্কার?’ স্লোগান দেন, তখন শিক্ষার্থীরা ‘যুক্তরাজ্যের চাকরি’ বলে চিৎকার করেন। তিনি যখন ‘গোলামী না আজাদী’ স্লোগান দেন তখন তারা ‘গোলামী, গোলামী’স্লোগান দিতে থাকে। একইভাবে তিনি যখন ‘আপস না সংগ্রাম’ স্লোগান দেন তখন শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেয়া ‘আপস-আপস’।
সবশেষে তিনি যখন ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত স্লোগান ‘আমি কে তুমি কে?’ শুরু করেন, তখন শিক্ষার্থীরা ‘মুসাদ্দেক, মুসাদ্দেক’ বলে বিদ্রুপাত্মক ধ্বনি দিতে থাকেন।
কনসার্টে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “শিক্ষার্থীরা মূলত ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদকের ওপর বিরক্ত হয়েই এই বিদ্রুপাত্মক স্লোগানগুলো দিয়েছে।” বিরক্তির কারণ জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সময়ে উক্ত ছাত্রনেতার বেশ কিছু বিতর্কিত বক্তব্য ও অবস্থানের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
‘এক্স ফোর্স প্রেজেন্টস কুয়াশার গান’ শীর্ষক এই সংগীতানুষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল সিটি ব্যাংক। শীতকালীন এই সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী কনসার্টটি উপভোগ করতে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই স্লোগান-পাল্টা স্লোগানের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে।



















