ঢাকা ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত আমিরের এক্সের অ্যাকাউন্ট উদ্ধার, ৪৫ মিনিট সময় নিয়ে কেন সন্দেহ? জামায়াত আমিরের ‘নারী বিদ্বেষী’ পোস্ট ঘিরে উত্তাপ, বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল মুস্তাফিজ শফি দেশ রূপান্তরের সম্পাদকের দায়িত্ব নিলেন  ‘নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করার মধ্য দিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে’ জামায়াত আমিরের ‘নারীবিদ্বেষী’ পোস্ট: আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক, প্রশ্ন বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী রইল না হাসনাত আবদুল্লাহর, ঋণখেলাপিদের নিয়ে যা বললেন ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল: ‘এমন হ্যাকার করলো হ্যাক, বেশ্যা ডেকে আইডি ব্যাক’ জামায়াত আমিরের এক্স ‘পোস্ট’ ঘিরে কেন এত আলোচনা টাওয়ার হ্যামলেটসে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস সার্ভিস উদ্বোধন ভিসা ছাড়াই চীন ভ্রমণ করতে পারবে ব্রিটিশ নাগরিকরা : যুক্তরাজ্য-চীন ১০ চুক্তি

ইচ্ছামৃত্যু স্বীকৃতি পেল নিউজিল্যান্ডে

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০
  • / 992
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্যানাডা, নেদারল্যান্ডসের পর ইচ্ছামৃত্যুকে স্বীকৃতি দিলেন নিউজিল্যান্ডের মানুষ। আগামী বছরেই নতুন আইন।যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল নিউজিল্যান্ড। ইউথেনেশিয়াকে স্বীকৃতি দিলেন দেশের মানুষ। আগামী বছর থেকে মৃতপ্রায় মানুষ ইচ্ছামৃত্যু বেছে নিতে পারবেন।

কাজটি সহজ ছিল না। বিশ্বের বহু দেশেই ইথেনেশিয়া বা ইচ্ছামৃত্যু নিয়ে বহু আন্দোলন হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের মূলত দুইটি বক্তব্য। এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। তাঁরা এবং তাঁদের পরিবার জানেন যে, কোনো ভাবেই তাঁদের সুস্থ করা যাবে না। তবু তাঁদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়। পাশাপাশি মৃতপ্রায় ব্যক্তিকে আরো বেশি শারীরিক এবং মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই প্রয়োজন ইচ্ছামৃত্যু। চিকিৎসকদের সাহায্য নিয়ে দ্রুত মৃত্যুর ব্যবস্থা করতে পারলে কষ্ট লাঘব হয়।

আন্দোলনকারীরা যাই বলুন, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের আইনই ইচ্ছামৃত্যুকে সমর্থন করে না। নেদারল্যান্ডস, ক্যানাডার মতো খুব সামান্য কিছু দেশে ইচ্ছামৃত্যুকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নিউজিল্যান্ডেও দীর্ঘ দিন ধরে ইথেনেশিয়া নিয়ে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ভোটের সময় স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে একটি রেফারেন্ডম বা গণভোটের ব্যবস্থা করা হয়। বৃহস্পতিবার তার ফলাফল মিলেছে। যাতে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ ইচ্ছামৃত্যুর পক্ষে। সম্পূর্ণ ফলাফল অবশ্য এখনও মেলেনি। পোস্টাল ব্যালট গুণে চূড়ান্ত ফল জানাতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা পোস্টাল ব্যালট বর্তমান ফলকে বদলে দিতে পারবে না।

নিউজিল্যান্ডের আইনসভা জানিয়েছে, মানুষের রায় এসে গিয়েছে। এ বার বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিয়ে আইন তৈরি করতে হবে। আগামী বছরের শেষের দিকে সেই আইন কার্যকর হতে পারে। অর্থাৎ, আগামী বছরের শেষ থেকে নিউজিল্যান্ডের মানুষ ইচ্ছামৃত্যু বেছে নিতে পারবেন। তবে সকলে নয়। আইনসভা জানিয়েছে, কেবলমাত্র মৃতপ্রায় ব্যক্তিরাই এই আইনের সাহায্য নিতে পারবেন। দুইজন চিকিৎসক ওই ব্যক্তিকে পরীক্ষা করবেন এবং তাঁদের ইচ্ছামৃত্যুর বিষয়ে সহমত হতে হবে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্দার্ন দীর্ঘদিন ধরেই ইচ্ছামৃত্যুকে সমর্থন করেছেন। গণভোটের ফলাফলকে সমর্থন করেছেন তিনি। অন্যদিকে ইচ্ছামৃত্যুর পাশাপাশি আরো একটি বিষয়ে গণভোট করা হয়েছিল। পরিমিত গাঁজা সেবন বৈধ করা হবে কি না। ৫৩ শতাংশ মানুষ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, ৪৬ শতাংশ মানুষ পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল এই ফল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইচ্ছামৃত্যু স্বীকৃতি পেল নিউজিল্যান্ডে

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

ক্যানাডা, নেদারল্যান্ডসের পর ইচ্ছামৃত্যুকে স্বীকৃতি দিলেন নিউজিল্যান্ডের মানুষ। আগামী বছরেই নতুন আইন।যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল নিউজিল্যান্ড। ইউথেনেশিয়াকে স্বীকৃতি দিলেন দেশের মানুষ। আগামী বছর থেকে মৃতপ্রায় মানুষ ইচ্ছামৃত্যু বেছে নিতে পারবেন।

কাজটি সহজ ছিল না। বিশ্বের বহু দেশেই ইথেনেশিয়া বা ইচ্ছামৃত্যু নিয়ে বহু আন্দোলন হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের মূলত দুইটি বক্তব্য। এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। তাঁরা এবং তাঁদের পরিবার জানেন যে, কোনো ভাবেই তাঁদের সুস্থ করা যাবে না। তবু তাঁদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়। পাশাপাশি মৃতপ্রায় ব্যক্তিকে আরো বেশি শারীরিক এবং মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই প্রয়োজন ইচ্ছামৃত্যু। চিকিৎসকদের সাহায্য নিয়ে দ্রুত মৃত্যুর ব্যবস্থা করতে পারলে কষ্ট লাঘব হয়।

আন্দোলনকারীরা যাই বলুন, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের আইনই ইচ্ছামৃত্যুকে সমর্থন করে না। নেদারল্যান্ডস, ক্যানাডার মতো খুব সামান্য কিছু দেশে ইচ্ছামৃত্যুকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নিউজিল্যান্ডেও দীর্ঘ দিন ধরে ইথেনেশিয়া নিয়ে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ভোটের সময় স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে একটি রেফারেন্ডম বা গণভোটের ব্যবস্থা করা হয়। বৃহস্পতিবার তার ফলাফল মিলেছে। যাতে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ ইচ্ছামৃত্যুর পক্ষে। সম্পূর্ণ ফলাফল অবশ্য এখনও মেলেনি। পোস্টাল ব্যালট গুণে চূড়ান্ত ফল জানাতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা পোস্টাল ব্যালট বর্তমান ফলকে বদলে দিতে পারবে না।

নিউজিল্যান্ডের আইনসভা জানিয়েছে, মানুষের রায় এসে গিয়েছে। এ বার বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিয়ে আইন তৈরি করতে হবে। আগামী বছরের শেষের দিকে সেই আইন কার্যকর হতে পারে। অর্থাৎ, আগামী বছরের শেষ থেকে নিউজিল্যান্ডের মানুষ ইচ্ছামৃত্যু বেছে নিতে পারবেন। তবে সকলে নয়। আইনসভা জানিয়েছে, কেবলমাত্র মৃতপ্রায় ব্যক্তিরাই এই আইনের সাহায্য নিতে পারবেন। দুইজন চিকিৎসক ওই ব্যক্তিকে পরীক্ষা করবেন এবং তাঁদের ইচ্ছামৃত্যুর বিষয়ে সহমত হতে হবে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্দার্ন দীর্ঘদিন ধরেই ইচ্ছামৃত্যুকে সমর্থন করেছেন। গণভোটের ফলাফলকে সমর্থন করেছেন তিনি। অন্যদিকে ইচ্ছামৃত্যুর পাশাপাশি আরো একটি বিষয়ে গণভোট করা হয়েছিল। পরিমিত গাঁজা সেবন বৈধ করা হবে কি না। ৫৩ শতাংশ মানুষ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, ৪৬ শতাংশ মানুষ পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল এই ফল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।