সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
জলঢুপ দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন  » «   নর্থ ইংল্যান্ড বাংলাদেশি টিভি রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন নেবট্রা’র সভা অনুষ্ঠিত  » «   ওমিক্রণ এবং ব্রিটেনের প্রশ্নবোধক স্বাস্থ্য সেবা  » «   যুক্তরাজ্য প্রবাসীর উদ্যোগে খাসাড়ীপাড়া মিনিবার সুপার লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট এর উদ্বোধন  » «   ঢাকাদক্ষিণ হলিসিটি স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ  » «   বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও সাবেক এমপি মরহুম সিরাজুল ইসলামের স্মৃতি ধরে রাখার উদ্যোগ  » «   এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে স্পেন প্রবাসীদের মতবিনিময়  » «   ‘বিয়ানীবাজার সমাজ কল্যাণ সমিতি ইতালী’ গঠন: জয়নাল আহবায়ক, জামিল সদস্য সচিব  » «   সিলেটে প্রকাশনা অনুষ্ঠান ও প্রীতিসম্মিলন  » «   স্পেনে ছাত্রলীগের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত  » «   গোলাপগঞ্জে ফুলবাড়ি ইউনিয়ন সোসাইটি ইউকে’র ফ্রি চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত  » «   বড়লেখা কমিউনিটি ট্রাস্ট ইউকের  সভা অনুষ্ঠিত  » «   জীবন আসলেই সুন্দর  » «   তীব্র ঠান্ডা ও কুয়াশায় যুক্তরাজ্যে জনজীবনে বিপর্যস্ত হওয়ার আশংকা   » «   সাউথওয়েস্ট ইংল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের সাথে বিবিসিজিএইচ নেতৃবৃন্দের মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

মানুষ বাঁচে তার কর্মে



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বলা হয়,  মানুষের পরিচয় লুকিয়ে থাকে তার সুকর্মের মাঝে। ভালো বংশ, উচ্চ মর্যাদা, প্রবল ক্ষমতা মানুষকে মহীয়ান করে না। মানুষ মহিমা পায় কর্মের ভেতর দিয়ে। তাই বলা হয়, জন্ম হোক যথা তথা…।

মহাকালের অনন্ত প্রবাহে মানুষ পায় সীমাবদ্ধ জীবন। সেখানে অনন্ত ঘুমের মধ্যে ক্ষণিকের জন্য চোখ মেলে তাকানো । এই ক্ষণিক সময়ে প্রত্যেক মানুষ তার পরিচয় চিহ্নিত করার জন্য পায় নিজস্ব একটি নাম । কালের প্রবাহে তাদের অনেকের নাম হারিয়ে যায়। কিন্তু কর্মকৃতির জন্য কারো কারো নাম পায় মহিমা, উত্তর- পুরুষের কাছে ও হয় স্মরণীয়।

জীবন অবসান হলেও যেসব মানুষের নাম স্মরণীয় হয়ে থাকে তারা তাদের নামের কারনে স্মরণীয় হন না। স্মরণীয়-বরণীয় মহিমা পান তাদের কর্মের জন্য। মহৎ সাধনা ও অসামান্য কর্ম-অবদানের জন্য মানুষের নাম মানুষ মনে রাখে। কোন কীর্তি না থাকলে কারো নাম মানুষ স্মরণ করে না । যতই চিত্ত- বৈভব, প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকুক,নাম যতই জৌলুস পূর্ণ হোক কর্মসাধনার নির্বেতি প্রাণ  না হলে সে নাম মুছে না যে পারেনা।

রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন । কিন্তু ঐ পরিবারের সকলকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের নাম। নজরুল সাধারণ পরিবারে জন্মেছিলেন। কিন্তু অসামান্য অবদানের জন্য তার নাম চির জাগরুক হয়ে আছে আমাদের মধ্যে।

মানুষ ক্ষণস্থায়ী জীবনকে মহিমান্বিত করতে পারে তার কর্ম- অবদানের মধ্য দিয়ে। মহৎ কীর্তির বলে মানুষের নাম দেশে ও কালের সীমারেখা ছাড়িয়ে যায়।

যেমন- মানুষ স্বভাবতই টিকে থাকতে চায়, নিজেকে টিকিয়ে রাখতে চায়, এবং অমরত্ব লাভ করতে চায়। এর জন্য মানুষকে নিরন্তর পরিশ্রম করতে হয়, চেষ্টা করতে হয় এবং সংগ্রাম করতে হয়। এ সংগ্রাম নিজের সাথে, অন্য মানুষের সাথে এবং প্রকৃতির সাথে। কেননা জীবনটা সমস্যাপূর্ণ। চারপাশের পরিবেশ বিঘ্নময় । সমাজব্যবস্থা জটিল হতাশাব্যঞ্জক। এসবের সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকা কঠিন। কিন্তু এই কঠিন কাজটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে শক্তিমান মানুষ।

 

নিজ বুদ্ধিমত্তার বিকাশে যেমন তৎপর হয়, তেমনি তা প্রচার ও প্রসারে ও সর্বশক্তি নিয়োগ করে। কেবল অন্তর্নিহিত শক্তি বা সৃজনশীলতা এক্ষেত্রে যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সংগত কারণেই এর সাথে যুক্ত হবে অর্থ ও পেশীশক্তি। সবল মানুষ কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠার জন্য সক্রিয় থাকে। তার কাছে ইতিবাচক বা নেতিবাচক, নৈতিক বা অনৈতিক বিষয়টি সবসময় প্রধান নাও পেতে পারে ।

অন্যদিকে মনের দিক থেকে দুর্বল মানুষ প্রখর মেধাসম্পন্ন বা সৃজনশীল হলেও আত্মপ্রচার ও প্রসারে কোন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে না। প্রচেষ্টা বা তৎপরতার অভাবে তার আত্মশক্তির মূল্যায়ন হয় না। সে তাকে পিছিয়ে, একসময় হয়ত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। অথচ তারই সামনে চলে আসার কথা। কিন্তু পলায়নপর বা নেতিবাচক মনোভাবই তার প্রকৃত পরিচয়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এভাবে পলায়নরত মনোভাবের জন্য দুর্বল সমাজের জন্য তো নয়ই, নিজের জন্য তারা কোন কাজে লাগে না।

আত্মপ্রসারের মধ্যেই জীবনের প্রকৃত পরিচয়। মানুষের জীবন সীমিত। কিন্তু কর্মক্ষেত্র বিস্তৃত। বিস্তৃত কর্ম ক্ষেত্রে নিজেকে পরিচিত করার আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরদিনের। পৃথিবীতে যারা কৃতিমান প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব তারা বাধা- বিঘ্ন, সমস্যা জটিলতাকে অতিক্রম করেই বড় হয়েছেন। নিন্দা, সমালোচনা, অপমানের আঘাত সয়ে তারা মানুষের জন্য রেখে গেছেন শুদ্ধ সুন্দর পথ। আবিষ্কার করেছেন কল্যাণকর কিছু, উদ্ভাবন করেছেন মানবকল্যাণের উপযোগী অজস্র সামগ্রী। পুরোনোকে উপড়ে ফেলে নতুন এর প্রতিষ্ঠার মধ্যেই তাদের আত্মপ্রসার, যা তাদেরকে অমরত্ব দেয়। অন্যদিকে আত্মগোপন করে থাকার মধ্যে বা পলায়নপর মনোভাবের মধ্যে কেবল দূর্বলেরাই এক ধরনের স্বস্তি অনুভব করে কৃত্রিম শান্তি লাভ করে।

রাশিয়ার যোশেফ স্টালিন, ভারতের এক মন্ত্রী জগজীবন রাম, তারা নিম্নবর্ণের ছেলে। কিন্তু তাদের কর্মের সুখ্যাতি ছড়িয়ে আছে বিশ্বময়। মানুষ তাঁদের আজও স্মরণ করে। সৎ মানুষের আদর্শ হয়ে আছেন তাঁরা। আভিজাত্যের বড়াই করে অমানুষ হওয়ার মধ্যে গৌরব নেই।

ভীতি দূর করে শিক্ষাকে আনন্দময়, আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। শিক্ষা ব্যতিত নেলসন ম্যান্ডেলা যেমন হওয়া যায় না, তেমনি জর্জ ওয়াশিংটন, মহাত্মা গান্ধীর ও সৃষ্টি হবে না।

সাদিক রহমান : সাংবাদিক,লন্ডন


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক