বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ মৃত্যু সেখানেই শেষ কথা নয়..  » «   শিল্প উদ্যোক্তা ও ক্রীড়া সংগঠক মো: জিল্লুর রাহমানকে  লন্ডনে সংবর্ধনা  » «   ঈদের সামাজিক গুরুত্ব ও বিলাতে ঈদের ছুটি   » «   ব্রিটেনে ঈদের ছুটি  প্রসঙ্গে  » «   হজের খুতবা বঙ্গানুবাদ করবেন মাওলানা শোয়াইব রশীদ ও মাওলানা খলিলুর রহমান  » «   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তাবুর শহর মিনায় হাজিরা  » «   ঈদের ছুটি : আমাদের কমিউনিটিতে সবার আগে শুরু হোক  » «   ঈদের দিনে বিলেত প্রবাসীদের মনোবেদনা  » «   বিলেতে ঈদ উৎসব এবং বাঙ্গালী কমিউনিটির অন্তর্জ্বালা  » «   জলঢুপে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমান কেম্প  » «   তিলপাড়ায় বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   করিমগঞ্জ দিবস  » «   ঈদের ছুটি চাই : একটি সমন্বিত উদ্যোগ অগণিত পরিবারে হাসি ফুটাতে পারে  » «   ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন বন্ধুর  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


সিলেটে মেয়রের বিরুদ্ধে লন্ডন প্রবাসী পরিবারের ৮ কোটি টাকা মূল্যের জায়গা দখলের অভিযোগ!
লণ্ডনে ভূক্তভোগী ভাইবোনের সংবাদ সম্মেলন



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সংবাদ সম্মলেন ভাই বোন কথা বলছেন

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হকের বিরুদ্ধে প্রবাসীর জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। ১৬ জুলাই মেয়র আরিফুল হক বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে সিলেটে ৮ কোটি টাকা মূল্যের জায়গা উদ্ধারের সেই শো ডাউনের বিরুদ্ধে এবার লণ্ডনে সেই জায়গার মালিকানা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগী ভাইবোন।

সোমবার লণ্ডন সময়, রাত ৮.৩০ মিনিয়ে পূর্ব লণ্ডনে একটি রেষ্টুরেন্টে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই জায়গার প্রকৃত মালিকা দাবি করা ভাই আনিসুল হক ও বোন আবিদা সুলতানা দাবি করছেন, যে জায়গা তাদের দখলে, যেখানে তাদের মার্কেট ছিলো এবং যে জায়গা নিয়ে মামলা চলমান আছে, সে জায়গা কিভাবে দখল নিলেন মেয়র!

সংবাদ সম্মেলনে  তারা বলেন, সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকায় আমাদের পরিবারের  ২৪ শতক জমি রয়েছে। ১৯৮২ সাল থেকে ক্রয় সূত্রে আমরা এই জমি ভোগদখল করে আসছি। জমির মূল মালিক ছিলেন নরেশ দত্ত সেনাপতি। কাষ্টঘর এলাকার রজনী ভূষণ চৌধুরী ও রসময় চৌধুরী এই জমি ক্রয় করে ভিটা নির্মাণ করে তাতে বসবাস করেন। পরবর্তীতে রসময় চৌধুরী তার অংশ রজনী চৌধুরীর নিকট বিক্রি করে দেন। রজনী চৌধুরীর মৃত্যুর পর পুরো জমির মালিক হন রনধীর চৌধুরী।

১৯৫৬ ইংরেজির ভূমি জরিপে ভুলবশত এই জমিটি সিলেট পৌরসভার নামে রেকর্ডভূক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু জমিটিতে ভোগদখল থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে লোকমুখে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন রনধীর চৌধুরী। এরপর তিনি সিলেট সদর মুনসেফি ১ম আদালতে ১৯৬৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পৌরসভার বিরুদ্ধে স্বত্ত্ব মামলা দায়ের করেন। পৌরসভা এ বিষয়ে লিখিত জবাব দিয়ে জমিটি নিজেদের বলে দাবি করলেও প্রমাণের অভাবে মামলাতে হেরে যায়। মামলায় বাদী রনধীর চৌধুরী বিবাদী পৌরসভার বিরুদ্ধে খরচসহ ডিক্রি লাভ করেন।

এরপর রনধীর চৌধুরী এই জমির মধ্যে ১২ শতক গুল মো. এবং আরও ১২ শতক আব্দুর রহিমের কাছে বিক্রি করেন। ১৯৮২ সালে এই দুজনের কাছ থেকে তাদের মালিকানাধীন ২৪ শতক ভূমি ক্রয় করেন আমার বাবা আরকান আলী।

সংবাদ সম্মেলনে, আনিসুল হক আরো বলেন, জমি ক্রয় করে আমার পরিবার যথানিয়মে ভোগদখল করতে থাকেন। মালিকানার কাগজপত্র দিয়ে পৌরসভার অনুমতিক্রমেই এই জমিতে দোকানকোঠা নির্মাণ করা হয়। দোকানকোঠায় বিদ্যুৎ সংযোগও নেওয়া হয়। আমাদের মালিক মেনেই ২০২০ সালের ২৭ জুলাই সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে হোল্ডিং বিবরণী (হোল্ডিং নং ২৩১০/২) প্রেরণের জন্য মেয়র স্বাক্ষরিত নোটিশ প্রদান করা হয়। আমরা যথাযথ নিয়মে হোল্ডি ট্যাক্স প্রদান করি।

সংবাদ সম্মেলনে, আবিদা সুলতানা  বলেন, সপরিবারে প্রবাসে থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আমরা সবসময় জমির খোঁজখবর রাখতে পারি না। এ কারণে সর্বশেষ নামজারিকালে এই জমিটি আমাদের নামে নামজারি হয়নি। নামজারি না হওয়ায় ২০০২ সালে আমাদের পরিবারের পক্ষে হাসনা বেগম বাদী হয়ে ২০০২ সালে সিলেট জজ কোর্টে একটি মামলা করেন। যা এখনো আদালতে বিচারাধীন আছে।

তিনি বলেন, অবাক করার বিষয় হচ্ছে, আদালতে বিচারাধীন ও আমরা ভোগদখলে থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের নোটিশ প্রদান ছাড়াই গত ১৫ আগস্ট সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা এসে জোরপূর্বক আমাদের জমি দখল করে নেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আবিদা সুলতানার স্বামী সাঈফ আহমেদ। তিনি বলেন, ফিল্মি স্টাইলে অভিযান চালিয়ে মেয়র আমার স্ত্রী ও শ্যালকের ঘরবাড়িসহ সব স্থাপনা ভেঙে ফেলেন। ফোনে মেয়রকে আদালতে মামলা চলমান থাকার কথা জানানো হলেও মাননীয় মেয়র কোনো কথা না শুনেই স্থাপনা ভেঙে দিয়ে জমিটি দখল করে নেন। আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি জমির দখল নিয়েছেন বলে দাবি করলেও এর পক্ষে কোন কাগজপত্র প্রদর্শণ করেননি।

তিনি বলেন,তথ্য অধিকার আইনে আমরা মেয়রের কাছে কাগজপত্র দাবি করলেও তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। আমাদের প্রশ্ন হলো, আদালতে বিচারাধিন থাকা অবস্থায় কাগজ সরবরাহ করতে না পারলেও কোন যুক্তিতে তিনি বিচারাধিন জমির জোরদখল নেন?

(এই সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের আজ সোমবার একটি প্রেসব্রিফিং করবেন বলে জানিয়েছেন।পরবর্তিতে তার বক্তব্য প্রকাশ করা হবে)।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন