বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
১২ ডিসেম্বর লন্ডনে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সম্প্রীতি কনসার্ট  » «   ইস্ট লন্ডন মসজিদের নতুন কমিটি নির্বাচিত  » «   গ্রীসের অভিবাসন ও অ্যাসাইলাম মন্ত্রীর সাথে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি’র বৈঠক  » «   ওমিক্রন ছড়াবে, ঝুঁকি এড়াতে প্রস্তুত থাকতে বলেছে ডব্লিউএইচও  » «   ‘আই অ্যাম ইনচার্জ’ এবং ব্রিটেনের গণতন্ত্র  » «   প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীকে গ্রীসে গণসংবর্ধনা  » «   উলামা পরিষদ বিয়ানীবাজার ইউকে’র উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «   কাউন্সিল অফ মস্ক এর সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন   » «   ব্রিকলেনে হাই কমিশনের সার্ভিস পুনরায় শুরু, সেবা পেয়ে সকলে খুশি  » «   কারী অস্কার খ্যাত ১৭তম ব্রিটিশ কারী এওয়ার্ডস ২৯ নভেম্বর  » «   কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে বিয়ানীবাজারেও পরিবর্তিত হল নৌকার প্রার্থী  » «   ৯ মাসে হবিগঞ্জে আত্মহত্যা করেছেন ১২২ জন  » «   গোলাপগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে নৌকা পেলেন যারা  » «   ২৩ ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে না বিয়ানীবাজার  » «   চ্যারিটি ওয়ার্কে অনন্য ভূমিকার জন্য এশিয়ান কারী এওয়ার্ড পেলেন চ্যানেল এস ফাউণ্ডার মাহী ফেরদৌস  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

মহানবির জন্মদিন ও আনুষঙ্গিক কিছু কথা



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আজ মহানবির জন্মদিন। তাঁকে পৃথিবীর বুকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ স্বরূপ। মানব জাতির কল্যাণের জন্যই তাঁর আবির্ভাব। তিনি বিশেষ কোনও জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের জন্য আসেননি। তাঁর কোনও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাও নেই। তিনি জগৎবাসীর জন্য রহমতস্বরূপ! কিন্তু এক শ্রেণির গণ্ডমূর্খ মনে করে, মহানবি কেবল ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের জন্য স্রষ্টা কর্তৃক পৃথিবীর বুকে প্রেরিত হয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনে তাঁকে বার বার ‘সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মহানবির সংযম ও সহনশীলতা সম্পর্কে যাদের সম্যক ধারণা নেই, কেবল তারা-ই মহনবির মহান আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার পথ অবলম্বন করেছে। অথচ পবিত্র কোরআন ও মহানবির চরিত্রের মধ্যে যে শ্রেষ্ঠত্ব বিদ্যমান, সে-সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই! পবিত্র কোরআন হচ্ছে স্রষ্টা কর্তৃক সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব জাতির জন্য সংবিধানস্বরূপ। মহানবি হচ্ছেন পবিত্র কোরআনের শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার। কিন্তু কতিপয় গণ্ডমূর্খ কোথাও কোথাও পবিত্র কোরআনের অপব্যাখ্যা করে থাকে নিজেদের সুবিধার্থে! ইসলাম ধর্মের প্রধান স্তম্ভ চারটি। যথাক্রমে, পবিত্র কোরআন, মহানবির আদর্শ, কোনও ব্যাপারে সমকালীন শ্রেষ্ঠ উলামাদের সিদ্ধান্ত ও শেষতম হচ্ছে বিবেক। উপর্যুক্ত তিনটি স্তম্ভ সম্পর্কে কেউ যদি অবগত না-হয়ে থাকে, তার জন্য বিবেক-ই যথেষ্ট। তবে সেই বিবেক অবশ্য-ই উপনিবেশমুক্ত হওয়া চাই। কারও বিবেক যদি অন্য অপশক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকে, তাহলে, তার বিবেক সুষ্ঠুভাবে সমাধানে পৌঁছতে ব্যর্থ হবে।

একবার এক অমুসলিমকে মসজিদে নববির ভেতরে প্রস্রাব করতে দেখা গেল। তখন মসজিদে উপস্থিত মহানবির অনুচরদের মধ্যে কেউ কেউ লোকটিকে বাধা দিতে চাইলেন। মহানবি তাঁদের বারণ করে বললেন, তাকে প্রস্রাব সমাপ্ত করতে দাও। প্রস্রাব সমাপ্ত হলে লোকটিকে জিজ্ঞাসা করা হল, সে কেন মসজিদের ভেতরে প্রস্রাব করল? উত্তরে লোকটি বলল, এটি মসজিদ বলে সে জানত না! মহানবি লোকটিকে ক্ষমা করে দিলেন!

আরেকবার একজন ইহুদি পণ্ডিত মহানবির সহিষ্ণুতা পরীক্ষা করার জন্য মহানবিকে কিছু খেজুর দিলেন এবং একটি নির্দিষ্ট তারিখে খেজুরের অর্থ পরিশোধ করার লক্ষ্যে শর্ত বেঁধে দিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট তারিখের আগে সেই ইহুদি ব্যক্তি এসে মসজিদে নববিতে এসে জনসমক্ষে মহানবিকে অপমান করতে শুরু করে দিলে মহানবি দুর্দণ্ডপ্রতাপ সাহাবি হজরত ওমরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। হজরত ওমর তৎক্ষণাৎ দাঁড়িয়ে তরবারি উন্মুক্ত করে বললেন, হে আল্লাহর রসুল! আপনি আঘাত পাবেন এই আশঙ্কায় লোকটির বদলা নিতে পারছি না! না-হলে এই উন্মুক্ত তরবারির আঘাতে লোকটির শিরশ্ছেদ করে নিতাম! মহানবি হজরত ওমরকে তিরস্কার করে বললেন, হে ওমর! আমি তোমার নিকট থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করিনি! আমি ভেবেছিলাম, তুমি আমার নিকট বিষয়টির স্পষ্টিকরণ দাবি করবে! মহানবির উক্ত কথা শুনে ইহুদি জ্ঞানী ব্যক্তিটি তৎক্ষণাৎ মহানবির পায়ে পড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে বললেন, হে আল্লাহর রসুল! আমাদের ধর্মগ্রন্থে আপনার যাবতীয় গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হয়েছি, শুধু আপনার সহিষ্ণুতা সম্পর্কে জানার বাকি ছিল! আজ এই মুহূর্তে সেই সন্দেহটিও দূর হল! আপনি সত্যি সত্যি আল্লাহর প্রেরিত দূত! এই বলে লোকটি মহানবির নিকট ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হলেন!

কিন্তু আজকাল কতিপয় গণ্ডমূর্খ ইসলামকে কলুষিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ফাঁদে পা দিয়ে আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে! আইসিস, আলকায়দাসহ বিভিন্ন সংগঠন অর্থের লোভে ইসলামের নামে যথেচ্ছাচার করে যাচ্ছে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে অসদাচরণ করতে বিবেকে বাধছে না। মহানবিকে যাঁরা প্রকৃত অর্থে ভালোবাসেন, তাঁর সকল আদর্শকে তাঁদের কায়মনোবাক্যে অনুসরণ করা উচিত।

লেখক: কবি,গবেষক ও শিক্ষাবিদ । প্রকাশক, দৈনিক নববার্তা প্রসঙ্গ। করিমগঞ্জ। অসম।

আরও পড়ুন-

শারদীয় দুর্গোৎসব

 

 


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •