শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
কারী ইন্ড্রাস্টির সংকট মোকাবেলায় দরকার সমন্বিত উদ্যোগ  » «   বিবিসি প্রকাশ করেছে উইঘুর নির্যাতন নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য  » «   মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপন  » «   মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ আরও ২ দেশে: বেলজিয়ামে ২১ দিনের কোয়ারেন্টিন ঘোষণা  » «   শুধুই নারীদের পরিচালনায় প্রথম সৌদি আরবের আকাশে উড়ল ব্যতিক্রমী ফ্লাইট  » «   গোলাপগন্জে চেয়ারম্যান প্রার্থী এলিম চৌধুরী’র মতবিনিময়  » «   দুদকের মামলায় হাজী সেলিম কারাগারে  » «   নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাশিয়ার মুদ্রা রুবল’র উত্থান  » «   কারী শিল্পের সংকট মোকাবেলায় সিবিআই প্রেসিডেন্টের কাছে  বিসিএ’র পাঁচ দাবী উপস্থাপন  » «   গোলাপগঞ্জে ভোটার হাল নাগাদ শুরু  » «   বার্সেলোনায় মাদারীপুর সমিতির ঈদ পুনর্মিলনী  » «   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসায় স্পেনের প্রেসিডেন্ট  » «   আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর চিরবিদায়  » «   ইতালির জেনোভায়‌ প্রবাসীদের কনস্যুলেট সেবা প্রদান  » «   বিয়ানীবাজার থানা জনকল্যাণ সমিতি ইউকে‘র দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও রাজনীতিবিদ সিরাজুল ইসলামের স্মৃতি ধরে রাখা হোক



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সিরাজুল ইসলাম। বৃহত্তর সিলেটের প্রথম সারির একজন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী- বড়লেখা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গুনী এই রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজীবন জনমানুষের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেও পরবর্তী প্রজন্ম সহ তার স্মৃতি ধরে রাখতে নিজ অঞ্চলে এখনও নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ।
১৯৫২ র ভাষা আন্দোলনের সময় সিরাজুল ইসলাম ছিলেন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। এবং ঐসময়ে মাতৃভাষা বাংলার দাবীতে ক্লাশ বর্জন করে মিছিলে যোগ দেন। সেই সময় থেকে তার মনে রাজনীতির বীজ বোপিত হয়।
এমসি কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন । তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বৃহত্তর সিলেট জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
সিরাজুল ইসলাম শিক্ষাজীবন শেষ করে প্রথমে তিনি বড়লেখার শাহবাজপুর হাইস্কুল এবং পরে পিসি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন।
১৯৬৬-৭০ সালে তিনি বড়লেখা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মেজর জেনারেল সি আর দত্ত নেতৃত্বাধীন সেক্টর -৪ এর সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ১ম ও ২য় সংসদ নির্বাচনে  বড়লেখা- জুড়ী ১ সংসদীয় এলাকা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত  হওয়া তৃনমূল রাজনীতিবিদ সিরাজুল ইসলাম ১৯৭২-৭৪ সালে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং বড়লেখা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রসঙ্গত সিরাজুল ইসলাম বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
১৯৮৬ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বড়লেখায় তিনি পুলিশের হাতে গুলিবিদ্ধ হন। ১৯৮৮ সালে বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে নানা কারণে রাজনীতিতে তিনি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।
জীবদ্দশায় অত্যন্ত সজ্জন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিচ্ছন্ন রাজনীতি বিদ হিসাবে বিশেষ করে তৃণমূলে সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের অত্যন্ত আপনজন ছিলেন সিরাজুল ইসলাম।
সিরাজুল ইসলামের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি বড়লেখা থানার তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তাঁর মায়ের নাম তসলিমা খাতুন এবং বাবা মরহুম আয়ুব আলী পেশায় জাহাজের নাবিক ছিলেন। জাহাজে চাকুরির সুবাদে প্রবাসে থাকার প্রচুর সুযোগ থাকলেও দেশ ও মাতৃভূমির টানে বার বার তা প্রত্যাখ্যান করেন।
মূলত সিরাজুল ইসলামের মা তসলিমা খাতুন তাকে দেশের কাজে উৎসর্গ করেছিলেন। রাজনীতিতে বার বার জেল-জুলুমের মুখোমুখি হতে হয়েছে,তারপরও মায়ের দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণায় সব বাধাকে তিনি অতিক্রম করেছেন। বাবা আয়ুব আলী চাকুরীর সুবাদে বছরের বেশীরভাগ সময় দেশের বাহিরে থাকাতে সিরাজুল ইসলাম তাঁর ছোট চাচা মরহুম ঈসাফ আলীর তত্ত্বাবধানে বড় হয়েছেন। তার শৈশব কেটেছে অনেক অনেক স্নেহ-মায়ার পারিবারিক বন্ধনে।
সিরাজুল ইসলামের বাবা ও চাচারা ছিলেন তিন ভাই ও ৩ বোন। বাকি চাচাদের কোন সন্তান না থাকায় সিরাজুল ইসলাম ও তিন বোন সবার আদর যত্নে বড় হয়েছেন।

তিনি সুজানগর ইউনিয়নের তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের বিশিষ্ট আতর ব্যবসায়ী মরহুম হাজী নছিব আলীর বড় মেয়ে জাহানারা ইসলামের সাথে ১৯৭৪ সালে বিবাহ বন্দনে আবদ্ধ হন। চার মেয়ে এক ছেলে সকলেই দেশের সর্ব্বোচ্চ  ডিগ্রিধারি।

সিরাজুল ইসলাম বড়লেখার অজমির সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে পরবর্তীতে পি সি হাই স্কুলে পড়াশুনা করেন। পরে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এম সি কলেজে স্নাতক পড়াশুনা করেন।
সে সময় পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনে তৎকালীন আইয়ুব খানের সিলেট সমাবেশে তিনি আইয়ুব খানের উপর জুতা নিক্ষেপ করেন । এতে তাঁর উপর হুলিয়া জারি হয়। ফলে তিনি এম সি কলেজ থেকে স্নাতক পরীক্ষা দিতে পারেন নি।
কিন্তু পড়াশুনার প্রতি তাঁর অদম্য আগ্রহের কারনে পরবর্তিতে তিনি হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহি বৃন্দাবন সরকারী কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি সিলেট ল- কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করলেও রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতার কারনে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে পারেন নি। যা নিয়ে তার অনেক আপসোস ছিল।

শিক্ষা পরবৰ্তী সময়ে সিরাজুল ইসলাম হবিগঞ্জের দেওয়ান আব্দুর রহিম হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন। দেওয়ান আব্দুর রহমান হাইস্কুলে অবস্থান কালে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজী তাকে নিজ এলাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করতে বলেন। এবং তিনি কালবিলম্ব না করে গহরপুর থেকে বিদায় নিয়ে নাড়ি পোতা ভুমি বড়লেখায় এসে তৃনমূল মানুষের পাশে দাড়ান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ সিরাজুল ইসলামের স্মৃতি রক্ষার দাবী

সিরাজুল ইসলাম ২০২০ সালের ৩ এপ্রিল শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৮ বছরে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)।রাজনীতি থেকে নিস্ক্রিয় হয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম প্রায় ১৫ বছর ধরে ইউরোপ এবং আমেরিকায় নিভৃতচারী জীবন বেঁচে নিয়েছিলেন। সিলেট বিভাগে স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তি সময়ের আওয়ামী লীগের একজন তুখোড় ত্যাগী নেতা হিসাবে সিরাজুল ইসলামের নাম উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে মৌলভীবাজার ও তার নিজ উপজেলায় আওয়ামী লীগ কে তৃনমূল মানুষের কাছে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে সংগঠিত করার তার অবদান ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

বড়লেখার সচেতনমহল মনে করেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগঠক,মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীন রাজনীতিবিদ প্রয়াত সিরাজুল ইসলামের স্মৃতি রক্ষার্থে বড়লেখায় মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত কোন একটি বিশেষ স্থান অথবা পৌর শহরের প্রধান সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলামের নামে নামকরণ করা হোক। দেশের শ্রেষ্ট সন্তান, বড়লেখার কৃতি রাজনীতিবিদ সিরাজুল ইসলামের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মদের কাছে তুলে ধরা মানে বড়লেখার রাজনৈতিক, সামাজিক ইতিহাস- ঐতিহ্যের আলোকিত বার্তা আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা বলেও মনে করি।

জাহেদ আহমদ রাজ; কমিউনিটি করেসপন্ডেন্ট লন্ডন;৫২বাংলা ও সমাজকর্মী।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন