বুধবার, ৪ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
বাহরাইনের কুটনৈতিক উপদেষ্টার সাথে বাংলাদশের রাষ্ট্রদূতের মত বিনিময়  » «   ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ইউরোপের দেশ গ্রীস  » «   লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বিশেষ সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত: ৩১ জানুয়ারীর মধ্যে নির্বাচন  » «   স্পেন বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফাজ জনি´র শ্বশুর মারা গেছেন  » «   জামিলা চৌধুরীকে হয়রানির প্রতিবাদে লন্ডনে মানববন্ধন করেছে  প্রবাসী অধিকার পরিষদ  » «   মোস্তফা সেলিম : অনাত্মীয় শহরের বন্ধু  » «   লন্ডনে পরিবেশ মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সাথে ৩ সদস্যের প্রতিনিধি  দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ  » «   করোনায় তিন কোটির বেশি বুস্টার ডোজ দেবে যুক্তরাজ্য  » «   ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার সভা অনুষ্ঠিত  » «   ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ পরিচয় শুধু রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষণ করা হোক  » «   বড়লেখা পৌরসভার বেশ কিছু স্থানে ময়লার ভাগাড়  » «   বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পালন করলো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল  » «   লন্ডনে জাতির জনকের ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পরিবেশমন্ত্রী  » «   বানিয়াচংয়ে সিএনজি’র দ্বিগুন ভাড়া আদায় নিয়ে হতাশ যাত্রী  » «   হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের ষষ্ট তলা নির্মাণের সভা: ২০ সেপ্টেম্বর দাতাদের সার্টিফিকেট প্রদানের সিদ্ধান্ত  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

করোনা পরিস্থিতিতে অসহিষ্ণু না হয়ে, উদ্ভাসিত জীবনের প্রত্যাশায় আসুন সাময়িক সংকট মোকাবেলা করি



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 261
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনাভাইরাস বা “কোভিড – ১৯” প্রতিরোধে বৃটিশ জনগণের বাড়িতে বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সতর্কতামূলক চিঠি পাঠিয়েছিলেন গত বছরের এপ্রিলে।। বৃটেনের প্রায় তিন কোটি পরিবারকে ওই চিঠি পাঠাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৮ লক্ষ পাউন্ড। চিঠির সাথে সংযুক্ত করা হয়েছিল সরকারি নিয়ম কানুন ও স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য সম্পর্কিত লিফলেট।আমি মনে করি বর্তমান বৈশ্বিক সংকট নিরসনে ও মহামারীর বিস্তার ঠেকাতে এখন সবচেয়ে জরুরি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুদক্ষ জনবল গঠন , সঠিক তথ্য – উপাত্তের যথাযথ বিশ্লেষণ এবং সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ব্রিটিশ সরকারের যে শ্লোগান বারবার টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে “এন এইচ এস কে রক্ষা করুন, জীবন বাঁচান ” – এর প্রতি আমাদের সবার শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। অর্থাৎ সম্ভব হলে পুরোটা সময় বাড়িতে থাকতে হবে, কেবল খাবার, ঔষধ কেনার জন্য এবং ব্যয়াম করার উদ্দেশ্যে কিছু সময়ের জন্য বাইরে যাওয়া যাবে, কাজে তখনই যেতে হবে যদি বাড়ি থেকে কাজ করার সুবিধা না থাকে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, অযথা কোনো জায়গায় ভ্রমণ করা যাবে না ইত্যাদি।

সুপ্রিয় পাঠক করোনা ভাইরাস বা কোভিড – ১৯ কি? এর প্রভাব, বিশ্বব্যাপী কতজন এপর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে, এযাবৎ কতজনের মৃত্যু ঘটেছে, এসব কিছু নিত্য টিভিতে, রেডিওতে,অনলাইনে , খবরের কাগজে আপনারা দেখছেন এবং শুনছেন। তাই এনিয়ে আবারো বিস্তারিত আলোচনা করে আপনাদের বিরাগভাজন হতে চাই না। আজ আমার লেখার মুখ্য উদ্দেশ্য হলো, করোনা ভাইরাসের আগমনে আমাদের স্বাভাবিক দৈনিন্দন জীবনে যে প্রভাব পড়েছে সে সম্পর্কে কিছু কথা বলা ।

করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ঢেউয়ের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে লক্ষ লক্ষ প্রাণের। তারপরও আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক দিকের পাশাপাশি বেশ কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। যেমন ধরুন বিশ্বব্যাপী এই মহামারী আমাদের সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। ধর্মপ্রাণ মানুষরা বিশ্বাস করেন যে , এই অদৃশ্য শত্রুর ভয়ংকর থাবা থেকে কেবলমাত্র সৃষ্টিকর্তাই পারেন আমাদের উদ্ধার করতে। তাই এখন সময় এসেছে বেশি বেশি ইবাদাত – বন্দেগী করে তাঁর সান্নিধ্যে আসা। যারা কোনো ধর্মে বিশ্বাস করেন না বা যারা নিজেদের নাস্তিক বলে দাবী করেন , তাদের জন্যে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব সম্পর্কে ভেবে দেখার একটি সুযোগ এখন এসেছে।এ সুযোগটিকে কি আপনারা কাজে লাগাবেন ? আপনাদের ভুলে গেলে চলবেনা যে, করোনা প্রতিরোধে বিজ্ঞান কোনো চিরস্থায়ী সমাধান দিতে পারছেনা।সরকার থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, নার্স, কেয়ার কর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বৃটেন ও বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্ব করোনার কাছে পরাস্ত।

এ দুঃসময়ে মা – বাবাদের বলতে চাই , দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বাড়িতে বসে না থেকে আপনারা আপনাদের সন্তানদের সাথে কোয়ালিটি  সময় কাটাবার পরিকল্পনা করুন।আপনার সন্তান যদি স্কুল পড়ুয়া হয়ে থাকে, তাহলে তারা নিশ্চয়ই অনলাইনে হোমওয়ার্ক পাচ্ছে। তাদের হোমওয়ার্কে সাহায্য করুন, তাদের জন্য সৃজনশীল ক্রিয়াকলাপের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, তাদের সাথে বসে ছবি আঁকুন , তাদের সাথে বই পড়ুন, আপনার বাড়িতে যদি বাগান থাকে তাহলে এক সাথে বাগানে কাজ করুন, সন্তানদের ধর্মীয়  শিক্ষাদিন, তাদের সাথে আপনার  শৈশব ও কৈশোরের কথা আলাপ করুন, ছবির অ্যালবাম বের করে পুরোনো  স্মৃতি রোমন্থন করুন, কেইক বেকিং করা শেখাতে পারেন, যেহেতু তারা বাইরে যেতে পারছেনা , সেহেতু তার দাদা , দাদি, নানা , নানী , কাজিনদের সাথে কথাবলার জন্য ফেইসটাইমের আয়োজন করতে পারেন, কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বড় সন্তানদের উৎসাহিত করুন ছোটদের সাথে সময় কাটাতে, ফলে ভাই – বোনদের মধ্যকার সম্পর্ক আরো নিবিড় হবে। কম্পিউটার বা ল্যাপটপে গেইমস খেলুন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রতিযোগিতামূলকভাবে ক্যারাম, দাবা, লুডো খেলতে পারেন, কিছু সময় বাগানে গিয়ে ব্যায়াম করতে পারেন, উঠোনে ফুটবল, ক্রিকেটে বা বাস্কেট বল খেলুন।বাড়িতে ট্রেডমিল মেশিন থাকলে দৌড়াতে পারেন।

তাছাড়া আমি মনে করি আপনার সন্তানদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেয়ার মক্ষম সময় এখন। তাদের বাংলা বর্ণমালাগুলি শিখিয়ে দিন। বাংলা শিল্প,সংস্কৃতি,কৃষ্টির সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। গান শুনতে পারেন, আবৃত্তি চর্চা করতে পারেন।আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে “টোকিও অলিম্পিক্স” শুরু হবে, বাড়িতে সবাই একসাথে বসে টিভিতে “অলিম্পিক গেইমস” উপভোগ করুন।এছাড়া টিভিতে আপনার সন্তানের প্রিয় অনুষ্ঠান একসঙ্গে বসে দেখুন। তাদের সেলাইয়ের কাজ শেখাতে পারেন, প্রতিদিন সময় অতিবাহিত করার জন্য বিভিন্ন ধরণের ক্রিয়াকলাপের ব্যবস্থা করলে আমার বিশ্বাস ছেলে – মেয়েরা বাড়িতে বসে আর বিরক্তবোধ করবেনা। তাদের কোনো অনুযোগ থাকবে না। আপনারাও একঘেঁয়ে অনুভব করবেন না। আমার ধারণা, সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির এ এক সুবর্ণ সুযোগ! অনুরোধ, এসুযোগ হাতছাড়া করবেন না। মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সামাজিক দূরত্বের মতো কোভিড সুরক্ষা বিধির ব্যাপারে সন্তানদের ধারণা দিন। যাতে করে স্কুলে, কলেজে গেলে এ বিধিগুলোকে মোকাবেলা করতে তাদের কোনো অসুবিধা না হয়। আরেকটি কথা সব স্বামীদের উদ্দেশ্যে মজা করে বলতে চাই, স্ত্রীদের প্রতি প্রয়োজনের তুলনায় অধিকতর সহানুভূতিশীল হবেন ।মনে রাখবেন রেস্টুরেন্টগুলো এখন প্রায়ই বন্ধ থাকে।না খেয়ে থাকার চেয়ে বরং স্ত্রীদের রান্নাঘরে সাহায্য করুন।

অনেকের ব্যবসা – বাণিজ্য আপাতত বন্ধ, যারা মিনিক্যাব বা উবার চালান, নিয়মিত খদ্দের পাচ্ছেন না। খেয়াল রাখবেন আপনাদের ধৈর্যচ্যুতি যেন না ঘটে। সৃষ্টিকর্তার উপর পূর্ণ ভরসা রাখুন।তিনি ধৈর্যশীলদের পছন্দ করেন। এটা আমাদের জন্য একটি সাময়িক পরীক্ষা।টিভি ও পত্রিকাসূত্রে জেনেছি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে খাদ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে জনগণকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছেন ।মনে রাখবেন, সে সব ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে “সূরা আর রাহমানে ” সৃষ্টিকর্তার কড়া নির্দেশ রয়েছে। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা আসছে। দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি যেনো না ঘটে সে ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সচেষ্ট থাকবেন। বৃটেনে ইস্টার বা ক্রিসমাসের সময় খদ্দেরদের কথা মনে রেখে বিভিন্ন জিনিসের “সেইল” চলে। অর্থাৎ জিনিসপত্রের দাম কমানো হয়।বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ীরা এ থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের অনুরোধ করবো পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সংবেদনশীল হতে।

কয়েকমাস আগে ইংল্যান্ডের প্রাইমারি ও নার্সারি স্কুলের পাশাপাশি অফস্টেড কয়েকটি সেকেন্ডারি স্কুলও পরিদর্শন করেছে। উদ্দেশ্য ছিলো সেকেন্ডারি স্কুলের ইয়ার সেভেনের শিক্ষার্থীরা তাদের নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে কি না তা অনুসন্ধান করে দেখা। রিপোর্টে বলা হয়েছে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মানসিক চাপের মধ্যে আছে। তাই এধরণের মানসিক চাপ মোকাবেলায় ব্যক্তিগত, সামাজিক ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শিক্ষার (PSHEE) উপর জোড় দিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্কুলে না গিয়ে বাড়িতে বসে “রিমোট লার্নিং” অনেক শিক্ষার্থীদের জন্য ফলপ্রসূ হচ্ছেনা। কারন বেশিরভাগ “ফ্রি স্কুল মিল” শিক্ষার্থীদের বাড়িতে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ নেই। মা -বাবার আর্থিক অস্বচ্ছলতা এর মূল কারণ।

আবার দেখা গেছে একই বাড়িতে স্কুল পড়ুয়া চার বা পাঁচ সন্তানের জন্য রয়েছে মাত্র একটি ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট। ফলে সবার পক্ষে “রিমোট লার্নিং” এ অংশ নেয়া সম্ভবপর নয়। সে সাথে কোনো কোনো পরিবারে রয়েছে মাত্র একটি বা দুটি মোবাইল ফোন যা কিনা প্রত্যেকের প্রয়োজন মেটাতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে এসব ছেলে – মেয়েরা ধনী পরিবারের ছেলে – মেয়েদের তুলনায় লেখাপড়ায় এরইমধ্যে পিছিয়ে পড়েছে।তাই অপেক্ষাকৃত গরীব কিংবা স্বল্প আয়ের মা – বাবা, অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে ভীষণ চিন্তিত। সংশ্লিষ্টরা আরো বলছেন, সরকারের উচিত এ সমস্যা সমাধানে স্কুল গুলোর ফান্ডিং বাড়িয়ে দেয়া, যাতে করে স্কুলগুলো সব শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট দিয়ে সাহায্য করতে পারে। আর সে সঙ্গে বিভিন্ন বড়ো বড়ো কোম্পানি গুলোকে অনুরোধ করা, তারা যেনো তাদের ব্যবহৃত কম্পিউটার বা ল্যাপটপগুলো অনুদান হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে। বাংলাদেশ সরকারও এ ধরণের পদক্ষেপ নিতে পারে।

মা – বাবাদের সবিনয় অনুরোধ করবো আপনার সন্তানদের সামনে ঝগড়া – ঝাটি করবেন না। পারিবারিক কোন্দল বা গৃহ সহিংসতা থেকে বিরত থাকুন।পত্র – পত্রিকা, টিভি সংবাদ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই ব্রিটেন ও বাংলাদেশে বিবাহ বিচ্ছেদ অথবা আত্মহত্যার খবর শোনা যাচ্ছে।রেকর্ড ক্রমেই বাড়ছে। যা আপনার সন্তানদের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।আপনার সাথে সাথে আপনার সন্তানরাও মানসিক রোগীতে পরিণত হবে। যার প্রভাবে সমাজে ও দেশে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।করোনার কারণে বিশেষকরে অনেক মহিলা বাড়ির বাইরে যেতে না পেরে মানসিক রোগীতে পরিণত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন বলেও জানা গেছে। এসব ক্ষেত্রে পরিবারের অন্যান্যদের উচিত হবে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত প্রসারিত করা। পত্র – পত্রিকায় এও পড়েছি যে, বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বৃদ্ধ মা – বাবাকে তার সন্তানরা রাস্তায় বা বনে – জঙ্গলে ফেলে এসেছে।আবার কেউ কেউ হাসপাতালে মা – বাবাকে ফেলে এসে পরে আর খোঁজ খবর নিতে যায়নি।লাশের সৎকার করেনি। এসব দুর্ভাগা সন্তানদের জন্য সত্যিই করুণা হয়। তারাও যে একদিন বৃদ্ধ হবে সে কথা তারা ভুলে যায় কি করে? দোহাই এমনটি কেউ করবেন না।সৃষ্টিকর্তাকে ভয় করুন।

সুপ্রিয় পাঠক, প্রতি একশো বছরে বিশ্বব্যাপী মহামারীর প্রাদুর্ভাব নতুন কোনো ঘটনা নয়। আমরা যদি পিছনে ফিরে তাকাই, তাহলে দেখবো, ১৭২০ সালে ফ্রান্সের মার্সেই শহরে দেখা দিয়েছিলো “বুবোনিক মহামারী”। পৃথিবীব্যাপী প্রায় এক লক্ষ মানুষ এতে প্রাণ হারিয়েছিলেন। ১৮২০ সালে ভারতবর্ষসহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলোতে দেখা দিয়েছিলো “কলেরা মহামারী”। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনে মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। তখনও প্রায় এক লক্ষ মানুষ মারা যান। আর ১৯২০ সালে “স্প্যানিশ flu” তে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ছিল প্রায় দশ কোটি। যা এখন পর্যন্ত মানব ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মহামারী হিসেবে বিবেচিত।

ঠিক একশো বছর পর আমরা মুখোমুখি হয়েছি করোনাভাইরাসের। উৎপত্তি চীনের উহান প্রদেশে। জানি না এ মহামারী কতদিন স্থায়ী হবে। মৃতের সংখ্যাই বা কত হবে। তবে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে , সংক্রমণের ধারাবাহিকতা ভাঙতে না পারলে বৃটেনের প্রায় শতকরা ৬০ (ষাট ) ভাগ মানুষ সংক্রমণের শিকার হবে। যথাযত প্রশমনের ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে মৃতের সংখ্যা পাঁচ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। এরইমধ্যে বৃটেনের প্রায় শতকরা ৮৭ দশমিক ৬ ভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন শতকরা ৬৭ দশমিক ৫ ভাগ  । উল্লেখ্য ইউরো ফুটবল টুর্নামেন্ট ও উইম্বলডন টেনিস প্রতিযোগিতার পর ইংল্যান্ড তথা ব্রিটেনে করোনা সংক্রমণের হার ও মৃতের হার দুটোই বেড়েছে। টিকার দুটো ডোজ নেয়া প্রাপ্ত বয়স্কদের কেউ কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। অপেক্ষাকৃত কম বয়েসীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন । ফলে আমাদের সবাইকে খুব সতর্ক থাকতে হবে। আপনার পরিবারে যদি ঝুঁকিপূর্ণ রোগী থেকে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনাকে আরো বেশি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৯ দিন হাসপাতালে ছিলাম। স্বচোক্ষে অন্যান্য রোগীদের প্রাণে বাঁচার আহাজারি দেখেছি। খুব কাছ থেকে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে দেখেছি। মৃত্যুর কাছে মানুষ যে কতো অসহায় হতে পারে তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি তখন। করোনার মরণকামড় থেকে আল্লাহ আমাকে সেযাত্রায় রক্ষা করেছেন। ফিরে পেয়েছি নতুন জীবন। আপনাদের সবার কাছে বিনীত অনুরোধ, আমাদের চারপাশে আপনজন আর পরিচিত কিংবা অপরিচিত যারা যন্ত্রনাময় আর দুর্বিসহ দিন কাটাচ্ছেন, তাদের কথা যেনো আমরা ভুলে না যাই। আমাদের এমন কিছু করা সমীচিন হবে না যাতে করে তারা জীবন যুদ্ধে নিজেদের অসহায় আর অনাকাঙ্খিত মনে করে নীরবে – নিভৃতে কষ্ট পেতে পারেন। আমাদের চারপাশে করোনায় আক্রান্ত পরিবারগুলোকে সামাজিকভাবে একঘরে না করে তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি । আত্মীয়, প্রতিবেশী, বন্ধু – বান্ধব ও পরিচিতরা অর্থ বা খাবার কষ্টে আছে কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়াও আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।  করোনার নতুন ধরন আরো প্রাণঘাতী। আসুন আমরা সবাই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলি আর মহান সৃষ্টিকর্তাকে প্রতিনিয়ত স্মরণ করি। ভুলে গেলে চলবে না যে, তিনিই আমাদের একমাত্র আশ্রয়।

করোনা সময়ে আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। মানুষের মনে মিশ্র অনুভূতি দ্রবীভূত হচ্ছে। দোহাই বাড়িতে ম্রিয়মাণ হয়ে বসে থাকবেন না। সম্ভব হলে ধর্ম বা অন্য বিষয়ে পড়াশুনা করুন, লেখালেখি করুন।এন এইচ এস এর স্বেচ্ছাসেবী প্রজেক্টে যোগ দিন। যে সব বয়স্ক লোক একাকিত্বের জীবন কাটাচ্ছেন টেলিফোনে তাদের খোঁজ খবর নিন। আপনি কেনাকাটা করতে যাবার সময় প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসা করুন তাদের কোনো সাহায্য লাগবে কিনা। আসুন এভাবে আমরা দৈনন্দিন জীবন যাত্রার সাময়িক সংকট মোকাবেলা করি। করোনা পরিস্থিতিতে অসহিষ্ণু না হয়ে অপেক্ষা করি উদ্ভাসিত জীবনের। মহান সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই আমাদের সহায় হবেন ইন্শাআল্লাহ।

লেখক: শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও কমিউনিটি কর্মী।

আরও পড়ুন:

ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভঙ্গ, শেষকৃত্য থেকে ইতালির পুনর্জন্ম


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 261
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক