শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
কারী ইন্ড্রাস্টির সংকট মোকাবেলায় দরকার সমন্বিত উদ্যোগ  » «   বিবিসি প্রকাশ করেছে উইঘুর নির্যাতন নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য  » «   মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপন  » «   মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ আরও ২ দেশে: বেলজিয়ামে ২১ দিনের কোয়ারেন্টিন ঘোষণা  » «   শুধুই নারীদের পরিচালনায় প্রথম সৌদি আরবের আকাশে উড়ল ব্যতিক্রমী ফ্লাইট  » «   গোলাপগন্জে চেয়ারম্যান প্রার্থী এলিম চৌধুরী’র মতবিনিময়  » «   দুদকের মামলায় হাজী সেলিম কারাগারে  » «   নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাশিয়ার মুদ্রা রুবল’র উত্থান  » «   কারী শিল্পের সংকট মোকাবেলায় সিবিআই প্রেসিডেন্টের কাছে  বিসিএ’র পাঁচ দাবী উপস্থাপন  » «   গোলাপগঞ্জে ভোটার হাল নাগাদ শুরু  » «   বার্সেলোনায় মাদারীপুর সমিতির ঈদ পুনর্মিলনী  » «   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসায় স্পেনের প্রেসিডেন্ট  » «   আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর চিরবিদায়  » «   ইতালির জেনোভায়‌ প্রবাসীদের কনস্যুলেট সেবা প্রদান  » «   বিয়ানীবাজার থানা জনকল্যাণ সমিতি ইউকে‘র দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

ডুমুরিয়ায় উপহারের ঘর পেয়ে চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

বছরের পর বছর ঘর না থাকার কষ্টের জীবনও শেষ হতে যাচ্ছে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আধা পাকা ঘর এবং জমি পাচ্ছেন ডুমুরিয়ার এরকমের মানুষ।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপকারভোগীদের ঘর বুঝিয়ে দেবেন।
মুজিব বর্ষের মধ্যে সবার জন্য ঘর নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৯ লাখ পরিবারকে ঘর করে দেবে শেখ হাসিনার সরকার।

দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় মানুষদের মধ্যে যাদের ভূমি নেই তাদের সরকারের খাস জমি থেকে ২ শতাংশ ভিটে এবং ঘর দিচ্ছে সরকার। যাদের ভিটে আছে ঘর নাই তাদের ঘর দিচ্ছে সরকার।

প্রতিটি ঘর দুই কক্ষ বিশিষ্ট। এতে দুটি রুম ছাড়াও সামনে একটি বারান্দা, একটি টয়লেট, একটি রান্নাঘর এবং একটি খোলা জায়গা রয়েছে। পুরো ঘরটি নির্মাণের জন্য খরচ হবে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং মালামাল পরিবহনের জন্য ৪ হাজার টাকা দেওয়া হবে প্রতি পরিবারকে।

খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত এসব ঘর। যারা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছেন তাদের চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের স্বামী পরিত্যক্তা হাচিনা বেগম,
বলেন, এক মেয়ে নিয়ে বাঁশের কুঞ্চির বেড়ার ঝুপড়িতে থাকি। দিন মজুর খেটে কোনো রকমে জীবন চলছে। নিজের একটা ঘর হবে কোনোদিন ভাবিনি। প্রধানমন্ত্রীকে দোয়া করি তিনি আমাদের ঘর দিয়েছেন, জমি দিয়েছেন।

ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউনিয়নের চাকুন্দিয়া গ্রামের ভ্যান ড্রাইভার। ফজর‌আলী গাজী, বলেন, আগে সরকারি খাস জমিতে খড়ের চালার ঘরে থাকতাম। নিজের ঠিকানা ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ঘর ও জমি দিয়েছেন,
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মুজিব বর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না- সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে সারাদেশে ৬৯ হাজার ৯০৪ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ঘর দিচ্ছে সরকার।

৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ খাস জমির মালিকানা দিয়ে বিনা পয়সায় দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী প্রদান করবেন। একইসঙ্গে ব্যারাকের মাধ্যমে ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হবে বলে জানান মাহবুব হোসেন।

প্রায় ৬৯ হাজার পরিবারকে ঘর দেওয়ার পর থেকে আগামী ১ মাসের মধ্যে আরও ১ লাখ ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানান মাহবুব হোসনে।

সারা বাংলাদেশে ঘরও নাই, জমিও নাই এমন পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১। ভিটেমাটি আছে, ঘর জরাজীর্ণ কিংবা ঘর নাই এমন পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা বাংলাদেশে যে তালিকা করা হয়েছে সব মিলিয়ে সেই তালিকায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবার রয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের নথি থেকে জানা যায়, ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ণ নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস অবধি ৩ লাখ ২০ হাজার ৫২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়।
আশ্রয়ণ ২ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো- ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্ন অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, ঋণপ্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা এবং আয় বাড়ে এমন কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন