শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
অসুস্থ চারখাই ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন মুরাদ চৌধুরীর আশু সুস্থতা কামনায় লন্ডনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «   আলীনগর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে‘র আত্নপ্রকাশ  » «   অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   তরুণদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা: মেয়র লুৎফুর রহমান এবার চালু করলেন ইউনির্ভাসিটি বার্সারি স্কিম  » «   ‘টি আলী স্যার’কে নিয়ে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গানের চিত্রায়ণ  » «   বিবিসিজিএইচ এর বিয়ানীবাজারের মোল্লাপুর-এ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান  » «   কবিকণ্ঠের সুবর্ণরেখায় শিক্ষাব্রতী শীর্ষক সুহৃদ আড্ডায় বক্তারা- অগণন প্রাণে আলো জ্বেলেছেন মো. শওকত আলী  » «   স্পেন-বাংলাদেশ প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে  » «   টি আলী স্যারকে নিয়ে লেখা আব্দুল গাফফার চৌধুরী’র গানে সুর দিলেন মকসুদ জামিল মিন্টু  » «   লন্ডনে প্রকাশক ও গবেষক মোহাম্মদ নওয়াব আলীর সাথে মতবিনিময় ও ‘বাসিয়ার বই আলোচনা‘র  মোড়ক উন্মোচন  » «   ঢাকা এন আর বি ক্লাবে – ‘বাঙালীর বিয়েতে বাংলাদেশের পোশাক’ ক্যাম্পেইনের নেটওয়ার্কিং মিটিং  » «   প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঢাবি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে’র সভাপতির সাক্ষাৎ  » «   লন্ডনে গোলাপগঞ্জের কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সাথে সরওয়ার হোসেনের মতবিনিময়  » «   বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের মানুষের সেবায় আজীবন পাশে থাকবো -সরওয়ার হোসেন  » «   লন্ডনে  EXPLORE BEANIBAZAR প্রদর্শিত হবে ২২ জানুয়ারি  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

ডুমুরিয়ায় বেগুন চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ডুমুরিয়ায় বেগুন চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ‌সাইফুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান শুভ সহ অনেকেই। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার মোট ১৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে আটলিয়া ইউনিয়নের সাহস,খলশী,ভরাতিয়া গ্রামের মানুষ সাধারণত সারা বছরে এ সব ফলনের উপর নির্ভরশীল। তা দিয়ে চলে তাদের জীবন জীবিকা। যে সব কৃষকের নিজস্ব জমি নেই তারাও অন্যের জমি লিজ নিয়ে বেগুন চাষ করে শতাধিক পরিবার নিয়ে সচ্ছল ভাবে জীবন-জীবীকা করছে।

এ অঞ্চলের কৃষকরা সারা বছরই বিভিন্ন মৌসুমে সবজির আগাম চাষ করে বদলে দিয়েছে নিজের ভাগ্যের চাঁকা। খুচরা পাইকারী ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি বেগুন ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জেলার বাজার গুলোতে খুচরা বিক্রি করেন। বর্তমানে কৃষক-কৃষানী কেউ ঘরে বসে নেই। সবাই জমিতে বেগুন তোলা ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন । বেগুন চাষ করে এ অঞ্চলের শত শত কৃষক-কৃষানী স্বাবলম্বী হয়েছেন। এর মাঝে নাম উল্লেখ করা যায় কালিকাপুরের পঙ্কজ কুন্ডু, ডেলভিটা, কুলবাড়িয়ার সুরেস্বর মল্লিক , আসাদুজ্জামান, বরাতিয়ার কামাল বাওয়ালী, শোভনা, নিউটন মন্ডল, আমভিটা, সাইফুল ইসলাম, সাহস, রামকৃষ্ণ মল্লিক প্রমূখ ।

তবে খরিপ-২ (বর্ষা মৌসুমে) বেগুনের বাম্পার ফলন হলেও বেগুনের বাজার দর কম থাকা এবং কিছু কিছু বেগুন ক্ষেতে ডগা ছিদ্রকারী পোঁকা আক্রমনের ফলে কৃষকরা দুচিন্তায় পড়েছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,চলতি খরিপ-২ (বর্ষা মৌসুমেও) কোন জমি আর পতিত নেই বিস্তির্ণ জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে সবুজের সমাহার।

উপজেলার সাহস ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম এর ছেলে বেগুন চাষী ইমন ইসলাম জানান সে ২বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ।এছাড়া খনিয়া ইউনিয়ন সহ শত শত কৃষক জমিতে বেগুনসহ বিভিন্ন প্রকার সবজির চাষ হয়েছে। কৃষকরা নিজের জমির পাশাপাশি অন্যের জমি বন্দক নিয়ে প্রতিবছরেই বেগুন চাষসহ বিভিন্ন প্রকারের সবজি যেমন-পটল,লালশাক, মুলা শাক, লাউ শাক লাউ, কাঁচা মরিচ চাষাবাদ করে। এতে চাষীরা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। তারা অন্য বছর গুলোতে যাবতীয় খরচ মিটিয়ে এক বিঘা বেগুন ক্ষেতে ৮০/৯০ হাজার টাকা আয় করে। আয়ের টাকা দিয়ে তারা সচ্ছল ভাবে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে সুন্দর ভাবে জীবন-জীবিকা করছেন।

কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, সে ৪ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে ১০থেকে ১২লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন ।‌ তিনি জানান ইতিমধ্যে ১লক্ষ টাকার বেগুন বিক্রিয করেছেন।

উপজেলার খলশী গ্রামের বেগুন চাষী‌ মনিরুজ্জান শুভ জানান, ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সামান্য প্রশিক্ষন নিয়ে জীবিকার তাগিদে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছি কৃষি কাজে। বেগুনের বাম্পার ফলন ও দাম ভাল হলে প্রতি বিঘায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বিক্রি হবে। তবে এ বছর খরিপ-২ মৌসুমে কিছু বেগুনের বীজ ভাল থাকায় গাছে এবার বেশি ফলন দেখা যাচ্ছে। কিছু কিছু বেগুন ক্ষেতে ডগাছিদ্র পোঁকার আক্রমন করেছে। গাছও মরে যাচ্ছে। বেগুন গাছ বড় বড় দেখা গেলেও গাছে প্রচুর বেগুন আছে । বর্তমানে বেগুন ২২শত থেকে ২৪শত শত টাকা দরে মন বিক্রি হচ্ছে।

বেগুনের দাম বেশি থাকায় এ বছর কৃষকের লোকসান ঘুনতে হবে না।এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন জানান,খরিপ-২ (বর্ষা মৌসুমে) বেগুন চাষের উপযোগী হওয়ায় উপজেলায় চলতি বছরে ৩২০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বেগুনের চাষ করেছে। শীত মৌসুম আস্তে আস্তে এর পরিমান ৪শত থেকে ৫শত হেক্টর হবে। বেগুন চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষকদেরকে প্রশিক্ষন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় যথেষ্ট সাফল্য অর্জিত হয়েছে এবং অনেকেই স্বাবলম্বি হয়েছেন। ডগাছিদ্র পোঁকা আক্রমনে উপজেলা কৃষি অফিস মাঠ পর্যায়ে গিয়ে রোগ দমনের জন্য কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছেন। তবে আশা করি কিছুদিন গেলে কৃষকরা বেগুনের বাজার মূল্য ভাল পাবেন।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন