শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ মৃত্যু সেখানেই শেষ কথা নয়..  » «   শিল্প উদ্যোক্তা ও ক্রীড়া সংগঠক মো: জিল্লুর রাহমানকে  লন্ডনে সংবর্ধনা  » «   ঈদের সামাজিক গুরুত্ব ও বিলাতে ঈদের ছুটি   » «   ব্রিটেনে ঈদের ছুটি  প্রসঙ্গে  » «   হজের খুতবা বঙ্গানুবাদ করবেন মাওলানা শোয়াইব রশীদ ও মাওলানা খলিলুর রহমান  » «   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তাবুর শহর মিনায় হাজিরা  » «   ঈদের ছুটি : আমাদের কমিউনিটিতে সবার আগে শুরু হোক  » «   ঈদের দিনে বিলেত প্রবাসীদের মনোবেদনা  » «   বিলেতে ঈদ উৎসব এবং বাঙ্গালী কমিউনিটির অন্তর্জ্বালা  » «   জলঢুপে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমান কেম্প  » «   তিলপাড়ায় বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   করিমগঞ্জ দিবস  » «   ঈদের ছুটি চাই : একটি সমন্বিত উদ্যোগ অগণিত পরিবারে হাসি ফুটাতে পারে  » «   ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন বন্ধুর  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


ভিপি নুরের নতুন জোট এবং বাম বলয়



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

 

বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এবারও বাম গণতান্ত্রিক জোটে থেকেও নুরের সাথে আরেক জোট করলেন জোনায়েদ সাকী । বাম গনতান্ত্রিক জোট ব্যাপারটাকে কিভাবে নিচ্ছে , তা হয়ত তারাই ভাববে। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বামজােটে সাকী যেন অনিবার্য এক  নাম। বাম জোটে সিপিবি বৃহৎ দল, তারপর বাসদ বা অন্যান্য দলের কর্মী নেতাদের কাছে সাকী সাংগঠনিকভাবে অবশ্যই দুর্বল । অথচ সিপিবি-বাসদ তাদের নিজের অস্থিত্ব-ঐতিহ্য’র-শক্তি নিয়েও সাকীকে লাই দিয়ে যাচ্ছে ।

টকশোতে ডাকসু’র সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বিপ্লবীদের মত কথা বলেন। ভালো লাগে তাঁকে, এখনও তাঁকে পছন্দ করি, যখন তিনি জনবান্ধব ইস্যু নিয়ে থাকেন সোচ্চার। কিন্তু তাঁর ছাত্র অধিকার পরিষদ দেশের আপামর জনগণের কাছে পৌছাতে পারে নি এখনও, এটাই সত্য ।  তবে তাঁর একটা ইমেজ তিনি তৈরী করতে পেরেছেন ইতিমধ্যে, বিশেষত তরুনদের মাঝে । কিন্তু তাঁরও সংগঠনের বিভক্তির খবর দেখেছে মানুষ। বাংলাদেশে চলছে রাজনীতির বন্ধ্যাত্ব, তারপরও একটা অবস্তান ভিপি নুরের আছেই। যদিও আপামর জনগণের কাছে পৌছাতে তিনি কতটুকু এগিয়ে, সে প্রশ্নটা আছে ।

তাঁর রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে তিনি হয়ত একাধিক ডানা(উইং) খোঁজছিলেন, কিন্তু কোন সংগঠনই তাঁকে এই হিসেবে  নির্ভর করতে পারছে না, ছাত্রত্ব থেকে সদ্য বেরিয়ে বাংলাদেশে চটজলদি নেতা হবার মত অবস্থা এখন নেই । যদিও একটা নিস্প্রাণ সময়ে নুর রাজনীতিতে একটা প্রাণ দিয়েছিলেন অন্তত তরুণদের মাঝে । বিশেষত বার বার তার উপর আক্রমন-নির্যাতন হওয়ার পরও তিনি ক্যাম্পাসে ছিলেন, দাপিয়ে বেড়িয়েছেন দেশ-বিদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে।  মাঠে ছিলেন তিনি এবং অবিসংবাদিত নেতা হয়ে গিয়েছিলেন । ডাকসু নেতা হতে যে ত্যাগ কিংবা বিসর্জনের প্রয়োজন অতীতের ছাত্র নেতৃবৃন্দের মাঝে আমরা দেখেছি, তার প্রায় পুরোটাই ছিল তার ছাত্ররাজনীতির ক্যারিয়ারে। প্রচলিত ধারার ছাত্ররাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে তিনি কিংবা তাঁর ছাত্রসংগঠন ছাত্রদের দাবী-দাওয়া নিয়েই এগিয়ে এসেছিলো এবং খুব অল্প সময়েই তিনি নিস্তরঙ্গ রাজনীতিতে উজ্জল হয়ে উঠেছিলেন । এবং দুই যুগেরও বেশী সময় পরে ছাত্র রাজনীতেতে তথা বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন, ডাকসু ভিপি নির্বাচিত হয়ে।

খুব স্বাভাবিকভাবে সেজন্যই হয়ত নিজেকে নিয়ে অর্থাৎ নুর তার কনফিডেন্স নিয়ে অতি আশাবাদী এবং সবকিছুর নেতৃত্বেই থাকতে চাইছেন তিনি । যা সরকার বিরোধী মাঠের রাজনৈতিক দলগুলোর কেউই মেনে নিচ্ছে না কিংবা নেবেও না। সে হিসেবে টক শো নির্ভর আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আড়ালে আবডালে বিএনপি’র মতো প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিও নুরের কার্যক্রমকে পছন্দই করছেন । কারন নুর এখন যা করছেন, তা প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলও পারছে না । সরকারের রোষানলের কারনে হোক কিংবা জনগণ বিএনপি’র উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কারনেই হোক বিএনপি এখন বিবৃতি নির্ভর দলে পরিণত হয়েছে। যদিও সরকার এখনও বিএনপিকেই গুরুত্বের সাথে নিয়ে মাঠে কিংবা বক্তৃতায় ঐ খোঁড়া অশ্বের বিরুদ্ধেই কথা বলছে ।

সত্যি কথা হলো, নুরের একটা বিশাল দর্শক-শ্রোতা আছে সারা বিশ্বব্যাপী। এবং জনপ্রিয়তার এই জায়গাটাই তিনি ধরে রাখতে চাইছেন ।  কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক কিংবা সামজিক অবস্থা এখন যে পর্যায়ে আছে, সে জায়গায় লাখো ডিজিটাল দর্শক-শ্রোতা দিয়ে আন্দোলন এগিয়ে নেয়ার মত পরিবেশ নেই ।

এই যখন তার অবস্থা তখন যোগ হয়েছেন জোনায়েদ সাকী । সাকী- নুরের নেতৃত্বে জোটবদ্ধ হয়েছে চারটি সংগঠন ।সংগঠন হিসেবে জোনায়েদ সাকীর সংগঠনে (গণসংহতি আন্দোলন)ক’জন মানুষ আছে তা রাজনীতি সংশ্লিষ্ট মানুষদের অজানা নয় । কিন্তু তবুও তিনি বাম গণতান্ত্রিক জোট নামক জোটের শরীক । সিপিবি-বাসদের সাথে তার সংগঠনের নাম যতটুকু উচ্চারিত, তার চেয়ে অধিকভাবে উচ্চারিত সাকীর নাম বাম গনতান্ত্রিক জোটে । এমনকি দেশের একটা ক্ষুদ্র অংশের মাঝেও তার একটা ইমেজ আছেই। কারন তিনি বলতে পারেন । বিশেষত যারা টকশো দেখেন, তারা তাকে চেনেন ।

এই ইমেজের উপর ভর করে  বিভিন্ন সময় জাতীয় বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সাকীর ডাকও আসে । এরকমই একটা ডাক এসেছিলো তাঁর গত জাতীয় নির্বাচনের আগে । ড: কামাল হোসেনের ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে জোট বাধতে তখন হুড়মুড় করে অনেকেই গাটছাড়া বেধেছিলেন । আওয়ামী লীগ থেকে সিটকে পড়া ডাকসাইটে নেতা থেকে শুরু করে  বিএনপি সবাই এই প্রক্রিয়ায় মাঝ দিয়ে একটা কিছু করতে চেয়েছিলেন । সেসময়ও জুনায়েদ সাকী বাম গণতান্ত্রিক জোটে ছিলেন । ক্ষমতার পালাবদল হতেই পারে, এই বিবেচনায় অতি বাম ঘরানার ঐ তার্কিক সেদিন বিএনপির কলকাঠিতে ড: কামালের এ ঐক্যপ্রক্রিয়ার সাথে নিজেকে জড়িয়ে ছিলেন। এবং তিনি বাম গণতান্ত্রিক জোটকে অবগ্গা করেই সেদিন এমনকি মীর্জা ফখরুল যে সভায় উপস্থিত ছিলেন সেই সভায় বক্তৃতা দিয়েছেন এবং ঐক্য প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে সংসদমুখী হবার স্বপ্ন দেখেছিলেন ।

যা হবার ,তা-ই হয়েছে । কোন প্রক্রিয়াই ধোপে ঠিকে নি। আন্দোলন করতে হলে জনগনকে নিয়েই করতে হয় । শুধুমাত্র ফেসভ্যালুতে পাইওনিয়ার হওয়া যায় না । সুতরাং জোনায়েদ সাকীতো ছিটকে পড়বেনই। পড়লেনও। সেখানে কোন বিস্ময় ছিল না । স্বাধীনতা পরবর্তী অতি বিপ্লবিরা যেমন কখনো সামরিক শাষকের অংশীদার কখনো উচ্ছষ্টি বিরোধী দলীয় নেতা আর হাল আমলে নেড়া হয়ে মন্ত্রিত্ব থেকে বিদায় এই-ইতো অতি বিপ্লবীদের ক্রমধারা ।

কিন্তু কেন যে বাম জোট সেসময় ব্যাপারটাকে পাত্তাই দিলো না, তা এখনও ভেবে পাই না। যে সাকী তাদের জোটের বাইরে গিয়ে এমনকি বিএনপির সাথে ঐক্য করতে মঞ্চ কাঁপালেন, সেই মানুষটাকে আবারও তারা টেনে নিলেন । শুধু তাই না, তৎকালিন সময়ে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটিরও কেউ কেউ সাকীর এই উল্লম্ফন  নিয়ে কথা তোললে পার্টি তাদেরকে ভাল চোখে দেখে নি । বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে লেখায় ভর্ৎসনা শোনতে হয়। আজও বামজোটের শরীক জোনায়েদ সাকি । এবং সেই একইভাবে শুধুমাত্র প্রচার-প্রচারণা পেতে ভিপি নুরের সাথে গাটছাড়া বেঁধেছেন তিনি ।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতি নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটত আন্দোলন কম করছে না। মিটিং-মিছিল প্রতিনিয়তই হচ্ছে । কিন্তু বামজোটের বিভিন্ন শরীক দল কিছুটা কৌশলগত কারনেই হয়ত আওয়ামী লীগের এমন বিরুদ্ধাচরণে যাচ্ছে না, যাতে বিএনপি কিংবা জামাতীদের উত্থান হয় । এবং সরাসরি ভারত-বিরোধী স্ট্যান্ডও নিচ্ছে না ।   যে ব্যাপারটা হয়ত সাকী ব্যক্তিগতভাবে কিংবা তাঁর সংগঠন (যেটি এখনও রাজনৈতিক দলের মর্যাদাই পায় নি পুরোপুরি) ভালো চোখে দেখছে না। সাকী অতি বিপ্লবী চেতনা নিয়ে একটা ভিন্ন প্লাটফর্ম বানাতে চাইছেন। আর এই জায়গাটাতে নুরও সোচ্চার । সেজন্য ভিপি নুরুল হকের উচ্চারন বিএনপি ঘরানার সকল মানুষকেই টানছে। ভারত বিরোধী যে বলয় বাংলাদেশে আছে তারাও নুরকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে ।ভারতে একটা সাম্প্রদায়িক শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায়, কিন্তু এ কথার অর্থ এই নয় যে, ভারতের সকল নাগরিকই ঐ সাম্প্রদায়িক শক্তির পক্ষে কথা বলছে ?  ভারতের বামপন্থিসহ অন্য সবাই এর বিরুদ্ধে কথা বলছে, আন্দোলন করছে ।

বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এবারও বাম গণতান্ত্রিক জোটে থেকেও নুরের সাথে আরেক জোট করলেন জোনায়েদ সাকী । বাম গনতান্ত্রিক জোট ব্যাপারটাকে কিভাবে নিচ্ছে , তা হয়ত তারাই ভাববে। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বামজােটে সাকী যেন অনিবার্য এক  নাম। বাম জোটে সিপিবি বৃহৎ দল, তারপর বাসদ বা অন্যান্য দলের কর্মী নেতাদের কাছে সাকী সাংগঠনিকভাবে অবশ্যই দুর্বল । অথচ সিপিবি-বাসদ তাদের নিজের অস্থিত্ব-ঐতিহ্য’র-শক্তি নিয়েও সাকীকে লাই দিয়ে যাচ্ছে ।

এই-ই হলো আজকের বামবলয়ের দেউলায়িত্ব । নব্বই’র দশকের কমরেড ফরহাদের সিপিবি আজ পথ হারাচ্ছে । দৃঢ়তা নিয়ে শক্তিশালী কন্ঠ নেই বলেই সাকীদের মত পলে পলে লাফ মারাদের আদর করতে হয় । দেশ আর জাতির এই সময়ে যখন বামদের শক্ত ঐক্য প্রয়োজন, সেখানে ঐ অতিবিপ্লবীদের আশকারা দিয়ে নিজস্ব পার্টিতে দ্বন্ধ সৃষ্ঠি করার মধ্যি দিয়ে শুধু পার্টির অভ্যন্তরেই না, বাম বলয়ে যাদের আস্থা বিশ্বাস আছে তাদের হৃদয়ে চিড় ধরানো হচ্ছে আর বাম আন্দোলন ক্রমেই পথ হারাচ্ছে, ক্ষয়িষ্নু হচ্ছে  বাম দলগুলো, শীর্ণ হচ্ছে বাম শক্তি।

ফারুক যোশী : কলাম লেখক, প্রধান সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডটকম

লেখকের পূর্ববর্তী কলাম

দুর্যোগ-মহামারিতে ব্রিটেনের ভ্যাকসিন চ্যালেঞ্জ


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক