বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
মাথিউরা ইউনিয়ন উন্নয়ন সংস্থা ইউকে এর সম্মেলন ও  কার্যকরি কমিটি গঠিত  » «   প্রবাসী ৭ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিসিএ ও ইউকে বিবিসিআই’র সংবাদ সম্মেলন  » «   বিসিএ’র  ১৬তম  এওয়ার্ড অনুষ্ঠান ৩০ অক্টোবর  লন্ডনের পার্ক প্লাজায়  » «   সাত ব্যবসায়ীর ষড়যন্ত্রমূলক গ্রেফতারে বিচার এবং তাঁদের নিরাপদে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃক আঙ্গুরায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান  » «   স্পেনে বিয়ানীবাজার পৌরসভা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট বার্সেলোনা কমিটি গঠিত  » «   স্পেনে বাংলাদেশ কালচারাল ইয়ং ফেডারেশন কমিটি গঠিত  » «   গোলাপগঞ্জে সাংবাদিক জাহেদের উপর সন্ত্রাসী হামলা  » «   মাসা আমিনির মৃত্যুতে ইরানের ‘নীতি পুলিশ’ এখন আলোচনায়  » «   অনশনে বসতে আ’লীগ কার্যালয়ে ইডেন ছাত্রলীগের ১২ নেত্রী  » «   ইতালিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিএনপি’র ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   ইতালির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি ও সিনেট পদপ্রার্থীদের রোমের বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে মতবিনিময়  » «   রানির প্রস্থান, রাজার আগমন এবং আধুনিক ব্রিটেন  » «   আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বাংলাদেশি তাকরিম  » «   ফুটবলার আঁখির বাবার সঙ্গে অসদাচরণ, দুই পুলিশ ক্লোজড  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


  বিথীর ২৩০ টাকায় সফল উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

যে কোন সফলতার পেছনে লুকিয়ে থাকে ছোট- বড় গল্প। সেই গল্পগুলো কখনও থাকে আনন্দে ভরপুর আবার কখনও  অনেক কষ্ট আর পরিশ্রমে মোড়ানো। নতুন উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রেও এর ভিন্নতা হয় না। কেউ হয়তো একটু সহজে সফলতা পায়, আবার কাউকে অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে সফলতার মুখ দেখতে হয়। জীবনের বৈচিত্র এখানেই। সবার জীবন আলাদা, সবার গল্প আলাদা আবার সব গল্প কোথায় যেনো এক সূত্রে গাঁথা।

সাহারা আখতার বিথী একজন উদ্যোক্তা। বলেছেন, তার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প। শুরুতেই তিনি বলেছেন , গল্পটা  পারসোনাল ব্র্যান্ডিং এর মতো ভাবতে পারেন। কিন্ত আমি তৃপ্তি নিয়েই বলতে চাইছি-  আমার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পে যদি একজন নারী উদ্বদ্ধ হয়, সাহসী হয়, সফলতার পথ খুজে পায় তাহলেই নিজেকে গর্বিত মনে করবো।

আমার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পটা একটু ব্যাতিক্রমী। উদ্যোক্তা কী- আমি  জানতাম  না। ছোটবেলা থেকে হাতের কাজের জিনিসের প্রতি খুব ঝোঁক ছিল আমার। ২০০৪ সালে এসএসসি পরীক্ষার পরে কিছুটা সময় পাওয়ায় ভর্তি হয়ে গেলাম মহিলা অধিদপ্তরের টেইলারিং কোর্সে। নিজের জামা কাপড় নিজেই বানাবো- এমন উদ্দেশ্য ছিল। কিছুটা ফ্যাশন সচেতন হওয়ায় গজ কাপড় কিনে নিজের মতো করে ডিজাইন তৈরি করে নিজের জামা নিজেই বানাতাম। সবাই দেখে- ‘ভালো’ বলায়, আরো বানানোর ইচ্ছে তৈরি হতো নিজের মধ্যে ।

আমার মা হাতের নকশী সেলাইয়ে খুব পারদর্শী ছিলেন।তিনি সুন্দর সুন্দর নকশীকাঁথা সেলাই করতেন। এসব কাজ দেখে বড় হয়েছি আমি। একটু ভিন্নতা আনার জন্য আমার জামায় আমি এই নকশীকাঁথার ডিজাইন করা শুরু করি শুধু নিজে পরার জন্য।

২০০৬ সালে আমার বিয়ে হয়। অনার্সে আমার কলেজ বাবার বাড়ির কাছে হওয়ায় বেশির ভাগ সময় বাবার বাড়িতেই থাকতাম। সংসার- রান্না বলতে গেলে কিছুই করতাম না। কিন্তু সব কিছু অনুসরণ করতাম। সখের বশে মাঝে মাঝে আচার তৈরি করে স্বামীকে পাঠাতাম। কারণ তিনি আচার পছন্দ করতেন।

২০১২ সালে অনার্স শেষ হয় আমার। এর মধ্যে আমার বড় ছেলে শাহরিয়া খান সাফোয়ানের জন্ম হয়। স্বামী বিমান বাহিনীতে চাকরি করেন, তাই তার সাথে ঢাকায় চলে আসি সংসার গুছানোর প্রয়োজনে।  শুরু হলো পুরোদস্তুর গৃহিণী হিসেবে কাজ। বাচ্চা, সংসার নিয়ে খুব ব্যস্ত আমি। এর মাঝে আমার ছোট ভাই আমাদের ছবি দেখার জন্য ফেসবুক একাউন্ট খুলে দিল। সেই থেকে শুরু হলো আমার অনলাইন যাএা।

ফেইসবুকে ঘুরতে ঘুরতে পেয়ে গেলাম বিজনেস আইডিয়া। শুরু করব যখন ঠিকঠাক তখন আমার ছোট ছেলে সেজাদ খান সাদাফ ২০১৭ সালে জন্ম নিল। বিজনেস আর শুরু করা হল না। কিন্তু মনের মধ্যে সারাদিন ঘুরপাক খেত- এই চিন্তা। স্বামীর সাথে যখন এই চিন্তা নিয়ে আলোচনা করি, প্রথমে তিনি রাজি হলেন না। তিনি তার চাকরির ব্যস্ততার কথা বলে আমাকে কোনো সাহায্য করতে পারবেন না বলে জানালেন।

তখন ঢাকার তেমন কিছুই চিনি না, পুরোপুরি একজন গৃহিণী আমি। ঘরে বিভিন্ন ধরনের আচার তৈরি করতাম, আমার খালাতো ভাইয়ের সাহায্যে পেইজ খুললাম। ঘরের তৈরি আচারের ছবি দিয়ে শুরু হল- আমার ই-কমার্স বিজনেস।

প্রথম যেদিন পেইজে পোস্ট দেই ঠিক তার পরের দিন একটা অর্ডার আসে। আমি তো মহাখুশি, যা আমি বলে বা লিখে বুঝাতে পারব না। কিন্তু মনের মধ্যে বিশাল চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে যে, অর্ডারের আচার কীভাবে পৌঁছে দেব। অর্ডার কনফার্ম করেছি, তাই পৌঁছে দিতে হবেই।  স্বামীর কাছে অনুনয় করলাম। তিনি কিছুতেই রাজি নন। দুই দিন ঝগড়া হয় এনিয়ে, স্বামী আমার মায়ের কাছে নালিশ দিলেন । আমিও খুব জেদি। সরাসরি বলে দিলাম, প্রয়োজনে তোমার সংসার ছাড়বো, তবুও বিজনেস করব।

কী ভেবে বলেছি নিজেও জানি না। লোকটা মনে হয় আমাকে বেশি ভালোবাসেন- তাই আমার জেদ মেনে নিলেন। সেই আচার অনিচ্ছা থাকা সত্বেও তিনি লোক দিয়ে ডেলিভারির ব্যবস্থা করলেন। শুরু হলো স্বপ্নের যাত্রা।

Bithe Creations – এটা আমার পেইজ এর নাম। আমার প্রথম ভালোবাসা। প্রথম অর্ডার এর পরে টুকটাক ভালোই অর্ডার পেয়েছি আর ডেলিভারিও দিয়েছি। এর মধ্যে আমার বড়ো ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করালাম, শুরু হল বাইরে বের হওয়া। বাইরের জগত চিনতে শুরু করলাম। জামা কাপড়ের প্রতি আগ্রহ থাকায় ছেলেকে স্কুলে দিয়ে বিভিন্ন গজ কাপড়ের দোকানে ঘুরতাম। কিনে কিনে নিজের জন্য বানাতাম।

আচার- এর পেইজ থেকে যে ইনকাম হতো তা দিয়ে অল্প কিছু টাকা নিয়ে কাপড় কিনে ১২ টা থ্রি পিস রেডি করলাম, সাথে নকশীকাঁথা, বিছানার চাদর নকশী করে নিজেই সেলাই করা শুরু করলাম। তখন ‘বীথি বুটিকস’ নামে আর একটি পেইজ খুলে তাতে নিজের বানানো পণ্যগুলো প্রদর্শন করলাম। দুই একটা বিক্রি হল। কিন্তু হাতের কাজের জিনিসের চাহিদা দেখলাম বেশি। তাই  কর্মী খোজা শুরু করলাম।

আমি যেখানে থাকি সেখানে কর্মী বেশি একটা পাওয়া যায় না, তবুও ছেলের স্কুলে গিয়ে সবার সাথে আলোচনা করতাম। পরে খুঁজে পেলাম কয়েক জনকে। এভাবে শুরু হল আমার বুটিকস যাত্রা। হাতের কাজের পণ্যের প্রি- অর্ডার বেশি। এর মধ্যে আমার নিজস্ব ডিজাইনের কিছু বুটিক থ্রি- পিস একজন থ্রি- পিস বিক্রেতার পছন্দ হলো। তিনি প্রথমে একট থ্রি- পিছ নিলেন। পণ্যের মান ভালো দেখে পরে পাইকারি রেটে ১২ টা থ্রি পিসের অর্ডার দিলেন। এটাই ছিল তখনকার সময়ে আমার বুটিকস এর সবচেয়ে বড় অর্ডার।

এখন আমার বুটিকসে ২১ জন কর্মী কাজ করেন। আমি এখনো বাসায় বসে বিজনেস পরিচালনা করি। আমার কোন শো রুম নেই। হয়তোবা, আমার ই-কমার্স বিজনেস শিশু পর্যায়ে আছে। তবে অনেক দূর যাওয়ার ইচ্ছা আছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য টিপস হিসেবে এটুকু বলতে পারি কেউ যদি দেশি পণ্যের উদ্যোক্তা হতে চান তবে কখনো পুজি নেই- এমনটা ভেবে থেমে যাবেন না। দেশী পণ্যের উদ্যোক্তা হতে পুজি লাগে না, তার প্রমান আমি নিজেই।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন