শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ মৃত্যু সেখানেই শেষ কথা নয়..  » «   শিল্প উদ্যোক্তা ও ক্রীড়া সংগঠক মো: জিল্লুর রাহমানকে  লন্ডনে সংবর্ধনা  » «   ঈদের সামাজিক গুরুত্ব ও বিলাতে ঈদের ছুটি   » «   ব্রিটেনে ঈদের ছুটি  প্রসঙ্গে  » «   হজের খুতবা বঙ্গানুবাদ করবেন মাওলানা শোয়াইব রশীদ ও মাওলানা খলিলুর রহমান  » «   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তাবুর শহর মিনায় হাজিরা  » «   ঈদের ছুটি : আমাদের কমিউনিটিতে সবার আগে শুরু হোক  » «   ঈদের দিনে বিলেত প্রবাসীদের মনোবেদনা  » «   বিলেতে ঈদ উৎসব এবং বাঙ্গালী কমিউনিটির অন্তর্জ্বালা  » «   জলঢুপে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমান কেম্প  » «   তিলপাড়ায় বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   করিমগঞ্জ দিবস  » «   ঈদের ছুটি চাই : একটি সমন্বিত উদ্যোগ অগণিত পরিবারে হাসি ফুটাতে পারে  » «   ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন বন্ধুর  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


মো. কবির খান: অনন্য সৃজনশীল মেধাবী শিক্ষক



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

জাতি গঠনের  অন্যতম এক কারিগর মো. কবির খান। সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার ১১নং লাউতা ইউনিয়নের জলঢুপ কালাইউরা গ্রামে বনেদী খান পরিবারে ১৯৬৬ সালের ১লা জানুয়ারী এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন ।বর্তমানে  তিনি  জলঢুপ ( কমলা বাড়ী ) এলাকার অধিবাসী । তার পিতার নাম মো. ফৈয়াজ খান, মাতা  আনোয়ারা বেগম । আট ভাই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড় । অল্প বয়সে দুই ভাই মারা যাওয়ার পর তিন ভাই ও তিন বোনসহ মোট ছয় জন বেঁচে আছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় জলঢুপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ বিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৭৪ সালে ৫ম শ্রেনীতে টেলেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেন।

মো. কবির খানের মাধ্যমিক শিক্ষা শুরু হয় জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবং সেখান থেকে ১৯৭৭ সালে ৮ম শ্রেনীতে সাধারণ গ্রেডে জুনিয়র বৃত্তি অর্জন,১৯৮০ সালে  এসএসসি ও বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ থেকে ১৯৮২ সালে এইচএসসি এবং ১৯৮৪ সালে সিলেটের এম,সি কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন ।

বিএসসি পরীক্ষা দিয়ে যখন বাড়ীতে আসেন সেই সময় জলঢুপ উচ্চ বিদ্যলয়ের গণিতের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অদ্বৈত কান্ত  দাস বিএড প্রশিক্ষণে গেলে গণিতের  শিক্ষক সংকট তৈরী হয় । সেই সময়ের স্বনামধন্য হেড মাস্টার  আজির উদ্দিনের অনুরোধে গণিতের শিক্ষক হিসেবে প্রথম শিক্ষকতা শুরু করেন ১৯৮৪ সালে।

বিএসসি পাশের পর পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে সংসারের  হাল ধরতে হবে বিধায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগে সরকারি চাকুরির আবেদন করলে চট্রগ্রাম পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয়ে সহকারী ডাক পরিদর্শক পদে যোগদান করেন ১৯৮৫ সালের প্রথমদিকে।

পাঁচ মাস চাকরি করার পর আবার পড়াশোনার নেশায় তিনি  চাকরি ছেড়ে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএসসি ( গণিত ) প্রিলিমিনারীতে ভর্তি হন। এবার রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভর্তির একমাস পর সাত মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ  ঘোষনা করেন কর্তৃপক্ষ । শিক্ষানুরাগী পিতার পরামর্শ ও আগ্রহে সময় নষ্ট না  করে  চট্রগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে বিএড  প্রশিক্ষণ শেষ করেন।

১৯৮৬ সালে বিএড পাশের পর আবার চাকরির জন্য  খোঁজাখোঁজি। প্রতিযোগিমূলক পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে এবার তিনি সহকারী থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ( A.T.E.O ) পদে বালাগঞ্জে যোগদান করেন। জীবনের প্রথমদিকে শিক্ষকতা করার কারণে ছাত্রদের আন্তরিকতা,শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কারণে প্রশাসনিক পদে যোগদানের পরও কিছুতেই চাকুরিতে মন বসছিলনা। দুই মাস পর সহকারি থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে আবারও জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৮৭ সালের প্রথমদিকে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন।

বিজ্ঞান বিষয়ের একজন শিক্ষক হয়েও সাহিত্য সংস্কৃতিতে তার আগ্রহ ছিল চোঁখে পড়ার মতো । ১৯৩৫ সালে জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বিদ্যালয় থেকে কোন ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়নি । মেধাবী ও সৃজনশীল শিক্ষক কবির খানের সম্পাদনায় বিদ্যালয়ের প্রথম  ম্যাগাজিন ‘মুকুর’ প্রকাশিত হয় । প্রসঙ্গত ,এই ম্যাগাজিন প্রকাশের পর অদ্যাবধি বিদ্যালয় থেকে আর কোন ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয় নাই ।

জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক , অভিবাবক বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কাছে আদর্শিকভাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় শিক্ষক মো. কবির খান   ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ সালের মে মাস পর্যন্ত ঐ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন । তার শিক্ষকতাকালীন সময়ে  শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চায় বিদ্যালয় অনেক এগিয়েছিল।

১৯৯১ সালের মে মাসে জলঢুপ উচ্চ বিদ্যলয় থেকে ইস্তফা দিয়ে সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি । শিক্ষকতার পাশাপাশি  লেখাপড়াও চালিয়ে যান ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৯৯৯ সালে এমএ ও ২০০৬ সালে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএড ডিগ্রি অর্জন করেন ।

১৯৯১ -২০০৭  পর্যন্ত সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ছিলেন।২০০৭ সালে  সুনামগঞ্জের সরকারি জুবিলী  উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক, ২০০৮ সালে জৈন্তাপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক,  ২০০৯-২০১২ পর্যন্ত সিলেটের সরকারী অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে সহকারী শিক্ষক আবার একই স্কুলে ২০১২ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবং এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলেন  ।

২০১৭ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে  সরকারী জুবিলী  উচ্চ বিদ্যালয় সুনামগঞ্জ বদলি হন। সেখান থেকে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে আবারও বদলি হন।  একই স্কুলে ২০১৯ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি হয় গুণী এই শিক্ষকের । বর্তমানে সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ( ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে নিজের মেধা ও মনন দিয়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন ।

৩৪ বৎসরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি নিউজিল্যান্ড, লন্ডন ও ভারতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছেন ।এছাড়া অভিজ্ঞতার জন্য থাইল্যান্ড, আবুধাবি,সৌদি আরবও ভ্রমন করেছেন ।

শিক্ষক  মো. কবির খান শুধু শিক্ষক হিসেবে পাঠদান কাজে ব্যস্ত না থেকে শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবী আদায়ে সব সময় উচ্চকণ্ঠ হয়ে আছেন।তিনি   বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি সিলেট অঞ্চলের নির্বাচিত বর্তমান সভাপতি । এবং  বিগত সময়ে একই সংগঠনের  দুই বারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় পর্যায়ে হাজী নিমার আলী খান ও হাওয়ারুন নেছা শিক্ষা সেবা ফাউন্ডেশনের কো- চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে তাহার নিজ এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে কাজ করছেন গুনী এই শিক্ষক ।

ছাত্রজীবন থেকে প্রতিশ্রুতিশীল কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায়  কবির খান এর জীবন বহুমুখী সফলতায় ঘেরা। তবে এই আলোকিত জীবনেও  ছিল বড় একটি ট্রাজেডি। তিনি যখন নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন তখন তার বাবাকে একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে কারান্তরীণ করা হয় । এ সময়টি ছিল  তার জীবনের সবচেয়ে বড় দু:সময়। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে ভাই-বোনদের দেখাশুনা  এবং পরিবার পরিচালনা করাসহ যাবতীয় দায়িত্ব পালন করে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল । সেই কঠিন সময়ে পরিবারের  সকল দায়িত্ব এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বাবার মতো ভূমিকা পালন করে অদম্য মনোবল, সাহস ও উচ্ছাস নিয়ে  লেখাপড়া চালিয়ে গিয়েছেন  পরিশ্রমী এই শিক্ষক ।

শিক্ষকতা,প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক কাজে একজন  মেধাবী শিক্ষাবিদ হিসাবে  মো. কবির খান এর সুনাম উচ্চারিত।পাশাপাশি  একজন সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হিসাবে তার পরিচিতি রয়েছে। তার নিজ অঞ্চল বিয়ানীবাজার উপজেলা,গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে তার রয়েছে  নিবিড় সম্পর্ক। যে কোন কাজে তাকে পাওয়া যায় সামনের সারিতে হাসিমুখে।

অত্যন্ত  ভালোমনের ও সৃজনশীল মো. কবির খান পারিবারিক জীবনে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক ।

লেখক : ফয়সল আহমদ ( রুহেল ), সাউথ ইস্ট লন্ডন নিউজ করেসপনডেন্ট;চ্যানেল এস টেলিভিশন ,লন্ডন ।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক