শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ মৃত্যু সেখানেই শেষ কথা নয়..  » «   শিল্প উদ্যোক্তা ও ক্রীড়া সংগঠক মো: জিল্লুর রাহমানকে  লন্ডনে সংবর্ধনা  » «   ঈদের সামাজিক গুরুত্ব ও বিলাতে ঈদের ছুটি   » «   ব্রিটেনে ঈদের ছুটি  প্রসঙ্গে  » «   হজের খুতবা বঙ্গানুবাদ করবেন মাওলানা শোয়াইব রশীদ ও মাওলানা খলিলুর রহমান  » «   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তাবুর শহর মিনায় হাজিরা  » «   ঈদের ছুটি : আমাদের কমিউনিটিতে সবার আগে শুরু হোক  » «   ঈদের দিনে বিলেত প্রবাসীদের মনোবেদনা  » «   বিলেতে ঈদ উৎসব এবং বাঙ্গালী কমিউনিটির অন্তর্জ্বালা  » «   জলঢুপে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমান কেম্প  » «   তিলপাড়ায় বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   করিমগঞ্জ দিবস  » «   ঈদের ছুটি চাই : একটি সমন্বিত উদ্যোগ অগণিত পরিবারে হাসি ফুটাতে পারে  » «   ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন বন্ধুর  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


মাওলানা মো.মাহমুদুর রহমান: একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রতিকৃতি



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

মাওলানা মো. মাহমুদুর রহমান ,একজন আদর্শ  শিক্ষকের প্রতিকৃতি । তার অগণিত  ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে ‘মোল্লা স্যার’ নামে পরিচিত । অত্যন্ত সাদাসিধে  জীবন যাপন করা গুণী এই শিক্ষক তার অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসাবেও বেঁচে আছেন।

মৌলভীবাজার জেলার  বড়লেখা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চান্দগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৫৮ সালের ১লা মার্চ জন্ম নেয়া প্রবীন এই শিক্ষক দীর্ঘ ৩৭ বছর একাধারে শিক্ষকতা করেছেন। বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের  ধর্মীয় শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী অবসর গ্রহন করেন।

মানুষ গড়ার কারিগর এ মহান ব্যক্তি মক্তবের শিক্ষা নিজ বাড়িতে শুরু হলেও পবিত্র কোরআন শরীফ শুদ্ধপাঠ শিক্ষা নেন  চান্দগ্রামের গর্ব, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের  ‘বড় হাফিজ সাহেব’  খ্যাত হাফিজ মোহাম্মদ আব্দুল বারী (রহ.) এর নিকট।

বিয়ানীবাজার উপজেলার  ঐতিহ্যবাহি জলঢুপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে বড়লেখা উপজেলার অন্যতম ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুজাউল সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় তৎকালীন দাখিল আউয়াল অর্থাৎ ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। তারপর এই মাদরাসা থেকেই ১৯৭০ সালে দাখিল এবং ১৯৭২ সালে আলিম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন।

বিয়ানীবাজার সিনিয়র কামিল মাদ্রাসায়  ফাজিল শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ১৯৭৪ সালে ফাজিল উত্তীর্ণ হন। তারপর তৎকালীন সময়ে সিলেট বিভাগের একমাত্র টাইটেল তথা কামিল মাদ্রাসা- কানাইঘাট উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী গাছবাড়ি জামিউল উলুম কামিল মাদ্রাসা  থেকে ১৯৭৭ সালে কামিল পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। পাশাপাশি বিয়ানীবাজার কলেজ থেকে আইকমও পাশ করেন।

শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে তিনি শিক্ষকতা পেশাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে।  ১৯৮১ সালের ১লা  ফেব্রুয়ারী  বিয়ানীবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী  বিদ্যাপীঠ জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।  এবং অবসর গ্রহণ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠার সাথে মানুষ গড়ার মহান দায়িত্বে ছিলেন।

পাশাপাশি তিনি পার্শ্ববর্তী গ্রাম আব্দুল্লাহপুর জামে মসজিদে প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজের খতিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘ ৩৮ বছর  । ২০১৯ সালে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে  খতিবের দায়িত্ব থেকেও অবসর নেন।

এছাড়াও মাওলানা মো. মাহমুদুর রহমান  দীর্ঘ ২২বছর পবিত্র কোরআন শুদ্ধ করে শিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট চান্দগ্রাম এ.ইউ. ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা  শাখার নাজিম হিসেবে প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসে পবিত্র কোরআনের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন ।

গুণী এই শিক্ষকের পিতা মরহুম মাওলানা মো. আব্দুল মজিদ ও মাতা মোছাম্মাৎ লতিফা বিবি।  মাওলানা মো.মাহমুদুর রহমান তাদের  একমাত্র ছেলে। পিতা মাওলানা মো. আব্দুল মজিদ ভারতের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয়  বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা থেকে টাইটেল পাশ ছিলেন। মাওলানা মো.মাহমুদুর রহমানের ছাত্রজীবনে পিতা মারা গেলেও মা মোছাম্মাৎ লতিফা বিবি অনেক কষ্ট করে ছেলেকে লেখাপড়া করান।

মানুষ গড়ার কারিগর এ মহান ব্যক্তিত্ব পারিবারিক জীবনে দুই পুত্র ও তিন কন্যা সন্তানের জনক। বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে অবসর জীবন যাপন করছেন।

 

লেখক : ফয়সল আহমদ ( রুহেল )। সাউথ ইস্ট লন্ডন নিউজ করসপনডেন্ট;চ্যানেল এস টেলিভিশন ,লন্ডন ।

আরও পড়ুন:

শিক্ষক শ্যামাকান্ত দাস : মানুষ গড়ার শ্রেষ্ঠ কারিগর


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক