শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ মৃত্যু সেখানেই শেষ কথা নয়..  » «   শিল্প উদ্যোক্তা ও ক্রীড়া সংগঠক মো: জিল্লুর রাহমানকে  লন্ডনে সংবর্ধনা  » «   ঈদের সামাজিক গুরুত্ব ও বিলাতে ঈদের ছুটি   » «   ব্রিটেনে ঈদের ছুটি  প্রসঙ্গে  » «   হজের খুতবা বঙ্গানুবাদ করবেন মাওলানা শোয়াইব রশীদ ও মাওলানা খলিলুর রহমান  » «   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তাবুর শহর মিনায় হাজিরা  » «   ঈদের ছুটি : আমাদের কমিউনিটিতে সবার আগে শুরু হোক  » «   ঈদের দিনে বিলেত প্রবাসীদের মনোবেদনা  » «   বিলেতে ঈদ উৎসব এবং বাঙ্গালী কমিউনিটির অন্তর্জ্বালা  » «   জলঢুপে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমান কেম্প  » «   তিলপাড়ায় বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   করিমগঞ্জ দিবস  » «   ঈদের ছুটি চাই : একটি সমন্বিত উদ্যোগ অগণিত পরিবারে হাসি ফুটাতে পারে  » «   ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন বন্ধুর  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


অশণি সংকেত



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সংবাদটি খুব ছোট করেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে উপস্থাপিত হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু ছোট করে প্রকাশিত হলেও বিষয়টি উদ্বেগজনকই নয়, ভয়াবহও বটে। সবচেয়ে বড় কথা বিষয়টি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল, যার যথাযথ শাস্তি হওয়া দরকার।
সংবাদে প্রকাশ, বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের বিকৃতি ঘটিয়ে ইসলামী জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে ক্লাশ শুরুর রেওয়াজ চালু করেছে কুমিল্লার মুরাদনগরের আল-আরাবিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এই সঙ্গীতের রচয়িতা মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি নাজিবুল্লাহ আফসারী, যার ছবি নীচে দেয়া হল। তিনি বলেছেন যে তিনি আসলে একটি গজল রচনা করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের আদলে। কিন্তু নাজিবুল্লাহ আফসারী তার রচিত সঙ্গীতকে চিহ্নিত ও ঘোষণা করেছেন ‘দারুল কুরআন আল আরাবিয়ার জাতীয় সঙ্গীত’ হিসেবে। তিনি এই সঙ্গীত মাদ্রাসার ছাত্রদের দিয়ে গাইয়েছেন এবং প্রচার করেছেন নানান সামাজিক মাধ্যমে।
তিনটে কথা বলা প্রয়োজন। প্রথমত: যে ধৃষ্টতা মুফতি দেখিয়েছেন, তা ক্ষমাহীন অপরাধ। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতকে বিকৃত করার মতো ঔদ্ধত্য তিনি দেখিয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশে বসে রাষ্ট্রযন্ত্রের নাকের ডগায়। এ দেশ প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের মাত্র কিছুদিন আগে দেশটির জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি এমন অবজ্ঞার দু:সাহস আফসারী পেলো কোথায়?
দ্বিতীয়ত: বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলো আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার বিরোধিতা সর্বদা করেছে। তারা বলেছে, এ সঙ্গীত ইসলামী তমুদ্দন বিরোধী এবং এটি একজন হিন্দুর লেখা। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করার এ এক বিরুদ্ধাচরন। সেই সঙ্গে এটা একটা পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া বলেও আমি মনে করি। ‘আল-আরাবিয়ায়’ এই কাজটি যদি পার পেয়ে যায়, তা’হলে আগামীতে অন্যান্য মাদ্রাসায়ও এ ইসলামী জাতীয় সঙ্গীত গীত হওয়ার মাধ্যমে ক্লাশ শুরু হবে। বোঝাই যাচ্ছে মাদ্রাসাগুলো মুক্তিযুদ্ধের চিন্তা-চেতনা এবং বাংলাদেশের মৌলিক ধযান-ধারনার বিরোধী। এ প্রেক্ষিতে যে বৃহত্তর প্রশ্নটি তোলা যায়, তা হচ্ছে, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্হার যৌক্তিকতা কোথায় এবং প্রাসঙ্গিকতা কি?
তৃতীয়ত: যে কোন দেশের জাতীয় সঙ্গীতকে বিকৃত করা, তার ‘প্যারোডি’ রচনা করা ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার’ সামিল। রাষ্ট্রদ্রদোহিতার শাস্তি চরম শাস্তি। স্হানীয় প্রশাসন এ মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ করেছে বলে শুনেছি। এ ব্যবস্হা বড় অকিঞ্চিতকর এবং তা মূল জায়গায় হাত দেয় নি। আসলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তি শুধুমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্র সর্বোচ্চ পর্যায়ে দিতে পারে এবং আমি দাবী জানাচ্ছি বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রের অবিলম্বেই তা করতে হবে। তা নইলে এক ভয়ংকর অশণি সংকেত আমাদের দোরগোড়ায়।
একটি আত্ম-জিজ্ঞাসা দিয়ে শেষ করি। ‘আজ জাতীয় সঙ্গীতের বিকৃতিতে আমরা অনেকেই নির্বিকার, কিন্তু কোন ধর্মগ্রণ্হের অবমাননায় আমরা কি নিশ্চুপ থাকতাম?’
সেলিম জাহান : অর্থনীতিবিদ ও লেখক

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক