শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ মৃত্যু সেখানেই শেষ কথা নয়..  » «   শিল্প উদ্যোক্তা ও ক্রীড়া সংগঠক মো: জিল্লুর রাহমানকে  লন্ডনে সংবর্ধনা  » «   ঈদের সামাজিক গুরুত্ব ও বিলাতে ঈদের ছুটি   » «   ব্রিটেনে ঈদের ছুটি  প্রসঙ্গে  » «   হজের খুতবা বঙ্গানুবাদ করবেন মাওলানা শোয়াইব রশীদ ও মাওলানা খলিলুর রহমান  » «   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তাবুর শহর মিনায় হাজিরা  » «   ঈদের ছুটি : আমাদের কমিউনিটিতে সবার আগে শুরু হোক  » «   ঈদের দিনে বিলেত প্রবাসীদের মনোবেদনা  » «   বিলেতে ঈদ উৎসব এবং বাঙ্গালী কমিউনিটির অন্তর্জ্বালা  » «   জলঢুপে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমান কেম্প  » «   তিলপাড়ায় বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   করিমগঞ্জ দিবস  » «   ঈদের ছুটি চাই : একটি সমন্বিত উদ্যোগ অগণিত পরিবারে হাসি ফুটাতে পারে  » «   ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন বন্ধুর  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


মোংলা বন্দরে নিষিদ্ধ পন্য আমদানী রহস্যের জট এখন ও খোলেনি



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

মোংলা বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে চার কন্টেইনার আমদানী নিষিদ্ধ পোস্তাদানা ও খালী কন্টেইনার আটকের ঘটনার মামলা প্রায় এক মাস পেড়িয়ে গেলে এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। পন্য আমদানীর কথা বলে খালী কন্টেইনার আনা ও অবৈধ এ পন্যের সাথে জড়িত শিপিং এজেন্টসহ তিন আমদানীকারকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ। কিন্ত আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় রহস্যের জট খোলেনি এখনও।

তবে বন্দর ব্যবহারকারীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, এর আগেও এই চক্রের মাধ্যমে ঘোষনা বহির্ভূত বড় চালান মোংলা বন্দরের মাধ্যমে খালাস হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি কাষ্টমস’র শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ খতিয়ে দেখলে অবাক করার মতো তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্দর সুত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট মোংলা কাস্টমস হাউজের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ ইমদাদুল হক বাদী হয়ে চার কন্টেইনার বোঝাই পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার ১০/বি সোয়ারী ঘাট রোড, কোতয়ালীর মেসার্স তাজ ট্রেডার্স (যার বিন ০০২১৮৯২৩৩-০২-০৬) ও ০৬/১০ ডি চম্পাতলি লেন চকবাজারের মেসার্স আয়শা ট্রেডার্স (যার বিন ০০১৭৩১৮৬৪-০২-০৬) এবং শিপিং এজেন্টসহ আমদানী কারকদে বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-(বি)-১ (বি) ধারায় এবং খান জাহান আলী রোড খুলনার শিপিং এজেন্ট কিউসি লজিষ্টিক লিঃ এর নামে ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় মোংলা থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্ত এ মামলায় দীর্ঘ প্রায় এক মাস পেড়িয়ে গেলেও শিপিং এজেন্ট বা আমদানী কারক কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনী পুলিশ। তবে কারা এর সাথে জড়িত বা কি পরিকল্পনা করে এ আমদানী নিষিদ্ধ পন্য মোংলা বন্দর দিয়ে খালাসের চেষ্টা করা হয়েছিল তা অজানাই থেকে যাচ্ছে। পন্য আমাদানীক এসকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হলেও গ্রেফতার না হওয়ায় বন্দর ব্যাবসায়ীদের মাঝে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে কাষ্টমস তাদের গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, এর সাথে কাষ্টমস কর্তৃপক্ষের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় কাষ্টমস’র কর্মকর্তারা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কন্টেইনারবাহী বিদেশী জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে ছেড়ে এসে সিঙ্গাপুরে যাত্রা বিরতির পর গত ৯ আগষ্ট মোংলা বন্দরের জেটিতে কন্টেইনার খালাস শেষ করে দ্রুত চলে যায়। তবে এ জাহাজটি বন্দের নোঙ্গরের আগেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কাছে আমদানী নিষিদ্ধ পণ্য এনে রাতের আধারে বন্দরের অসাধু লোকদের যোগসাজসে কন্টেইনার সীল ভেঙ্গে মালামাল লুকিয়ে রাখা হবে এমন গোপন খবর আসে। এ মালামাল অন্যান্য আমদানিকৃত পণ্যের সাথে (শুল্ক কর পরিশোধিত) মিশিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের অগোচরে নিরাপত্তা ও ডেলিভারি পর্যায়ের কর্মচারিদের সাথে শিপিং এজেন্টের কর্মচারি আতাত করে উক্ত চোরাচালানকৃত মালামাল অপসারণ করা হবে এমন তথ্য রয়েছে কাষ্টমসের কাছে।

তাই বন্দরের জেটিতে খালাসের পর পরই ওই আমদানীকারকদের আনা ৪টি কন্টেইনার শনাক্ত ও নজরদারীতে রাখে কাস্টমস। ১২ আগস্ট আমদানীকারকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে চিঠির মাধ্যমে কন্টেইনার ৪টি উম্মুক্তভাবে খুলে কায়িক পরীক্ষার করার জন্য চিঠি দেয়া হয় আমদানী কারকদের। কিন্ত আমাদানী কারক ও শিপিং এজেন্ট না আসায় গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ৪টি কন্টেইনার খুলে আমদানী নিষিদ্ধ ২ হাজার ৬শ’ ৬৯ টি বস্তায় ৬৮ হাজার ২ শ’ ৬৫ কেজি পোস্তদানা পাওয়া যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা বলে মামলা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া শিপিং এজেন্ট মেসার্স কিউসি লজিষ্টিক লিঃ ও মেসার্স সোবাহান আল্লাহ ট্রেডার্স এর নাম ব্যাবহার করে প্রতারনার মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে জাহাজ এমভি সান গিওরগিও (আমদানী পালা নং-২০২০/৫৩৫) আমদানীকৃত কন্টেইনার নং-এইচ ডি এম ইউ-৬৫০৭০৫৭ এর মাধ্যমে প্যামম্পার, ডায়াপার ও ন্যাপকিং আমদানী ঘোষনায় আনা কন্টেইনার সংশ্লিষ্ট সকলের সামনে গত ১৮ আগষ্ট কায়িক পরিক্ষার জন্য খুললে সেটি খালী কন্টেইনার পাওয়া যায়। কিন্ত কাগজ পত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় ওই আমাদানী কারক এ নামে কোন পন্য আমদানী করেনী বা তার নামে কোন ব্যাংক একাউন্ট নাই। তাই প্রতারনার দায় শিপিং এজেন্ট’র বিরুদ্ধে মোংলা থানায় মামলা করেন কাষ্টমস। কিন্ত ১ মাস অতিবাহিত হলেও অধ্যবদি এ মামলার কোন অগ্রগতি নেই বলে জানায় বন্দর ব্যাবহারকারীরা। তবে বন্দরে চোরা চালান বা আমদানী নিষিদ্ধ কোন পন্য এখান থেকে পাচার করতে হলে কাষ্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের উপর দিয়েই নিতে হবে। কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ চাইলে, চোরা চালান রোধে সকল সহায়তা দেয়া হবে বলে জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী জানায়, মোংলা বন্দরে আমদানী নিষিদ্ধ পন্যের আমদানী কারকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

মোংলা কাষ্টমস হাউজ’র কমিশনার হোসেন আহমদ বলেন, আমি যোগদান করার পর থেকেই বন্দর জেটি এলাকায় আমদানীকৃত কন্টেইনারে কায়িক পরিক্ষা ছাড়া কোন পন্য এখান থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছেনা। আর যে সকল আমদানী কারকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সে ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে, যাতে আমাদানী নিষিদ্ধ পন্যের সাথে জড়িতরা দ্রুত গ্রেফতার হয়ে আইনের মাধ্যমে বিচারের আয়োতায় আনা হয়।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন