বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
শীঘ্রই ৯৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মনু নদীর স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু হবে  » «   আমিরাতে রেমিটেন্স যোদ্ধারা আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে  » «   দুবাই প্রবাসীরা টিকেট সংকটে: সিলেটে বিক্ষোভ  » «   সৌদি আরবে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ও শেখ কামালের জন্মদিন উদযাপন  » «   মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি : নাইজেরিয়ায় গায়কের মৃত্যুদণ্ড  » «   ভয়াবহ মন্দায় পড়েছে যুক্তরাজ্য  » «   ব্রিটেনে করোনার ঝুকি বাড়াচ্ছে সূর্যস্নান!  » «   কৃষ্ণাঙ্গ-ভারতীয় কমলা হ্যারিসকেই রানিংমেট হিসেবে বেছে নিলেন বাইডেন  » «   ৩০ আগষ্ট থেকে শারজায় বেসরকারী স্কুলে ক্লাস শুরু হচ্ছে  » «   বাতিল হচ্ছে এবারের পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা  » «   স্পেনের টেনেরিফে ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যম্পিয়ন বেঙ্গল ক্লাব  » «   আমিরাত সরকারের আরও ৩০ দিনের বাড়তি সুযোগ  » «   লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ  » «   লেবাননের পাশে দাড়িয়েছে মানবিক বাংলাদেশ  » «   লন্ডনে এম এ খান ফাউন্ডেশন ক্যারম টুর্নামেন্ট’২০ এর উদ্বোধন  » «  

মধ্যপ্রাচ্যের আলোকিত নারী মহাকাশ বিজ্ঞানী সারাহ আল-আমিরি



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

মহাকাশ অভিযাত্রায় যুক্ত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। আলোজাগানিয়া সংবাদটি যেমন প্রতিযোগি দেশগুলোকে অবাক করেছে। তেমনি আরব বিশ্বের অগনণ মানুষ খুশীও এই সংবাদে।
মঙ্গল অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নামের সাথে যুক্ত আছে একজন নারীর নাম। যিনি এখন গোটা বিশ্বে আলোকিত নারী হিসাবে দ্রুততম সময়ে পরিচিতি পেয়েছেন।গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নাম ভাসছে মধ্যপ্রাচ্যের নারীদের অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসাবে।
নাম সারাহ আল-আমিরি। আরব আমিরাতের মঙ্গলগ্রহে অভিযান  হোপ মিশন এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

কে এই সারাহ আল -আমিরি?

গণমাধ্যমের কল্যাণে ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের একজন মুসলিম তরুন মহাকাশ বিজ্ঞানী হিসাবে তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে। ১৯৮৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্ম নেয়া ৩২ বছর বয়সী সারাহ আল আমিরি সম্প্রতি বিবিসির আরবী বিভাগ কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তার সেই স্বপ্নের কথা।
সাক্ষাৎকারে তিনি তার স্বপ্নের কথা জানাতে বলেছেন – “আমার স্বপ্ন ছিল মহাকাশ থেকে আমি পৃথিবীকে দেখবো। কিন্তু আপনাকে সব সময় শুনতে হতো এটা অসম্ভব। বিশেষ করে আপনি যদি এমন একটা দেশে থাকেন, যে দেশটা একেবারেই নতুন।”
“আমি যখন বলতাম আমি মহাকাশ নিয়ে কাজ করতে চাই, তখন লোকে ভাবতো আমি বুঝি কোন কল্পজগতে বাস করি।
সারাহ আল-আমিরি পড়াশোনা করেছেন কম্পিউটার সায়েন্সে। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব শারজাহতে। তার বরাবরই আগ্রহ ছিল এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার। কিন্তু তখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোন মহাকাশ কর্মসূচীই ছিল না।

পড়াশোনা শেষে তিনি যোগ দেন এমিরেটস ইনস্টিটিউশন ফর এডভান্সড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে। সেখানে তিনি কাজ করেছেন দুবাইস্যাট-১ এবং দুবাইস্যাট-২ প্রকল্পে। এরপর ইউএই’র পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন । ২০১৬ সালে তাকে এমিরেটস সায়েন্স কাউন্সিলের প্রধান করা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মঙ্গল অভিযানের শুরু থেকে এর সঙ্গে জড়িত তিনি।এখন এই মিশনের বৈজ্ঞানিক দলের প্রধান।  ২০১৭ সালে সারাহ আল-আমিরি কে একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডভান্সড সায়েন্স বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

মহাকাশযানটির সফল উৎক্ষেপণের পর তার স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সারাহ আল আমিরি। তিনি বলেন, তার দেশের ওপর এর প্রভাব অনেকটাই ৫১ বছর আগে আমেরিকার চাঁদে পা রাখার মতো। সেটিও ২০ জুলাই তারিখেই হয়েছিল।
গর্বিত  কন্ঠে আরও বলেছেন, ‘ আমি আজ আনন্দিত যে আরব আমিরাতের শিশুরা ২০ জুলাই তারিখে ঘুম থেকে উঠে তাদের নিজস্ব অভিযানটি দেখতে পাবে, যা নতুন একটি বাস্তবতা। যা তাদের নতুন কিছু করতে উদ্বুদ্ধ করবে।’

এই নবীন বিজ্ঞানী এরই মধ্যে আরব বিশ্বের নারীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। সবকিছু ঠিকঠাক গেলে ৪৯৩ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত মঙ্গলগ্রহে পৌঁছাতে সারাহ আল-আমিরি ‘র নেতৃত্বের মহাকাশযানটির সময় লাগবে আনুমানিক সাত মাস।

মঙ্গলগ্রহের এক বছর হয় ৬৮৭ দিনে। এই পুরো সময় ধরে মহাকাশযানটি মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবে। মঙ্গলগ্রহেরে কক্ষপথ একবার ঘুরতে সময় লাগবে ৫৫ ঘণ্টা।

জাপানের সবচেয়ে বড় রকেটবন্দর তানেগাশিমা থেকে উড্ডয়ন করে আমিরাতের স্যাটেলাইট ‘হোপ মিশন’।মহাকাশযানটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পৌঁছাবে যা কাকতালীয়ভাবে আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন- মধ্যপ্রাচ্যে নানা ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়ে চলা সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের দেশের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এমন বড় চ্যালেঞ্জ নেয়ার ক্ষমতা তাদের আছে সেটাই বিশ্ব বাসীর কাছে তুলে ধরছে।

গোটা বিশ্বকে চমিকে দেয়া আরব আমিরাতের এই সাফল্যে ‘হোপ মিশন‘ এর প্রধান হয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন তরুণ বিজ্ঞানী সারাহ আল-আমিরি ।হোপ মিশনের সাফল্যে বিশেষ করে আরব বিশ্বের মুসলিম নারীদের জন্য ‘অনুপ্রেরণার প্রতীক‘ হয়ে থাকবেন সারাহ আল-আমিরি।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •