বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
শীঘ্রই ৯৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মনু নদীর স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু হবে  » «   আমিরাতে রেমিটেন্স যোদ্ধারা আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে  » «   দুবাই প্রবাসীরা টিকেট সংকটে: সিলেটে বিক্ষোভ  » «   সৌদি আরবে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ও শেখ কামালের জন্মদিন উদযাপন  » «   মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি : নাইজেরিয়ায় গায়কের মৃত্যুদণ্ড  » «   ভয়াবহ মন্দায় পড়েছে যুক্তরাজ্য  » «   ব্রিটেনে করোনার ঝুকি বাড়াচ্ছে সূর্যস্নান!  » «   কৃষ্ণাঙ্গ-ভারতীয় কমলা হ্যারিসকেই রানিংমেট হিসেবে বেছে নিলেন বাইডেন  » «   ৩০ আগষ্ট থেকে শারজায় বেসরকারী স্কুলে ক্লাস শুরু হচ্ছে  » «   বাতিল হচ্ছে এবারের পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা  » «   স্পেনের টেনেরিফে ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যম্পিয়ন বেঙ্গল ক্লাব  » «   আমিরাত সরকারের আরও ৩০ দিনের বাড়তি সুযোগ  » «   লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ  » «   লেবাননের পাশে দাড়িয়েছে মানবিক বাংলাদেশ  » «   লন্ডনে এম এ খান ফাউন্ডেশন ক্যারম টুর্নামেন্ট’২০ এর উদ্বোধন  » «  

আজ শুভ কানাডা দিবস



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আজ পহেলা জুলাই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র কানাডার জন্ম বার্ষিকী কানাডা ডে। ১৮৬৭ সালের ১লা জুলাই কানাডা ব্রিটিশ কলোনি হতে অধিরাজ্যের মর্যাদা লাভ করে।গত ১৫ জুন কানাডা সরকার কর্তৃক কানাডা দিবস-২০২০ উদযাপনের পরিকল্পনা উন্মোচন করা হয়েছে।

বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি ও কানাডার করোনা পরিস্থিতিতে এবছর ভার্চুয়ালি কানাডা ডে উৎযাপনের জন্য সরকারের পক্ষ হতে দেশের জনসাধারণকে অবহিত করা হয়েছে এবং এতদসংশ্লিষ্ট সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো আজ ১ জুলাই সকাল বেলা  কানাডা ডে উপলক্ষ্যে তার বক্তব্য প্রধান করেছেন । কানাডার মিনিস্টার অফ কানাডিয়ান হেরিটেজ মিস্টার স্টিভেন গিলবেয়াউলট বলেন,এই বছরটি অন্যান্য বছরের মতো নয়। এমনকি এই চ্যালেঞ্জিং সময়গুলিতে কানাডিয়ান হওয়ার অর্থ কী তা নিয়ে ভাবার একটি ভাল সুযোগ। আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, আমরা পরিকল্পনার মতো সমস্ত দুর্দান্ত ক্রিয়াকলাপে অংশ নিতে। আজ কানাডার ইতিহাস—আমাদের মূল্যবোধ, আমাদের প্রতিভা এবং আমাদের সৃজনশীলতা পুরো বিশ্বের জন্য প্রদর্শিত হবে । আজ আমাদের দিন। শুভ কানাডা দিবস!

কানাডা (ইংরেজি: Canada) উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশে অবস্থিত একটি দেশ। দেশটির দশটি প্রদেশ ও তিনটি অঞ্চল আটলান্টিক থেকে প্যাসিফিক এবং উত্তরে আর্কটিক সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত, যা এটিকে মোট আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তর দেশে পরিণত করেছে। কানাডার অধিকৃত ভূমি প্রথম বসবাসের জন্য চেষ্টা চালায় আদিবাসী জনগোষ্টিসমূহ।

১৫তম শতকের শুরুতে ইংরেজ এবং ফরাসি অভিযাত্রীরা আটলান্টিক উপকূল আবিষ্কার করে এবং পরে বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। ফ্রান্স দীর্ঘ সাত বছরের যুদ্ধে পরাজয়ের ফলস্বরূপ ১৭৬৩ সালে উত্তর আমেরিকায় তাদের সব উপনিবাস ইংরেজদের কাছে ছেড়ে দেয়। ১৮৬৭ সালে, মৈত্রিতার মধ্য দিয়ে চারটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ নিয়ে দেশ হিসেবে কানাডা গঠন করা হয়। এর ফলে আরো প্রদেশ এবং অঞ্চল সংযোজনের পথ সুগম, এবং ইংল্যান্ড থেকে স্বায়ত্তশাসন পাওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। ১৯৮২ সালে জারীকৃত কানাডা অ্যাক্ট অনুসারে, দশটি প্রদেশ এবং তিনটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত কানাডা সংসদীয় গণতন্ত্র এবং আইনগত রাজতন্ত্র উভয়ই মেনে চলে।

রাষ্ট্রের প্রধান রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। কানাডা দ্বিভাষিক (ইংরেজি ও ফরাসি ভাষা দুটোই সরকারি ভাষা) এবং বহুকৃষ্টির দেশ। কানাডার রাজধানী অটোয়া, বৃহত্তর শহর টরন্টো, সরকারি ভাষা ইংলিশ ও ফরাসি, জাতীয় সংগীত:”ও কানাডা” জাতিগোষ্ঠী: ৭৪.৩% ফরাসি ও অন্যান্য ইউরোপীয়,১৪.৫%এশিয়ান, ৫.১%দেশীয়, ৩.৪% ক্যারিবিয়ান এবং ল্যাটিন আমেরিকান, ২.৯% আফ্রিকান ও ২% ওশেনিয়ান। ধর্ম:৬৭.২% খ্রীষ্টান, ২৩.৯% কোন ধর্ম নেই, ৩.২% ইসলাম, ১.৫% হিন্দু, ১.৪% শিখ, ১.১% বৌদ্ধ, ১.০% ইহুদি, ০.৬% অন্যান্য।

কানাডার রানী: দ্বিতীয় এলিজাবেথ ।গভর্নর জেনারেল:জুলি পেয়েট, প্রধানমন্ত্রী: জাস্টিন ট্রুডো, আইন-সভা:সংসদ, উচ্চকক্ষ (সিনেট),, নিম্নকক্ষ (হাউস অফ কমন্স), মোট আয়তন: ৯৯,৮৪,৬৭০ বর্গকিলোমিটার (৩৮,৫৫,১০০ বর্গমাইল),পানি :৮.৯২%, মোট ভূপৃষ্টের আয়তন: ৯০,৯৩,৫০৭ কিমি (৩৫,১১,০২৩ মা), জনসংখ্যা: ২০১৮ সালে: ৩৭,০৬৭,০১১ এবং ২০১৬ আদমশুমারি অনুযায়ী ৩৫,১৫১,৭২৮ জন, জিডিপি (পিপিপি): ২০১৮ আনুমানিক মোট $১,৮৪,৭০০ কোটি ডলার, মাথাপিছু আয়:$৪৯,৭৭৫ ডলার।

প্রসঙ্গত: কানাডা নামটি সম্ভবত এসেছে সেন্ট লরেন্স ইরোকোয়াইয়ান (St. Lawrence Iroquoian) শব্দ “কানাটা” (kanata) থেকে, যার অর্থ “জেলেদের ক্ষুদ্র গ্রাম”, “গ্রাম”, অথবা “বসতি”। ১৫৩৫ সালের দিকে, বর্তমান ক্যুবেক শহরের বসবাসকারীরা অভিযাত্রী জ্যাক কার্তিয়ারকে (Jacques Cartier) স্টেইডাকোনা (Stadacona) গ্রামের দিকে পথনির্দশনের সুবিধার্থে শব্দটি ব্যবহার করেছিল । কার্তিয়ার ‘কানাডা’ শব্দটি ব্যবহার করেছিল শুধুমাত্র গ্রামটি চিহ্নিত করতেই নয়, বরং গ্রাম্য-প্রধান ডোন্নাকোনা (Donnacona) সম্পর্কিত সব কিছু নির্দেশ করতে।

১৫৪৫ সাল নাগাদ, ইউরোপের বই এবং মানচিত্রে এই অঞ্চলকে “কানাডা” হিসেবে নির্দেশিত করা শুরু হয়। কানাডায় ফরাসি উপনিবেশকে “নব্য ফ্রান্স” (New France)বলা হত, যার বিস্তৃতি ছিল সেন্ট লরেন্স নদী থেকে গ্রেইট লেইকসের উত্তর উপকূল পর্যন্ত।পরবর্তীতে, ১৮৪১ সাল পর্যন্ত, এটি যথাক্রমে “উচ্চ কানাডা” এবং “নিম্ন কানাডা” নামক দুটি ইংরেজ উপনিবেশে বিভক্ত থাকে।

কানাডা অ্যাক্ট ১৯৮২ অনুসারে, “কানাডা”ই একমাত্র আইনগত এবং দ্বিভাষিক নাম। ১৯৮২ সালে সরকারী ছুটি ‘ডোমিনিয়ান ডে’ কে পরিবর্তন করে ‘কানাডা ডে’ করা হয়। কানাডা একটি ফেডারেশন যাতে সংসদীয় গণতন্ত্রভিত্তিক সরকারব্যবস্থা এবং একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রচলিত।

কানাডার সরকার দুই ভাগে বিভক্ত। কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকার। প্রশাসনিক অঞ্চলগুলির তুলনায় প্রদেশগুলিতে স্বায়ত্তশাসনের পরিমাণ বেশি। কানাডার বর্তমান সংবিধান ১৯৮২ সালে রচিত হয়। এই সংবিধানে পূর্বের সাংবিধানিক আদেশগুলি একটিমাত্র কাঠামোয় একত্রিত করা হয় এবং এতে অধিকার ও স্বাধীনতার উপর একটি চার্টার যোগ করা হয়। এই সংবিধানেই প্রথম কানাডার নিজস্ব স্থানীয় সরকারকে তাঁর সংবিধানের উপর পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা হয়। পূর্বে কানাডা ১৮৬৭ সালে প্রণীত ব্রিটিশ উত্তর আমেরিকা অধ্যাদেশবলে পরিচালিত হত এবং এতে ও এর পরে প্রণীত আইনসমূহে ব্রিটিশ সরকারকে কিছু সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল।

সুহেল ইবনে ইসহাক: কবি ও ৫২বাংলা প্রতিনিধি কানাডা।   


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •