সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
 ক্রিকেট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন বড়লেখা উপজেলা শাখার নতুন কমিটি গঠিত  » «   হায়া সোফিয়া মসজিদ হবেই, কোনও চাপে নড়বেন না এরদোয়ান  » «   বিদেশে গমনকারী সকল বাংলাদেশিকে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে হবে  » «   দুবাইতে অনলাইনে পাওয়া যাবে কোরবানির পশু  » «   ১৫ জুলাই থেকে শারজাহ মিউনিসিপলিটির ভার্চুয়াল সেবা শুরু  » «   দুবাই থেকে পালিয়ে গিয়ে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের আজম খান  » «   সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ: চেয়ারম্যান পদ অস্বীকার, দাম্পত্যে ফাটল  » «   বড়লেখায়  ইয়াং স্টার এসোসিয়েশনের লাইটিং কর্মসূচি  » «   হোয়াইচ্যাপেলে তিন তরুণের  উদ্যোগে  ফামোস ক্যাফে‘র যাত্রা  » «   করোনা নেগেটিভ সনদ এবং ভিনদেশে বাংলাদেশ  » «   সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা পরিষেবাগুলিতে ফি ও জরিমানা পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে  » «   ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কয়েকটি বাংলাদেশি গণমাধ্যমে ভুলভাবে প্রকাশিত হয়েছে  » «   বড়লেখায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভবিষৎ পরিকল্পনা শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত  » «   বন্যায় ভাসছে সিলেট শহর  » «   গ্রীস প্রবাসীর একমাত্র সন্তান অপহরণের পর ফেরিঘাট হতে উদ্ধার  » «  

সৌদিতে কর্মসংস্থান হারানোর হুমকিতে এক লাখ বাংলাদেশি



মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত তিন মাসে এক লাখেরও বেশি মানুষের সেদেশে যাওয়া আটকে গেছে। এদের অর্ধেকেরও বেশি ছুটি কাটাতে দেশে এসে আর ফিরতে পারেননি।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের আগ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দুই লাখের বেশি অভিবাসী শ্রমিক ফেরত এসেছেন।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের আগ পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে ৪১ হাজারের মতো শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। পরে চার্টার্ড বিমানে ফিরেছেন আরও ১৩ হাজারের বেশি, এদেরও একটি বড় অংশ সৌদি আরব থেকে এসেছেন। এছাড়া, গত তিন মাসে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল এমন শ্রমিকের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি।

বাংলাদেশ থেকে গড়ে ৫০-৬০ হাজারের মতো মানুষ প্রতি মাসে বিদেশে কাজের জন্য যান, এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি যান সৌদি আরবে। দেশটিতে গত জানুয়ারি মাসেও গেছেন অন্তত ৫২ হাজার মানুষ, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪ হাজার আর মার্চে ফ্লাইট বন্ধের আগ পর্যন্ত গেছেন ৩৮ হাজার মানুষ।

এই মূহূর্তে সৌদি আরবে ২২ লাখের মতো বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক রয়েছেন

সম্প্রতি সৌদি আরবের ইংরেজি দৈনিক সৌদি গেজেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মহামারির কারণে এ বছর সৌদির শ্রমবাজারে ১২ লাখ বিদেশী কর্মী চাকরি হারাবেন। প্রতিবেদনটিতে একটি স্থানীয় গবেষণা সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়, নির্মাণ খাত, পর্যটন (হজ), রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতে এই চাকরিচ্যুতি ঘটতে পারে।

তবে, বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা ছাঁটাইয়ের মতো কোনও ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে জানানো হয়নি।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে রিয়াদ এবং জেদ্দা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যেন বাংলাদেশি কর্মীরা বিপদে না পড়েন।

তিনি জানান, যাদের বৈধ পাসপোর্ট এবং আকামা রয়েছে, তাদের চুক্তি যেন বহাল থাকে সেজন্য জেদ্দা-রিয়াদে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনা চলছে।

করোনা মহামারির কারণে সৌদি আরবে কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে, দেশে থাকা এমন শ্রমিকদের কী করা উচিত সে বিষয়ে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন-

১. সবার আগে সুস্থ থাকতে হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে হবে, শারীরিক সুস্থ থাকার জন্য স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। সুস্থ না থাকলে সৌদি আরবসহ কোনও দেশেই বিমান ভ্রমণ করা যাবে না এবং গেলেও চুক্তি বহাল থাকবে না।
২. আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। মানসিকভাবে সুস্থ থাকার চেষ্টা করতে হবে।
৩. বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, হালনাগাদ তথ্যের দিকে চোখ রাখুন।
৪. নতুন কোনও দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করুন।
৫. বিদেশে শ্রমিক হিসেবে নিজের অধিকার সম্পর্কে জানুন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা