বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
কারী শিল্পের মূল্য সংযোজন কর ৫% করার দাবী করেছে বিসিএ  » «   অসমে ভূমিধসে তিন জেলায় মৃত্যু ২১জনের  » «   একটি লাশের দাফন ও ছাত্রলীগের ‘ওরা ৪১ জন’  » «   করোনা সংকটে বিয়ানীবাজার উপজেলার কসবা-খাসা গ্রামে পাশে দাড়ানো ব্যক্তি ও সংগঠন  » «   যদি কিছু মনে না করেন  » «   এক দিনে ২২৭ কর্মকর্তাকে চাকুরিচ্যুত করল প্রাইম লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি  » «   আদর্শের বিপরীতেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে আদর্শ  » «   করোনায় সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অসহায়ত্ব  » «   সোয়া ছয় কোটি মানুষের হাতে সরকারের ত্রাণ  » «   শারজাহর মসজিদগুলিতে পরিচ্ছন্নকরণ অব্যাহত  » «   ‘আলোকিত ৯৫ মাদারীপুর’ এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ২০২০ উদযাপন  » «   পরিবহন কল্যাণ তহবিলের টাকা নিয়ে সিলেটে শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর  » «   আমিরাত নিউজ এজিন্সিতে বাংলা ভাষা সংযুক্ত করা হয়েছে  » «   নিজ খরছে দেশে যেতে ইচ্ছুক প্রবাসীদের তালিকা করা হবে  » «   করোনা থেকে বাঁচতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর  » «  

আম্পানের তাণ্ডবে কলকাতার দুটি জেলা লন্ডভন্ড

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নয়জনের মৃত্যুর



ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে কলকাতার দুটি জেলা ধ্বংসস্তুপ পরিণত হয়েছে।
গোটা রাজ্যের সর্বনাশ হয়ে গেল!
দুই ২৪ পরগনায় আম্পানের তাণ্ডবলীলা নিয়ে বলতে বসে বার বার এই কথাটাই বেরিয়ে আসছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ সুন্দরবনে আছড়ে পড়ার পর দক্ষিণে তাণ্ডব চালিয়ে যখন উত্তর ২৪ পরগনায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রবল ঘূর্ণিঝড়, সেইসময় রাত ৯টা নাগাদ নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

শুরুতেই বলেন, ‘দুই ২৪ পরগনা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে…বাড়িঘর, নদী বাঁধ ভেঙে গিয়েছে, ক্ষেত ভেসে গিয়েছে।’ তখনও পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে নবান্নে, জানান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করার পর আরও কয়েক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন জেলা থেকে।

সারাদিনই নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে ঝড়ের গতিপ্রকৃতিক খোঁজখবর রাখছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাথরপ্রতিমা, নামখানা, বাসন্তী, কুলতলি, বারুইপুর, সোনারপুর, ভাঙড় থেকে যা খবর এসেছে তা ভয়াবহ। খারাপ খবর উত্তর ২৪ পরগনা থেকেও। তবে ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত সবিস্তার তথ্য পেতে ৩-৪ দিন লেগে যাবে বলে জানান তিনি।

একদিনের মধ্যেও ৫ লক্ষ মানুষকে সরাতে পেরেছিলেন, তখন ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা ঠেকানো গিয়েছিল বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এলাকার পর এলাকা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সাহায্যে ৫ লক্ষ মানুষকে সরাতে পেরেছি। ১৭৩৭ এ এমন ভয়ঙ্কর ঝড় হয়েছিল। ওয়ার রুমে বসে আছি আমি। নবান্নে আমার অফিস কাঁপছে। একটা কঠিন পরিস্থিতির যুদ্ধকালীন মোকাবিলা করলাম। মাঝরাত অবধি হয়ত ঝঞ্ঝা চলবে।’

নন্দীগ্রাম ও রামনগর-সহ একাধিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রাম, রামনগর প্রভৃতি এলাকায় বড় ক্ষতি। দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগণা প্রায় ধ্বংস ঝড়ের দাপটে।গাছ পড়ে মানুষ মারা গেছেন।মোট ক্ষতি এখনও গণনা করা যায়নি। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ নেই, জল নেই। পাথরপ্রতিমা, নামখানা, কাকদ্বীপ, কুলতলি, বারুইপুর, সোনারপুর সব জায়গায় ধ্বংসের ছবি। রাজারহাট, হাসনাবাদ, সন্দেশখালি, গোসাবা, হাবড়া সব জায়গাই বিপর্যস্ত।

এদিকে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল তথা চট্টগ্রাম,নোয়াখালী,বরিশাল,সাতক্ষীরা,বাগেরহাট,বরগুনা,খুলনা,যশোর সহ আশপাশের জেলা গুলোতেও চলছে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডব।এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘন্টায় ৮৭ কিঃ মিঃ বেগে বয়ে বেড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড়।ঢাকা সহ সারাদেশে প্রবল বাতাস ও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।

এই রিপোর্ট  লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশে সুপার সাইক্লোন আম্পানের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যশোরে দুজন, পটুয়াখালীতে দুজন, ভোলায় দুজন, পিরোজপুরে একজন, সন্দ্বীপে একজন ও সাতক্ষীরায় একজন রয়েছেন।