শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ মৃত্যু সেখানেই শেষ কথা নয়..  » «   শিল্প উদ্যোক্তা ও ক্রীড়া সংগঠক মো: জিল্লুর রাহমানকে  লন্ডনে সংবর্ধনা  » «   ঈদের সামাজিক গুরুত্ব ও বিলাতে ঈদের ছুটি   » «   ব্রিটেনে ঈদের ছুটি  প্রসঙ্গে  » «   হজের খুতবা বঙ্গানুবাদ করবেন মাওলানা শোয়াইব রশীদ ও মাওলানা খলিলুর রহমান  » «   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তাবুর শহর মিনায় হাজিরা  » «   ঈদের ছুটি : আমাদের কমিউনিটিতে সবার আগে শুরু হোক  » «   ঈদের দিনে বিলেত প্রবাসীদের মনোবেদনা  » «   বিলেতে ঈদ উৎসব এবং বাঙ্গালী কমিউনিটির অন্তর্জ্বালা  » «   জলঢুপে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমান কেম্প  » «   তিলপাড়ায় বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   করিমগঞ্জ দিবস  » «   ঈদের ছুটি চাই : একটি সমন্বিত উদ্যোগ অগণিত পরিবারে হাসি ফুটাতে পারে  » «   ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন বন্ধুর  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


লকডাউন ব্রিটেনে নিডি মানুষের দরজায় হাসিমুখে ভলান্টিয়ার মেটারস



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

করোনা মহামারিতে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী  বরিস জনসনের  কঠোর অবস্থানের কারণে বর্তমানে  ব্রিটেনবাসী  লকডাউন নীতি মেনে চলছে। যদিও প্রথম সপ্তাহে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, পার্ক ও নানা দর্শনীয় স্থানে লোকসমাগম দেখে সংশ্লিষ্টরা মনে করেছিলেন , জনগণ হয়তো করনোভাইরাস  প্রতিরোধে  হোম  কোয়ারাইন্টেনে  থাকা কে  শতভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন না। তবে বর্তমান পরিস্থিতি  হলো- ব্রিনেটেবাসী এখন হোম  কোয়ারাইন্টেনে।

লকডাউনের ফলে ব্রিটেনে সবচেয়ে ঝুকিতে থাকা প্রবীন, অসুস্থ পরিবার ও যারা ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস( এনএইচএস ) নির্দেশিত হোম আইসোলেশন এ আছেন; তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। বাচ্চাদের নিত্যদিনের খাবার- যা বেশী দিন সংরক্ষণ করা যায় না।  অনেক প্রবীন বাসায় একা থাকেন , যাদের কেউ নেই  শপিং করে দেবার । অনেকের ছেলে সন্তান থাকলেও  অবস্থানগতভাবে অনেক দূরে থাকেন বলে  তারাও আছেন চরম বিপাকে।

বিশেষত কোয়ারাইন্টেনে  চিন্তাযুক্ত বন্দি সময়ে অনেকের  জীবন আরও দূর্বিসহ হয়ে পড়ছে  নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারের অভাবে। অনেকে ঔষধ  সংগ্রহ করতে  পারছেন না সময় মতো।

করোনায়  আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের  আহবানে  এ্নএইচএস এর হয়ে কাজ করতে ইতিমধ্যে লক্ষাধিক নাগরিক নিবন্ধিত হওয়ার আবেদন করেছেন।  এছাড়াও মৃত্যু ঝুকি নিয়ে মাল্টিকালচারাল  ব্রিটেনে হাজার হাজার  ব্রিটিশ  নাগরিক স্বেচ্ছাশ্রমে  করোনা পেনডামিক সময়ে  নিডি মানুষদের পাশে দাড়িয়েছেন। মানবিক এই কাজে যুক্ত আছেন-অনেক বাংলাদেশী- ব্রিটিশ নাগরিক-ও।

আলোর খবর হলো- এইসব স্বেচ্চাসেবকরা অনেকটা নিরবে কাজ করছেন। নিডি মানুষদের জানাতে এসবের কিছু চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।

 

করোনা সময়ে এইরকম একটি  টিমের নাম  হচ্ছে- ভলান্টিয়ার মেটারস। লকডাউন ঘোষনার পরেই  ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে  বিভিন্ন বয়সের সমমনাদের নিয়ে করোভাইরাস জনিত মহামারিতে কয়েকজন বাংলাদেশি-ব্রিটিশ যুবক গঠন করেছেন -ভলান্টিয়ার মেটারস । স্বেচ্ছাসেবী এই  টিমটি ব্রিটেনের লন্ডন সহ ছড়িয়ে আছেন অন্যান্য শহরেও।

ভলান্টিয়ার মেটারস  এর সদস্যরা হলেন-  আবিদুর রহমান শিমু ( রেডব্রিজ ),ব্যারিষ্টার আবুল কালাম চৌধুরী (ইলফোর্ড),দেলওয়ার হোসেন দিলু ( টাওয়ার হ্যামলেটস),মুজাহিদুল ইসলাম ( টাওয়ার হ্যামলেটস ),ইমরান আহমেদ ( টাওয়ার হ্যামলেটস ),মিছবাহ রহমান ( নর্থ ওয়েস্ট লন্ডন), কাইয়ুম (কার্ডিফ সেন্টাল), শাহ আলম ( নিউকাসেল ),ফৈয়াজ আলী ( ওয়েস্ট  ব্রোমউইচ),মো.মারুফ হোসেন (বার্মিংহাম), এডভোকেট গুলাম মোস্তফা ( ম্যানচেস্টার),মোহাম্মদ খান (ওয়েল ব্রমচান),মো. কামরুল ইসলাম (এসেক্স,),সাব্বির আহমদ (ডেগেনহ্যাম),সিরাজ আহমেদ ( কেন্ট ট্রেফ্রড) নজরুল হক (ওয়েস্টার)।

জীবনের ঝুকি নিয়ে এই  মহতি উদ্যোগের শুরুর গল্পটি কমিউনিটিবান্ধব, ভালোবাসা মিশেল।   ব্রিটেনে করোনা  দুর্যোগ সময়ে  নিডি মানুষদের পাশে দাড়ানোর চিন্তা ও উদ্দেশ্যকে বাস্তবে রুপ দিতে  ব্যারিষ্টার আবুল কালাম চৌধুরী ,দেলওয়ার হোসেন দিলু, মুজাহিদুল ইসলাম ,শাহ আলম  একটি  স্বেচ্ছাসেবি টিম গঠনের উদ্যোন নেন।  যার বাস্তব রুপ -ভলান্টিয়ার মেটারস ।

অন্যতম উদ্যোক্তা দিলওয়ার হোসেন দিলু  ৫২বাংলাকে জানিয়েছেন, এক একজন কর্মী প্রতিদিন গড়ে  ১০জন  হোম কোয়ারাইন্টেন, স্পেশাল নিডস এবং সিঙ্গেল প্যারেন্টসদের সাহায্য করছেন।  খাবার এবং ঔষধ সহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে দেবার অনুরোধ আসছে। আমরা  প্রথমে সবাইকে  তাদের বাজার  লিস্টটি আমাদেরকে ব্যক্তিগত মোবাইলে  তাদের বাসার ঠিকানা সহ  ম্যাসেজ করতে বলি। তারপর, আমরা জিনিসপত্র কিনে বিলসহ তাদের দরজায় পৌছে দিই। এবং এই কাজটি আমরা বিনামূল্যে করছি। অনেক ক্ষেত্রে  খাবারগুলোও  ব্যক্তিগত টাকায় কিনে তাদের হাতে বিনামূল্যে  পৌছে দিচ্ছেন -ভলান্টিয়ার মেটারস ।

দিলওয়ার হোসেন দিলু জানিয়েছেন- বাঙালি অধ্যুষ্যিত টাওয়ার হ্যামলেটস বারা থেকে সবচেয়ে বেশী সাহায্যের অনুরোধ আসছে। এবং সেবার জন্য  যখন অনুরোধ আসছে তখনই আমরা তাদের কাছে ছুটে যাবার চেষ্টা করছি। বহুজাতিক ব্রিটেনে বাংলাদেশি ছাড়াও  অন্যান্য  এ্যাথনিক কমিউনিটির মানুষও এই সেবা নিচ্ছে।

ভলান্টিয়ার মেটারস টিম জানিয়েছে তাদের সাথে স্বেচ্ছাসেবি হয়ে যে কেউ যুক্ত হতে পারবেন।

করোনা মহামারি সময়ে বাংলাদেশি-ব্রিটিশ যুবকদের এই  উদ্যোগটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রসংশিত হচ্ছে।

বলা হয়ে থাকে মানবতার কোন দেশ নেই। নেই কোন ভৌগলিক দেয়াল।  বিশ্বব্যাপি করোনা মহামারি সময়ে ব্রিটেনে -ভলান্টিয়ার মেটারস এর মতো অসংখ্য সংগঠন এবং  অগণন মানুষ কাজ করছেন। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।

 


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক