শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
ব্রিটেন প্রবাসে ঈদ ছুটি নিয়ে ভাবনা ও আমাদের করণীয়  » «   ঈদে ছুটি নাই  » «   কমিউনিটি ও পরিবারের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে ঈদের ছুটি নিয়ে দ্বি-মত থাকবে না- শায়খ আব্দুল কাইয়ুম  » «   ব্রিটেনে ঈদ হলিডে : আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা  » «   দয়া নয়, ঈদের ছুটি শ্রমজীবি মুসলমানদের অধিকার  » «   ব্রিটেনে ঈদের ছুটি নিয়ে কমিউনিটি ও মানবাধিকার নেতারা যা বলেন  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃক বন্যা দুর্গতদের চিকিৎসার্থে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   যুক্তরাজ্যে ঈদের ছুটির দাবীতে  আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ অনুষ্ঠিত  » «   পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে স্পেনে দূতাবাসের বিশেষ আয়োজন  » «   পদ্মা সেতুর স্মারক নোট বাজারে আসবে রবিবার  » «   পদ্মা সেতুর জন্য অভিনন্দন বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধির  » «   অদম্য বাংলাদেশ, খুলল পদ্মার দ্বার  » «   আছে শুধু ভালোবাসা, দিয়ে গেলাম তাই: প্রধানমন্ত্রী  » «   রেমিটেন্স প্রেরণে উদ্বুদ্ধকরণে মাদ্রিদে মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্বনাথে মায়ের কোল থেকে ভেসে গেল শিশু, ৫ জনের মৃত্যু  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


স্পেনের ইতিহাসে প্রথম একুশে বইমেলা



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে থাকলো স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের প্লাজা লাভাপিয়েস। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ইন স্পেন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোক কুঞ্জের যৌথ উদ্যোগে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের পাশাপাশি আয়োজন করে দিনব্যাপী ২১ শে বই মেলার। সৃজনশীল সব বই আর বইপ্রেমী বাঙ্গালীদের আগমনে পুরো লাভাপিয়েস যেন উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। স্পেনে এই প্রথম বইমেলাকে ঘিরে ছিল বাঙ্গালীদের ভিতরে বাড়তি আগ্রহ। প্রানের এ মেলা উপভোগে প্রবাসী বাঙ্গালীদের পদচারনায় মুখরিত ছিল এর চারপাশ।

এর মাঝে অস্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন পুরো অনুষ্ঠানের পূর্নতা এনে দেয়। বই মেলার অন্যতম আয়োজক সোহেল রানা জানালেন- যতটা ভেবেছি, তার চেয়ে খুব বেশী সাড়া পেয়েছি। বই মেলাকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ দেখে আমাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল, এবং এতে করে সামনের দিনগুলোতে এরকম মেলা করতে আমরা আরো উৎসাহী হব।

আলোক কুঞ্জের সম্পাদক হানিফ মিয়াজী, হোসাইন ইকবাল, শেখ সুজন এদের সার্বিক সহযোগীতা না পেলে এ মেলা করা সহজ ছিল না বলেও জানান তিনি। এ ছাড়াও অনেক বাঙ্গালীরা বইমেলা স্বার্থক করতে কাজ করেছেন। একটা স্বার্থক পরিচ্ছন্ন আয়োজনে সদ্বিচ্ছা ও সাংস্কৃতিমনা লোকবল খুবই জরুরী। যার সবকটিরই সরব উপস্থিতি ছিল ঈর্ষনীয়।

আর তাই বই কিনে তৃপ্তির হাসি নিয়ে বাড়ী ফিরে গেছেন বইপ্রেমী বাঙ্গালীরা, সাথে নিয়ে গেলেন- দেশীয় ইতিহাস, সংস্কৃতির লাল সবুজের ভালবাসার ধারক, বাহকের সোনালী অতীত। মেলায় আগতরা জানালেন প্রতি বছর এরকম বইমেলা আয়োজনে এখানে বেড়ে ওঠা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে আমাদের ইতিহাস সমৃদ্ধির এক সেতু বন্ধন তৈরীতে মূখ্য ভূমিকা পালন করবে।

প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই বইমেলার উদ্বোধন করেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ সময় তিনি বলেন, একদল তরুনের এ যুগোপযোগী উদ্যোগ কে স্বাগতম এবং সত্যিই এ মহান দিবসে এ উদ্যোগটি প্রসংশার দাবীদার। আলোক কুঞ্জের সকল গঠনমুলক কাজের সফলতা কামনা করেন।

এছাড়া মেলায় বিশিষ্টজনের ভিতর উপস্থিত ছিলেন-স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের দূতাবাসের চার্জ দ্যা এফেয়ার্স এম হারুন আল রাশিদ, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর রেদোয়ান আহমেদ, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ইন স্পেনের এর সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেক, সিনিয়র সহসভাপতি আল আমিন মিয়া, সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দর, গ্রেটার ঢাকা এসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি এম এইচ সোহেল ভূঁইয়াসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মেলায় উল্লেখিত বই সমুহের মধ্যে দেশী প্রবাসী উদীয়মান লেখক লেখিকাদের লেখায় সমৃদ্ধ ‘আলোক কুঞ্জ’ সাহিত্য সংকলনটি রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার এর হাতে সৌজন্য কপি তুলে দেন আলোক কুঞ্জ গ্রন্থের সম্পাদক হানিফ মিয়াজি এবং সংগঠনের পরিচালক হোসাইন ইকবাল, সোহেল রানা ও শেখ সুজন।

মেলায় ছিলো আলোক কুঞ্জ সাহিত্য সংকলন, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী, বঙ্গবন্ধু থেকে বিশ্ববন্ধু, কবি সাংবাদিক ফখরুদ্দীন রাজির বরফ গলা জিবন, সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিলের গনক দিঘীর পাড়ে, ফ্রান্স প্রবাসী সুকবি রবি শংকর মৈত্রীর প্রাণবিক জীবনের জন্য প্রার্থনা, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিন গুলি, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বিভিন্ন বই সহ ইসলামি ও শিশুতোষ বই সমূহ।

মেলার অন্যতম আয়োজক ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ইন স্পেনের সহ ধর্ম ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এবং আলোক কুঞ্জ সাহিত্য সংকলনের সম্পাদক হানিফ মিয়াজি জানান, প্রথম অনুষ্ঠিত হওয়া বই মেলায় সকলের যে উৎসাহ উদ্দিপনা দেখেছি সবার ভালোবাসা ও সহোযোগিতা পেলে আগামীতে আরো বৃহৎ পরিসরে গ্রন্থমেলার আয়োজন করে বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি প্রবাসে অবস্থানরত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন