শনিবার, ২৫ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
রেমিটেন্স প্রেরণে উদ্বুদ্ধকরণে মাদ্রিদে মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্বনাথে মায়ের কোল থেকে ভেসে গেল শিশু, ৫ জনের মৃত্যু  » «   লন্ডনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ইউকের বিশ বছরপূর্তি উদযাপন  » «   মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবাদ এবং সাধারণ জনগণ  » «   স্পেনে ঢাকা ফ্রুতাস (Frutas) এর ১৬ বছর পূর্তি উৎসব অনুষ্ঠিত  » «   সিলেটে বন্যা : বৃষ্টি হয়েছে নদ-নদীর পানি কমেছে  » «   সিলেটে রানওয়েতে বন্যার পানি, বন্ধ বিমানের ফ্লাইট  » «   যুক্তরাজ্যে ঈদে ছুটির দাবীতে আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ ২২শে জুন  » «   বিয়ানীবাজারে বিদ্রোহী প্রার্থী ও গোলাপগন্জে নৌকা বিজয়ী  » «   রুয়ান্ডা যাওয়ার প্রথম ফ্লাইটটি বাতিল : প্রীতি প্যাটেল আশা ছাড়েন নি  » «   মরহুম এম এ গণির আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের শোক সভা ও দোয়া মাহফিল  » «   বালাগঞ্জে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে সভা  » «   স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সংগ্রহ কর্মসুচীর উদ্বোধন  » «   নতুন প্রজন্মের জন্য ইস্ট লন্ডন মসজিদকে রোল মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেখে যেতে চাই  » «   ব্রিটিশ রানির ওবিই খেতাব পেলেন বিসিএ’র প্রেসিডেন্ট  এম এ  মুনিম     » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


বিমানবন্দরে হেনস্তা  দানবদের দৌরাত্ন  কবে থামবে 



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

প্রবাসে পাখির ডাকে ভোরে ঘুম ভাঙে না, ভাঙে ঘড়ির অ্যালার্মে।  সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে –  লাল রংয়ের লাগেজ হারানো বেশ কটি ছবি ।

ঢাকায় এয়ারপোর্টে লাগেজ হারানোর  রিপোর্ট করতে গিয়ে  একজন এ দৃশ্য দেখেন । উনার লাগেজের অবস্থা দেখে চীনা ভদ্রমহিলার বিস্ময়ের ঘোর কাটছিল-ই না। কিভাবে সম্ভব? সোনার জুয়েলারি, দামী কসমেটিক্স, স্যু ছাড়াও ব্যাগের অর্ধেক জিনিসপত্র নাই।

লজ্জায় অফিস কর্মকর্তাদের মাথা কাটা যাচ্ছিল। বিদেশী টুরিস্ট, ডেলিগেট কিংবা ব্যবসায়ী যেই হোক, শুরুতেই যদি এরকম ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়!

বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার পথে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রবাসীরা ।পাশাপাশি এখন যোগ হয়েছে   ট্যুরিস্ট ভিসায় আসা বিদেশীরাও । বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬১ জন প্রবাসী বাংলাদেশি  বিশ্বের আনাচে–কানাচে বসবাস করছেন। প্রবাসীরা দেশে ফেরত আসাকালীন সময় প্রতিনিয়ত বিমানবন্দরে কর্মরত কতিপয় কর্মকর্তাদের অসদাচারণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে নানান হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

অসংখ্য অভিযোগ, বছরের পর বছর  সংবাদ প্রকাশ, মন্ত্রীপর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সিভিল এভিয়েশনের কড়া তদারকি, প্রশাসনিক নজরদারি সহ গোয়েন্দা বিভাগগুলোর নানামুখী তৎপরতার পরও বন্ধ হচ্ছে না হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানি।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ঢাকা বিমানবন্দর দিয়ে যাওয়া -আসার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ফ্রান্স প্রবাসী তারেক আহমদ এবং আফসানা আক্তার মীম, ইতালি প্রবাসী আফজাল হোসেন শেফালী বেগম ,স্পেন প্রবাসী রুনা আক্তার , পর্তুগাল প্রবাসী আয়েশা আক্তার এবং সিদ্দিকুর রহমান সবারই  একই কথা-  ‘বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো ভুক্তভোগীকেই ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়।’

দুঃখজনক হলেও সত্য, হাত তোলা হয় প্রবাসীদের গায়ে-ও!   যার বাস্তব চিত্র সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ কয়েকবার ভাইরাল হয়েছে।  কিন্তু  এই কথা বলতে বাধা নেই যে ,প্রবাসীর ঘামের টাকা সচল রাখছে দেশের চাকা। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত ও নাজেহালের শিকার হচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে কর্মরত বাংলাদেশিরা।

ইমিগ্রেশন বিভাগে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা এসব প্রবাসী কর্মজীবীর সঙ্গে খুব দুর্ব্যবহার করেন। তুই-তুকারি করে কথা বলা, পেটে কলমের গুঁতা দেওয়া, ইয়ার্কির ছলে দুই হাতে গলা চেপে ধরে পাছায় লাথি মেরে হটিয়ে দেওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপমানজনক ঘটনায় ক্ষুব্ধ অনেক প্রবাসী রাগে-দুঃখে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন,   অসহায়ের মতো  বিমানবন্দরের মেঝেতে গড়াগড়ি দেবার দৃশ্যও স্যোসাল মিডিয়ায় দেখা গেছে। অনেকে জীবনে আর কখনো দেশে না ফেরার শপথ পর্যন্ত করেন অপমানে, ক্ষোভে।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেয়া থাকলেও যেন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না এ হয়রানি।  নিরাপত্তা তল্লাশির নামে যাত্রীদের এ ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, যাত্রীদের লাগেজ সংগ্রহে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় সংঘবদ্ধ চক্র লাগেজ গায়েব করে ফেলে।

প্রবাসীদের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বিদেশীরা বিমানবন্দরে এসে রক্ষা পাচ্ছেন না এই হেনস্তার শিকার থেকে । ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, মূলত ইমিগ্রেশন পুলিশের হয়রানির শিকার হয়ে বহির্গামী যাত্রীদের নাভিশ্বাস ওঠছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশে ফেরা  বেশ কজন ইউরোপ প্রবাসীরা জানান , যাচাই-বাছাই করেই দূতাবাস তাঁদের ট্রাভেল পাস দিয়েছে। এটা নিয়ে ফেরার সময় বিদেশের বিমানবন্দরে কোনো অসুবিধা হয়নি। অথচ  নিজ দেশের বিমানবন্দরে এসে যত ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে।

বিমানবন্দর অভ্যন্তরের অন্তত ১০টি ধাপে প্রবাসীদের কাছ থেকে চাহিদামাফিক টাকা হাতানো হয় বলে ভুক্তভোগী প্রবাসীরা জানিয়েছেন। গত ২০ বছরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও বিমান ওঠানামার সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি যাত্রীসেবার মান। আগে  লাগেজ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরে প্রবাসীদের অপেক্ষা করতে হতো। এখনো সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মেলেনি প্রবাসীদের।  দ্রুত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাঁদের বিমানবন্দর ত্যাগের অনুমতি দেওয়ার দাবি করেছেন তাঁরা।

নিজের দেশে ফিরে শুনি, আমি নাকি রোহিঙ্গা। ছয় বছর আগে পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গেছি। আমরা প্রবাসীরা বিদেশেও দাম পাই না, দেশেও দাম পাই না। প্রবাসীদের খুব বেশি চাওয়া নেই, হাজারো প্রবাসী স্বপ্ন দেখে কিছু অর্থ আয় করে দেশে ফিরে যাবে। ফিরে যাবে প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছে, সন্তানের কাছে, বাবা-মায়ের কাছে।

 

 


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক