রবিবার, ৩ জুলাই ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
বিলেতে কারী শিল্পে ঈদের ছুটি সময়ের দাবি  » «   ঈদের ছুটি  » «   ইউরোপে জ্বালানি সংকট চরমে, বিকল্প ভাবতে হচ্ছে ইউরোপকে  » «   হাইডে প্রবীণদের স্মরণে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল  » «   ঈদের দিন হোক সবার উৎসবের দিন  » «   ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল সিলেটের সার্টিফিকেট বিতরণী অনুষ্ঠিত  » «   নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশী সমিতি’ ইউকে’র যাত্রা শুরু  » «   ব্রিটেন প্রবাসে ঈদ ছুটি নিয়ে ভাবনা ও আমাদের করণীয়  » «   ঈদে ছুটি নাই  » «   কমিউনিটি ও পরিবারের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে ঈদের ছুটি নিয়ে দ্বি-মত থাকবে না- শায়খ আব্দুল কাইয়ুম  » «   ব্রিটেনে ঈদ হলিডে : আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা  » «   দয়া নয়, ঈদের ছুটি শ্রমজীবি মুসলমানদের অধিকার  » «   ব্রিটেনে ঈদের ছুটি নিয়ে কমিউনিটি ও মানবাধিকার নেতারা যা বলেন  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃক বন্যা দুর্গতদের চিকিৎসার্থে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   যুক্তরাজ্যে ঈদের ছুটির দাবীতে  আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ অনুষ্ঠিত  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

‘মাদ্রিদ কপ ২৫’ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজন বিশ্বের সকল দেশের সমন্বিত ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ।’

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের নিষ্পাপ শিকার। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশের মাথাপিছু কার্বন নি:সরণের হার মাত্র দশমিক ৫ টন। আর উন্নত দেশগুলোর মাথাপিছু গড় কার্বন নি:সরণ ৬ টন। দায়ী না হয়েও বাংলাদেশ সীমিত সম্পদ নিয়ে নিজ উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সারাদেশে ৫০ লাখেরও বেশি সোলার সিস্টেম স্থাপন করেছে।

১১ ডিসেম্বর বুধবার রাতে স্পেনের মাদ্রিদে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ‘কনফারেন্স অভ পার্টিস (কপ)’ এর ২৫তম সম্মেলনে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ অভ্ বাংলাদেশ’ শীর্ষক পার্শ্ব সম্মেলনে একথা বলেন। বাংলাদেশ, কোরিয়া ও জাপান যৌথভাবে এ পার্শ্ব সম্মেলন আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন বাংলাদেশে দৃশ্যমান। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, উপকূলীয় অঞ্চলে লবনাক্ততা বেড়ে চলেছে, দেশের কোন কোন অঞ্চলে মরুকরণ দেখা দিয়েছে। সম্ভাবনার চেয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কম হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পানির প্রধান উৎস হিমায়েল বরফ দ্রুত গলছে। ফলে বাংলাদেশ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক হুমকির মুখে।

পরিবেশবিদ ড. হাছান বলেন, ক্ষুদ্র দ্বীপ দেশগুলোও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে। সে সকল দেশে মরুকরণেরও সুযোগ নেই। তাছাড়া এসকল দেশের জনসংখ্যা কম। কিন্তু বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। শুধু উপকূলীয় অঞ্চলেই ৪২ মিলিয়ন জনগণ বসবাস করে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী প্রভাবে বাংলাদেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সীমিত সম্পদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রপথিক। বাংলাদেশ সবার আগে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘এ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করেছে। নিজস্ব বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থে ৭২০টি অভিযোজন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র দেশ। কিন্তু জনসংখ্যা বেশি। আমাদের অগ্রাধিকার খাত হচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কারণে আমরা অগ্রাধিকার খাতের দিকে নজর দিতে পারছি না। অথচ উন্নত দেশের ভোগ-বিলাসের কারণে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদাপন্ন দেশ।

‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর অনেক প্রাণিই হারিয়ে গেছে’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ডাইনোসারের মতো প্রাণীও বিলীন হয়ে গেছে পৃথিবী থেকে। কিন্তু আমরা টিকে থাকতে চাই। আমাদের টিকে থাকার জন্য অনেক দেশই তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে না। আবার কোন কোন দেশ পৃথিবীর রক্ষাকবচ হিসাবে পরিচিত প্যারিস-চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এটা আমাদের জন্য হতাশাজনক।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ইতোমধ্যে এক ডিগ্রী বেড়ে গেছে। বর্তমানে হারে কার্বন নির্গমন হতে থাকলে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে ৩ ডিগ্রী ছাড়িয়ে যাবে। অথচ এক ডিগ্রী তাপমাত্রা বৃদ্ধির ভয়ানক পরিণতি এখন পৃথিবী দেখছে। এই তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রী ছাড়িয়ে গেলে পৃথিবীর অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে। এই অবস্থায় পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে সব দেশের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সব দেশের সমন্বিত উদ্যোগ চাই।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী। আলোচনা করেন দুই সংসদ সদস্য জাফর আলম ও রেজাউল করিম, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আহমেদ কায়কাউস, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নূরুল কাদের। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে অভিযোজন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তাকারী দুই দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরা তাদের কার্যক্রম তুলে ধরেন।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন