মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃক বন্যা দুর্গতদের চিকিৎসার্থে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   যুক্তরাজ্যে ঈদের ছুটির দাবীতে  আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ অনুষ্ঠিত  » «   পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে স্পেনে দূতাবাসের বিশেষ আয়োজন  » «   পদ্মা সেতুর স্মারক নোট বাজারে আসবে রবিবার  » «   পদ্মা সেতুর জন্য অভিনন্দন বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধির  » «   অদম্য বাংলাদেশ, খুলল পদ্মার দ্বার  » «   আছে শুধু ভালোবাসা, দিয়ে গেলাম তাই: প্রধানমন্ত্রী  » «   রেমিটেন্স প্রেরণে উদ্বুদ্ধকরণে মাদ্রিদে মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্বনাথে মায়ের কোল থেকে ভেসে গেল শিশু, ৫ জনের মৃত্যু  » «   লন্ডনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ইউকের বিশ বছরপূর্তি উদযাপন  » «   মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবাদ এবং সাধারণ জনগণ  » «   স্পেনে ঢাকা ফ্রুতাস (Frutas) এর ১৬ বছর পূর্তি উৎসব অনুষ্ঠিত  » «   সিলেটে বন্যা : বৃষ্টি হয়েছে নদ-নদীর পানি কমেছে  » «   সিলেটে রানওয়েতে বন্যার পানি, বন্ধ বিমানের ফ্লাইট  » «   যুক্তরাজ্যে ঈদে ছুটির দাবীতে আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ ২২শে জুন  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


আবরার হত্যার আগে ম্যাসেঞ্জারে ছাত্রলীগ নেতার নির্দেশনা



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে মেরে হল থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান রবিন।

আবরারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার একদিন আগে (৫ অক্টোবর) শেরে বাংলা হলের ১৬তম ব্যাচের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এ নির্দেশ দেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও শেরে বাংলা হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠন করা ফেসবুক গ্রুপে ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটে এ নির্দেশ দেন তিনি।

‘এসবিএইচএসএল ১৬+১৭’ নামে ওই ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে আবরারকে মেরে বের করে দেয়ার কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গ্রুপটি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে হলের ১৫ ও ১৬তম ব্যাচের নেতাকর্মীদের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হতো একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জাগো নিউজের হাতে এ রকম কথোপথনের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের চারটি স্কিনশর্ট এসেছে। ওই ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে নেতাকর্মীদের কথোপকথন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ১৬তম ব্যাচের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মেহেদি হাসান রবিন লিখেন, ‘১৭ এর আবরার ফাহাদ; ১৬তম ব্যাচকে ম্যানশন করে লিখেন, মেরে হল থেকে বের করে দিবি দ্রুত@১৬; এর আগেও বলছিলাম; তোদের তো দেখি কোনো বিগারই নাই; শিবির চেক দিতে বলছিলাম; দুইদিন সময় দিলাম।’

রবিন ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে আরও লিখেন, ‘দরকারে ১৬ ব্যাচের মনিরের সঙ্গে কথা বলিস। ও আরো কিছু ইনফো দিবে শিবির ইনভলমেন্টের ব্যাপারে।’ ‘ওকে ভাই’ জবাব দেন ১৬তম ব্যাচের মনিরুজ্জামান মনির।

রবিনের নির্দেশ পাওয়া পরদিন রোববার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৫২ মিনিটে মনির গ্রুপে লিখেন, ‘নিচে নাম সবাই’। এখানে উল্লেখ্য যে, মিজান আবরারের রুমমেট। এ ধরনের কথোপকথনের সূত্র ধরে মিজানকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

ওই কথোপকথনের পরপরই রাত ৮টা ১৩ মিনিটে আবরার ফাহাদকে তার রুম থেকে ডেকে নিয়ে যায় তানিম, বিল্লাহ, অভি, সাইফুল, রবিন, জিওন, অনিক। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর শেরেবাংলা হলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে যা ধরা পড়েছে।

এরপর রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে ‘এসবিএইচএসএল ১৬+১৭’ গ্রুপে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা লিখেন, ‘আবরার ফাহাদ কি হলে আছে?’ জবাবে শামসুল ও সজিব জানান, ‘২০১১ তে আছে।’ জানা গেছে ২০১১ কক্ষটি অমিত সাহার।

ম্যাসেঞ্জারে অন্য আরেকটি ব্যক্তিগত কথোকথন পাওয়া গেছে, যা ছিল অমিত সাহা ও ইফতি মোশাররফ সকালের মধ্যে। এতে অমিত সাহা লিখেছেন, ‘আবরার ফাহাদ রে ধরছিলি তোরা’। ইফতি জবাবে লেখেন, হ। পুনরায় অমিত প্রশ্ন করেন ‘বের করছস?’ জবাবে ইফতি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘কী? হল থেকে নাকি স্বীকারোক্তি?’ এবার অমিত লিখেন, ‘স্বীকার করলে তো বের করা উচিত।’

এরপর ইফতি জবাবে বলেন, ‘মরে যাচ্ছে; মাইর বেশি হয়ে গেছে’ জবাবে অমিত সাহা লিখেন, ‘ওওও. বাট তাকে তো লিগ্যাললি বের করা যায়’ এরপর একটি ইমোজি সেন্ড করেন ইফতি। পরবর্তীতে এই দুজনের আর কোনো কথোকথন পাওয়া যায়নি।

ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে কথোপকথনের প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। আমরা হত্যা সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছি। কথোপকথনের বিষয়টিও যাচাই-বাছাই চলছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে হয়তো অমিত সাহা উপস্থিত ছিল না। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে আবরার হত্যায় তার প্রত্যক্ষভাবে না থাকলেও পরোক্ষ দায়-দায়িত্ব রয়েছে। তদন্ত, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তা উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী বলতে পারি, অপরাধের সাথে জড়িত কেউ ঘটনাস্থলে থেকেও করতে পারে আবার ঘটনাস্থলে না থেকেও করতে পারে। অনেক ঘটনায় দেখা গেছে ঘটনাস্থলে না থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এক্ষেত্রে তেমনই কিছু ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, আবরার হত্যায় জড়িতরা কে, কি নামে, কোন দলের তা দেখা হবে না। আইনে সুযোগও নেই। কারো সামাজিক অবস্থানও তদন্তে আমলে নেয়া হচ্ছে না। ডিবি পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিয়ে এ ঘটনা তদন্ত করছে।

আবরারের বাবার এজাহার দায়েরের আগেই ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৯ জনের নামে মামলা করার পর আদালতে সোপর্দ করে ১০ জনকে মোট পাঁচদিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়। এজাহারের পর খুবই দ্রুততার সাথে আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মোট ১৬ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১২ জন হচ্ছেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেহেদী হাসান রবিন, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. আকাশ হোসেন ও হোসেন মোহাম্মদ তোহা।

গ্রেফতারদের মধ্যে এজাহারবহির্ভূত চারজন হলেন- ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান ও শামসুল আরেফিন রাফাত।। প্রাথমিক তদন্তে ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন