শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
বিজিবি-বিএসএফ গুলাগুলি:বিএসএফ সদস্য নিহত  » «   বিক্ষোভ-মিছিল-অগ্নিসংযোগ আর আন্দোলনে উত্তাল স্পেনের কাতালোনীয়া  » «   রিভার বাংলা নদী সভা’র কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটি গঠিত  » «   আমিরাতের শ্রম মন্ত্রীর সাথে ভিসা নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   কবি দিলওয়ার সুরমাপারের কবি হলেও আর্ন্তজাতিক কবি  » «   গীতিকবি রইস রহমানকে নিয়ে কবিকণ্ঠ’র সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত  » «   ছাত্রসংগঠনকে দলীয় রাজনীতিমুক্ত করুন  » «   নিউইয়র্কে মতবিনিময় সভায় নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি  » «   রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কাতালোনিয়ার ৯ নেতার কারাদণ্ডাদেশ  » «   জলবায়ু পরিবর্তন, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন নুরুল ইসলাম নাহিদ  » «   প্রধানমন্ত্রীর সাথে আবরারের পরিবারের সদস্যরা  » «   প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহের কাজ শুরু হচ্ছে শিঘ্রই  » «   গ্রীসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মতবিনিময়  » «   আবরার হত্যায় ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের বিস্ময় ও দুঃখপ্রকাশ  » «   বুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের কক্ষ সিলগালা  » «  

ইউরোপে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ



ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি সদস্য দেশের যেকোনো একটি দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের মাধ্যমে যে কেউ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হয়ে উঠতে পারে।ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের দেশগুলো হলো অস্ট্রিয়া, পোল্যান্ড, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইরিশ প্রজাতন্ত্র, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মালটা, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য। ব্রেক্সিট কার্যকর হলে ৩১ নভেম্বর পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য এ আওতায় বাইরে চলে যেতে পারে।

নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়ে ই ইউর প্রত্যেকটি দেশেরই আছে আলাদা আলাদা নিয়ম, শর্ত ও আইন কানুন।

ইউরোপীয় নাগরিকত্ব এবং স্থায়ী আবাসের জন্য বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো খুব সহজে ইউরোপের যে কোন দেশে যাতায়াত করতে পারা। সেটা হতে পারে ভ্রমণ, কাজ কিংবা বসবাসের জন্য। ইউরোপের যেকোন একটি দেশের নাগরিকত্ব ইইউ’র সকল দেশে প্রবেশের দরজা খুলে দিবে।

এছাড়া ইউরোপের সীমানার বাইরে যেসব দেশে যেতে ভিসা লাগেনা; যেমন কানাডা, হংকং, সিঙ্গাপুর, এবং নিউজিল্যান্ডেও খুব সহজে প্রবেশ করা যায়।

যেমন, পর্তুগালে আবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য যে ‘গোল্ডেন ভিসা’ স্কিমটি চালু আছে; সেটার মাধ্যমে দ্রুত ও সাশ্রয়ী বিনিয়োগ করে সম্পূর্ণ ইউরোপীয় আবাসন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ আছে এবং স্থায়ী আবাসন সুবিধা পাওয়ার পথ তৈরি করে, কখনও কখনও দ্রুততর সময়ে নাগরিকত্বও পাওয়া যায়।

নাগরিকত্ব অর্জনের পাশাপাশি দ্বিতীয় পাসপোর্ট অর্জনের জন্য বিনিয়োগের-মাধ্যমে-নাগরিকত্ব পদ্ধতিটাই সবচেয়ে দ্রুতগতির এবং সহজ, যা বিনিয়োগকারীর ভ্রমণের সুযোগ-সুবিধাও বাড়িয়ে দিবে। ইউরোপের যেকোন একটি দেশের নাগরিকত্ব পেলে সব দেশে উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ পাওয়া যায়; যার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নিরাপদ পরিবেশ অন্তর্ভুক্ত। প্রতিযোগিতামূলক নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে ইউরোপ প্রধান গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

ফরাসি অর্থনীতিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১ মিলিয়ন ইউরো বা তারও বেশি রাজধানী নাগরিকত্ব অর্জনের পদ্ধতিটি সহজ করে তুলতে পারে তবে এটি স্বয়ংক্রিয় স্থিতির অধিগ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত শর্ত নয়।ফরাসি অর্থনীতিতে বিনিয়োগ নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে পারে।

বুলগেরিয়াতে আবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য যে প্রকল্প চালু আছে, তার অধীনে প্রায় ৫১২,০০০ ইউরোর বিনিময়ে স্থায়ী আবাসন অনুমতি প্রদান করা হয়- যা সরকারিভাবে নিশ্চয়তা প্রদান করে এবং পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে আর কোন অর্থ ব্যয় করতে হয় না। মেয়াদ শেষ হলে সুদ ছাড়া পুরো অর্থটাই ফেরত দেওয়া হবে। ৫ বছর স্থায়ীভাবে বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যাবে।

পর্তুগাল গোল্ডেন রেসিডেন্স পারমিট প্রোগ্রাম:
প্রপার্টি বিনিয়োগের মাধ্যমে পর্তুগালের গোল্ডেন রেসিডেন্স পারমিট প্রোগ্রাম অফার করছে হার্ভে ল’ গ্রুপ। পর্তুগালে ৫ বছরের রেসিডেন্স পারমিট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভিসা-ফ্রি শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের সুযোগ দেয়। এই প্রোগ্রামে আবেদনকারীর ৫০০,০০০ ইউরোর সমমূল্যের প্রপার্টি থাকতে হবে অথবা ৩৫০,০০০ ইউরোর সমমূল্যের প্রপার্টি থাকতে হবে, যা ৩০ বছরের বেশি পুরনো হতে হবে কিংবা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান হবে। প্রয়োজনীয় শর্তাবলী যথাযথভাবে পূরণ সাপেক্ষে ৫ বছরের আবাসন অনুমতির জন্য আবেদন করা যায়।

সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব অর্জনের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে। সাইপ্রিয়ট পাসপোর্টধারীরা পরিবারের সদস্যসহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের যেকোন দেশে বসবাস, ভ্রমণ, কাজ, পড়াশোনা, করতে পারবে এবং জমিও কিনতে পারবে এবং পরবর্তী প্রজন্ম সরাসরি নাগরিকত্ব পাবে। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত বা যৌথভাবে কমপক্ষে ২মিলিয়ন ইউরো জমা থাকতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৩ মাস এবং পাসপোর্ট হতে ৬ মাসের মতো সময় লাগবে।

মাল্টা নাগরিকত্ব সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব অর্জনের মতোই। মাল্টা নাগরিকত্ব পেতে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ৩টি উপায় পছন্দ করতে পারেন। ক) জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ফান্ড হিসেবে ৬৫০,০০০ ইউরোর নন-রিফান্ডেবল অবদান; খ) রিয়েল এস্টেটে ৩৫০,০০০ ইউরো বিনিয়োগ অথবা যেকোন একটি প্রোপার্টি কমপক্ষে ১৬,০০০ ইউরোতে ইজারা দিতে হবে-যা ৫ বছরের জন্য ইজারাভুক্ত থাকবে। গ) সরকার অনুমোদিত কোন অর্থপণ্যে কমপক্ষে ৫ বছরের জন্য সর্বনিম্ন ১৫০,০০০ ইউরো বিনিয়োগ করতে হবে। সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৪ মাস এবং পাসপোর্ট হতে ১২ মাসের মতো সময় লাগবে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ দেশেই এ রকম বিনিয়োগের মাধ্যমে সরাসরি নাগরিকত্ব গ্রহণের কর্মসূচি নেই।

তবে বহু দেশের সরকার তাদের দেশে অর্থ বিনিয়োগের জবাবে বসবাসের সুযোগ দিয়ে থাকে।যেমন ধরা যাক ব্রিটেনের কথা। সেখানে কেউ যদি অন্তত ২০ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ করেন তাহলে তাকে ইনভেস্টর ভিসা দেওয়া হয়।কয়েক বছর বসবাস করার পর তিনি এ দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার চেয়ে আবেদন করতে পারেন। যুক্তরাজ্যে ২০১৭ সালে এরকম ৩৫৫ জন বিনিয়োগকারীকে ইনভেস্টর ভিসা দেয়া হয়েছে।

সে বছর যুক্তরাজ্য কাজের জন্যে যতো ভিসা দিয়েছিল এই ইনভেস্টর ভিসা ছিল তার শূন্য দশমিক তিন শতাংশ।বড় ধরনের অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। তবে এর সাথে হয়তো আরো কিছু শর্ত থাকতে পারে।

তবে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, খুবই অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ এধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে।