বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
হাউড বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের একুশে পালন  » «   একুশে উপলক্ষে নেপলীতে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের শিশু-কিশোরদের অনুষ্ঠান  » «   মাদ্রিদে স্প্যানিশ বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   স্পেনের ইতিহাসে প্রথম একুশে বইমেলা  » «   পর্তুগালের লিসবনে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   ইতালী আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল উপলক্ষে প্রস্তুতি কমিটি  » «   ইতালিতে অমর একুশে পালিত  » «   স্পেনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   পরমাণু বিজ্ঞানী ও লেখক ড. ফয়জুর রহমান আল সিদ্দিকর সাথে কথোপকথন  » «   ২১শে ফেব্রুয়ারীতে বইমেলায় মানুষের ঢল  » «   একুশের চেতনা পাকিস্তানেও  » «   লন্ডনে সফলভাবে ‘বঙ্গবীর ওসমানী কাপ ২০২০’ সম্পন্ন  » «   প্যারিসে ৫২বাংলা টিভির ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান  » «   স্পেনে চোর-ডাকাত প্রতিরোধে প্রতিবাদ র‍্যালি  » «   ক্রিস্টমাস সিঙ্গল ক্যারামের পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত  » «  

যুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা ন্যাপ সভাপতি মোজাফফর আহমদ আর নেই



মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কয়েক দিন ধরে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৯ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের একমাত্র জীবিত সদস্য ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন জানান, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ গত কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। ব্লাড প্রেসার কমে যাওয়া ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ১৪ অগাস্ট তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর অবস্থা আরও গুরুতর হওয়ায় ১৯ অগাস্ট তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে একাত্তরে ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে বিশেষ গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলায় নেতৃত্ব দেন মোজাফফর আহমদ। প্রশিক্ষণ শেষে ওই বাহিনী ঢাকা, নরসিংদী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, রংপুরসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনেও ভূমিকা পালন করেন মোজাফফর আহমদ।
মোজাফফর আহমদের জন্ম ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল, কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্সসহ এমএ পাস করার পর ইউনেসকো ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর যোগ দেন অধ্যাপনায়। চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোজাফফর আহমদ এই আন্দোলন সংগঠনে ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৪ সালে চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ওই বছর সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে কুমিল্লার দেবীদ্বার থেকে জয়ী হন।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদই প্রথম ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব তোলেন। এরপর ছয় দফাসহ প্রতিটি আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন তিনি।

ষাটের দশকের শেষ ভাগে বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্ট আন্দোলনে চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নপন্থি দুই ধারা স্পষ্ট হয়। এ নিয়ে মতবিরোধ থেকে মাওলানা ভাসানী থেকে আলাদা হয়ে যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। ভাসানী নেতৃত্বাধীন ন্যাপ চীনপন্থি, আর ন্যাপ মোজাফফর হয় মস্কোপন্থি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকার কাকরাইলে মোজাফফর আহমদের বাবার বাড়ি লক্ষ্য করে গোলাগুলি শুরু হলে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এরপর সীমান্ত পেরিয়ে চলে যান ভারতের আগরতলায়।

তাজউদ্দীন আহমদকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী গঠন করা হলে তাতে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকেও সদস্য করা হয়।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মন্ত্রিত্ব নিতে অস্বীকার করা মোজাফফর আহমদ ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারও নেননি।

মোজাফফর আহমদ ১৯৫২ সালের ২৪ অক্টোবর আমিনা আহমেদকে বিয়ে করেন। তাদের একমাত্র মেয়ে আইভির জন্ম হয় ১৯৫৫ সালে।ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্ত্রী আমিনা আহমেদ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নবম সংসদের সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ছিলেন।