বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বাংলা প্রেসক্লাব ইতালী  » «   স্পেনে করোনা ভাইরাস : বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের নির্দেশনা  » «   স্পেনে ৫২বাংলার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান  » «   হাউড বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের একুশে পালন  » «   একুশে উপলক্ষে নেপলীতে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের শিশু-কিশোরদের অনুষ্ঠান  » «   মাদ্রিদে স্প্যানিশ বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   স্পেনের ইতিহাসে প্রথম একুশে বইমেলা  » «   পর্তুগালের লিসবনে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   ইতালী আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল উপলক্ষে প্রস্তুতি কমিটি  » «   ইতালিতে অমর একুশে পালিত  » «   স্পেনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   পরমাণু বিজ্ঞানী ও লেখক ড. ফয়জুর রহমান আল সিদ্দিকর সাথে কথোপকথন  » «   ২১শে ফেব্রুয়ারীতে বইমেলায় মানুষের ঢল  » «   একুশের চেতনা পাকিস্তানেও  » «   লন্ডনে সফলভাবে ‘বঙ্গবীর ওসমানী কাপ ২০২০’ সম্পন্ন  » «  

ডেঙ্গু জ্বরে সারাদেশ বিপর্যস্থ, আগষ্ট হতে পারে আরও ভয়ংকর



রাজধানীসহ সারাদেশে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগ। এ মাসের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৯২ জন। কিন্তু ২৯ দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩৫ জনে।

অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় প্রতি মিনিটেই একজন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ থাকলেও কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকা বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের প্রায় সব জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন জেলায় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৬১ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ৩০ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশের হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৩৬৯ জন। এর মধ্যে চলতি মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ১৮২ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ইতোমধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ১০ হাজার ৯৫৩ জন।

এদিকে সরকারি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হিসাবে, ডেঙ্গু রোগে মৃত রোগীর সংখ্যা মাত্র আটজন বলা হলেও, বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা পাঁচ গুণেরও বেশি। আজও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবের স্ত্রীসহ দুজন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। ডেঙ্গু আশঙ্কায় সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এখন শত শত রোগীর লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে।

হঠাৎ ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে জায়গা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে শয্যা খালি নেই দোহাই দিয়ে রোগীদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে ফেরত না দিলেও, সেখানে শয্যার অভাবে রোগীদের ঠাঁই হচ্ছে ওয়ার্ডের ফ্লোর, বারান্দা, গলিপথ এমনকি সিঁড়ি কোটায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেল্থ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে চিকিৎসাধীন মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৪০৮ জন।

এদিকে আজ (মঙ্গলবার) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী ডেঙ্গু-সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশকালে বলেন, গত কয়েক বছরের গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে মোট আক্রান্ত এক হাজার ৩৩৫ জনের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২২১, মিটফোর্ড হাসপাতালে ১০৫, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৪৮, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৬১, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৪২, বারডেম হাসপাতালে ১৭, বিএসএমএমইউতে ২৬, পুলিশ হাসপাতাল, রাজারবাগে ৩৩, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৩, বিজিবি হাসপাতাল, পিলখানায় ২ এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৯০ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২৬৫ জন ভর্তি হন। ঢাকা শহর ছাড়া ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১০৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৫ জন, খুলনা বিভাগে ৫৬, রংপুর বিভাগে ২০, রাজশাহী বিভাগে ৫৬, বরিশাল বিভাগে ছয়, সিলেট বিভাগে ৫৫ ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেল্থ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার বাইরে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৮৪৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অবশ্য অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।