বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
গীতাঞ্জলি সম্মাননা পদক-২০১৯ পাচ্ছেন দেশের তিন বরণ্য গুণীজন  » «   ফ্রান্সে পররাষ্ট্রমন্ত্রী  ড.এ কে আব্দুল মোমেন সংবর্ধিত  » «   শাবির বেগম সিরাজুন্নেসা হলের নতুন প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ  » «   বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  » «   হাইড বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ারের বার্ষিক সাধারন সভা  » «   যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দুঃখপ্রকাশ  » «   ফেসবুকে মহানবীকে (সা.) কটূক্তির অভিযোগ’র ঘটনা  » «   সাকিবের নেতৃত্বে ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের ডাক  » «   সিলেটে ক্রিয়েটর ল্যাব অত্যাধুনিক আইটি শিক্ষা দিচ্ছে  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল-এ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা  » «   স্পেনে ‘হাসিনা: এ ডটার্স টেল’ প্রদর্শিত  » «   দুবাইয়ে বাংলাদেশি মালিকানাধিন তৈয়ুর আল জান্নাহ স্টেশনারির যাত্রা শুরু  » «   কাতালানদের আন্দোলনে বার্সেলোনা কার্যত অচল  » «   স্পেনে এশিয়ান চলচ্চিত্র প্রদর্শনী উৎসবে ‘হাসিনা:এ ডটার্স টেল ‘ প্রদর্শিত  » «   বিজিবি-বিএসএফ গুলাগুলি:বিএসএফ সদস্য নিহত  » «  

সিলেটের সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আ ফ ম কামাল চিরনিদ্রায়



সাবেক সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান আ ফ ম কামালকে চোখের জলে শেষ বিদায় দিয়েছেন সিলেটবাসী। রবিবার বিকেলে সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ মাঠে তার জানাজার নামাজ শেষে হযরত শাহশাজালাল (র.) এর মাজার গুরুস্তানে তাকে দাফন করা হয়েছে।হাজার হাজার অশ্রুসিক্ত মানুষের ভালবাসায় সিলেটের প্রবিন এই রাজনীতিবিদ সমাহিত হয়েছেন।

১৪ জুলাই রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় শাহী ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় মানুষের ঢল নামে। রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সিলেটের সর্বস্থরের মানুষ জানাজায় অংশগ্রহন করেন।

জানাজা পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আ ফ ম কামালের জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক মেয়র ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ আ ফ ম কামাল (আবুল ফজল মোহাম্মদ কামাল) ১৩ জুলাই শনিবার রাত ১০ টা ১০ মিনিটে তিনি নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৬ বছর। আ.ফ.ম কামাল মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

প্রবীণ এ রাজনীতিবিদের মৃত্যুর খবরে নগরীজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট আ ফ ম কামালের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।সিলেট জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে এ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে ।

এদিকে সাবেক সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ আ.ফ.ম কামালের মৃত্যুর খবর পেয়ে শনিবার রাতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, রাজনীতিবিদ লোকমান আহমদসহ বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মীরা হাসপাতাল ও নগরীর চারাদিঘীরপারস্থ মরহুমের ৫৩ মজলিস আমিনস্থ বাসায় ছুটে যান।

 

পারবারিক সুত্র থেকে জানা যায়, আ ফ ম কামাল দীর্ঘদিন থেকে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। প্রতি সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে তাঁকে এক ব্যাগ রক্ত দেয়া হতো। গতকাল শনিবার সকালেও রক্ত দেয়ার উদ্দেশ্য নগরীর ওয়েসিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে হঠাৎ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রাত ১০টা ১০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থান তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আ ফ ম কামালের কর্মময় জীবনীঃ
সাবেক সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান আবুল ফজল মোহাম্মদ কামাল ১৯৪৩ সনের ২০ ডিসেম্বর সিলেট শহরের হাওয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৫ সালে সিলেট সরকারি কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে আইন ব্যবসার সাথে সাথে ন্যাপে যোগদানের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় হন। তিনি ১৯৬৯ সালে সিলেট শহর ন্যাপের সভাপতি এবং ১৯৭২-১৯৭৪ সালে সিলেট জেলা ন্যাপের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বিশেষ কারণে ১৯৭৫ সালে ন্যাপ থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকে সরে আসেন।

আ ফ ম কামাল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে দেশের অভ্যন্তরে থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ভারতের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির থেকে দেশে প্রত্যাগতদের স্বাগতম জানানোর জন্যে স্থাপিত কেন্দ্রসমূহের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে তাদের পুনর্বাসনে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে তিনি সিলেট জেলা বারের সমাজসেবা সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং পরের বছরও তিনি একই পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
কামাল ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর রাষ্ট্রীয় গন্ডি অতিক্রম করে ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরূপে যোগদান করেন এবং সেখানে তাৎপর্যময় বক্তব্য রাখেন। তিনি ১৯৮৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮৫ সালে আ ফ ম কামালের উদ্যোগে পবিত্র কাবা শরীফের প্রধান ইমাম সিলেটে শুভাগমন করলে তাকে পৌরসভা হলে ও শাহী ঈদগাহ ময়দানে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। ১৯৮৭ সালে সিলেট পৌরসভার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ইতিহাস সম্মেলনের আয়োজন করা হলে এতে দেশ-বিদেশের ইতিহাসবেত্তাগণ আমন্ত্রিত হন। ১৯৮৬ সালে সিলেট পৌরসভা জাপানভিত্তিক বিশ্ব মেয়র সংহতি পরিষদের সদস্য পদ লাভ করে। সেই সময়ে আ ফ ম কামালের আন্তরিক প্রচেষ্টায়ই তৎকালীন একমাত্র সিলেট পৌরসভাই সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে এ গৌরবের অধিকারী হয়েছিলো ।

 

আ ফ ম কামাল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর তাঁর সাড়ে চার বছরের মেয়াদকালে সিলেট পৌরসভাকে একটি আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার, উন্নয়ন ও জনহিতকর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তাঁর সময়কালে সম্পন্ন উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা, সিলেট পৌরসভার দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা লাভ, প্রথম বারের মতো এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু, অরক্ষিত ও অবহেলিত হযরত শাহজালাল (রঃ)’র দরগাহ শরীফ সংলগ্ন গোরস্থান ও হযরত মানিকপীর (রঃ)’র মাজার শরীফ সংলগ্ন গোরস্থান দুটির প্রাচীর বেষ্টিতকরণ, শেখঘাট হযরত শাহজালাল (রঃ) ঘাট নির্মাণ (কসবে সিলেটের যে স্থানের মাটি হযরত শাহজালাল (রঃ)’র কদম মোবারক স্পর্শ করেছিল)। শেখঘাট মসজিদ সংলগ্ন স্থানে জানাজার নামাজ পড়ার জন্যে ঘাটের উপর প্রশস্ত জায়গা রাখা এবং ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহকে আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যে ঈদগাহ সংলগ্ন পয়েন্টে গোলচত্বর নির্মাণ, কাষ্টঘরে দ্বিতল সুইপার কলোনী নির্মাণ, আর্তমানবতার কল্যাণে পৌর বিনোদিনী দাতব্য চিকিৎসালয়ে ডায়াবেটিক ক্লিনিক চালু, বন্দর বাজার ও জিন্দাবাজারে দুটি সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন, পৌর ভবনে আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিসের নগর টিকেট বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন, সার্কিট হাউসের সন্নিকটে ও হকার মার্কেটে দুটি শৌচাগার নির্মাণ তাঁর সময়ের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম।
১৯৮৯ সালে সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান পুনঃনির্বাচিত হন। গতকাল শনিবার রাতে আ ফ ম কামালের মৃত্যুর খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে শত শত লোকজন নগরীর চারাদিঘীরপারস্থ তাঁর বাসভবনে তাকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেন। বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত হন। তারা পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানান।