রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
খায়রুল আনামের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «   মনসা পূজোর জন্যে আবার প্রস্তুত সিকদার বাড়ি  » «   স্পেনে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস  » «   মিলান কনস্যুলেটে জাতীয় শোক দিবস পালন  » «   লন্ডনে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক তাজুল মোহাম্মদের সাথে অন্তরঙ্গ আড্ডা  » «   সৌদি আরবে জাতীয় শোক দিবস পালিত  » «   সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজি নিহত  » «   সৌদির তেল স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা  » «   বাংলাদেশ কনসুলেট জেদ্দার শোকদিবস পালন  » «   জেদ্দা ইংরেজি মাধ্যমে স্কুলে ৪৪তম “জাতীয় শোক দিবস” পালন করেছে।  » «   আমিরাতে বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনী  » «   বাংলাদেশ সমিতি ফুজাইরাহতে শোকদিবসের ৩দিন ব্যাপি কর্মসূচি পালিত  » «   অসাধারণ দেশ প্রেমিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু : গ্রীসের রাষ্ট্রদূত  » «   ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের শোক দিবস পালন  » «   পুর্তগালে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দুতাবাস  » «  

সুনামগন্জ সহ সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি



টানা বর্ষণে সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, আমলসীদ, শেওলা, ধলাই, সারীসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি উপচে যোগাযোগের রাস্তাসহ নতুন এলাকা তলিয়েছে। কুশিয়ারা ডাইক এবং ধলাই বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় জন দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে পর্যটন এলাকা শ্রীমঙ্গল। সুনামগঞ্জের ৯ উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়ায় ২৫২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জে বন্যার পানিতে ডুবে এক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে।

অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট মহানগরীর মাছিমপুর ও যতরপুরের নীচু এলাকাতেও বন্যা দেখা দিয়েছে। মাছিমপুরের রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় জন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, সিলেট সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের লোকজন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো)-এর কন্ট্রোল রুম সূত্র গতকাল জানায়, শনিবার বিকাল ৩টায় সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা বিপদসীমার ১৫৭ সেন্টিমিটার, সিলেটে সুরমা ৬৫ সেন্টিমিটার, শেওলায় কুশিয়ারা বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার, আমলসীদে কুশিয়ারা বিপদসীমার ১৩৯ সেন্টিমিটার, শেরপুরে কুশিয়ারা বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার, এবং সারিঘাটে সারি নদীর পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান মজুমদার জানান, বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ পর্যন্ত ৫শ’ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৮ লাখ টাকা এবং দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোর ৬ টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১১৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত আরো দু’একদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও সিলেট আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।

উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে সুনামগন্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় হুইপ ও সুনামগঞ্জ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। সভায় জানানো হয়, জেলার ৯ টি উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলায় ২ কোটি ৬২ লাখ ৩৪ হাজার ২ শত টাকার মাছ ভেসে গেছে। ১ হাজার ২৬৩ হেক্টর জমির আউশ ধান এবং ১২৫ হেক্টর জমির বীজতলা নষ্ট হয়েছে। অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ৫টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এ উপজেলাগুলো হচ্ছে, সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও ছাতক। এছাড়াও জামালগঞ্জ, শাল্লা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। গত ১৫ দিনে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জের ৯টি উপজেলার ২০২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

সভায় সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় ১২২টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। সিভিল সার্জনের এমন বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানদের তোপের মুখে পড়তে হয় তাকে। ইউপি চেয়ারম্যানরা সিভিল সার্জনের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত কোন মেডিকেল টিম তারা দেখেননি বা স্বাস্থ্য বিভাগের কোন কর্মীকে দায়িত্ব পালন করতেও দেখা যায়নি।

দোয়ারাবাজারে (সুনামগঞ্জ) গত ৮ দিনের টানা বর্ষণ ও অব্যাহত পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন ৯ ইউনিয়নের সাড়ে ৪ হাজার পরিবারের পানিবন্দি মানুষ। রাস্তাঘাটসহ নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি ঢোকায় অধিকাংশ পরিবারের উঁনুনে হাঁড়ি বসছে না। উপজেলার কনসখাই, নাইন্দা, বন্দেহরি, পান্ডারখাল, গৌরিপুর, হিঙ্গিমারি, শান্তিপুর, গোয়ারাই, বড়ঝাই, কানলা ও দেখার হাওর তলিয়ে গেছে। ঢলের তোড়ে ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ। তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর উঠতি আউশ-ইরি, সদ্য বপন করা আমনের বীজতলা, সবজি ক্ষেতসহ মাঠঘাট ও গোচারণ ভূমি। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। গতবৃহস্পতিবার থেকে উপজেলার ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলার সুরমা ইউনিয়নস্থ বৈঠাখাই কমিউনিটি ক্লিনিকটি কালের সাক্ষি হয়ে হাওরের মাঝখানে নির্বাক একাকি দাঁড়িয়ে থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। উপজেলা সদরে সুরমার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে অফিসপাড়াসহ বাসাবাড়ি পানিতে থৈ থৈ করছে। উপজেলা পরিষদের সম্মুখস্থ পাকা সড়কসহ নদীপাড়ের অব্যাহত ভাঙনে রাতদিন আতঙ্কে কাটছে ব্যবসায়ীদের। ইতোপূর্বে দোয়ারাবাজার-সুরমা লাফার্জ সড়কের মাস্টার পাড়া এলাকায় দীর্ঘ রাস্তা ও দোকানপাটসহ ৭টি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দোয়ারাবাজার সদর ও সুরমা ইউনিয়ন ছাড়াও বগুলা, লক্ষীপুর, নরসিংপুর, বাংলাবাজার, দোহালিয়া, পান্ডারগাঁও ও মান্নারগাঁও ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া সুলতানা উপদ্রুত এলাকাসমূহ পরিদর্শনকালে বন্যায় আক্রান্ত হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে প্লাবিত হওয়ায় পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে । এদিকে টানা বর্ষণে দ্রুত গতিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকার প্রধান প্রধান রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পানিবন্দি রয়েছেন হাজারো পরিবার। প্রতিদিনই বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষদের। সবার মনে এখন বন্যা আতংক বিরাজ করছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সফি উল্যাহ বলেন, সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্ততি রয়েছে। উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির খবরাখবরের জন্য কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ইউনিয়ন পর্যায়ে ত্রাণের চাউল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার থেকে শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন বলেন, বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। আমরা সার্বক্ষণিক খবর রাখছি। এই মুহূর্তে সবার উচিত বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো। আমরা উপজেলা প্রশাসন যা প্রয়োজন করতে প্রস্তুত আছি বলেও জানান।

ছাতকে (সুনামগঞ্জ) অব্যাহত বর্ষণে ছাতকে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ছাতক-সিলেট সড়কে মুক্তিরগাঁও অংশে এবং ছাতক-সুনামগঞ্জ অংশে দোহালিয়ার নিকট রাস্তায় পানি উঠায় যে কোন সময় যান চলাচল বন্ধ হওয়ার আশংকা রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করতে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা ও লোভা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কানাইঘাট সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ১৫৭ সে. মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সুরমা-লোভা সহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি অব্যাহত ভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে নদী ভাঙ্গণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। উজান থেকে নেমে আসা প্রবল পানির স্রোতের কারণে গোটা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কানাইঘাট-দরবস্ত সড়কের নিচু এলাকা দিয়ে বন্যার পানি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সড়কের বিকল্প নকলা বেইলি ব্রীজ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে সিলেটের সাথে কানাইঘাট উপজেলা সদরের সাথে সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল গতকাল শনিবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও কানাইঘাট-সুরাইঘাট সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি পৌর শহরের নিম্নাঞ্চল ও উপজেলার সব’টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ফসলী মাঠ বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় শত শত বিঘা আউশ ধানের জমি ও আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে উৎকন্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। কয়েকশ বাড়ি ঘরে গত শুক্রবার রাত থেকে বন্যার পানি ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান ডা: ফয়েজ আহমদ জানান, তার ইউনিয়নের লোভা ও সুরমা নদীর তীব্র ভাঙ্গণের পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। মেছা, সতিপুর, বাজেখেল, কান্দলা, ভাল্লুকমারা, খালাইয়ুরা, উজান ভারাপৈত, নক্তিপাড়া, ছোটফৌদ, নারাইনপুর, কাড়াবাল্লা পূর্ব-পশ্চিম, কেউটি হাওর এবং কান্দিগ্রামের অধিকাংশ এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। অনের বাড়ি ঘর পানিতে আক্রান্ত হওয়ায় মেছা সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

এছাড়া, বড়চতুল ইউনিয়ন, দিঘীরপাড় পূর্ব, সাতবাঁক, কানাইঘাট সদর, বাণীগ্রাম, ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন ও কানাইঘাট পৌরসভার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া সুলতানা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুসিকান্ত হাজং গত শনিবার বিকেলে কানাইঘাটের বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক বিষয় তদারকি করছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ জানিয়েছেন, কানাইঘাটের বন্যা পরিস্থিতির প্রতিনিয়ত সংবাদ জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হচ্ছে। সার্বক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। সরকারিভাবে গত শনিবার বন্যা দুর্গতদের জন্য ৪টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং তা দ্রুত বিতরণ করা হবে।

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম ভারী বৃষ্টি পাতের ফলে জৈন্তাপুর উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলার জনজীবন বির্পযস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের অনেক মানুষের বাড়িঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। অনেক এলাকায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। জনসাধারণকে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ২য় দফা বন্যায় উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,মসজিদ,মাদ্রাসা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
সারী নদী, শ্রীপুর, রাংপানি ও বড়গাং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। বন্যায় নিজপাট, জৈন্তাপুর ও চারিকাটা, ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামে পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। অনেক এলাকার মানুষের মৎস্য খামার বন্যার পানিতে ভাসিয়ে গেছে। সারী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার দরবস্ত, ফতেপুর ও চিকনাগুল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। কৃষকদের চলিত আউস ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা রয়েছে। জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বাউরভাগ-কাটাখাল,মল্লিফৌদ এলাকায় নয়াগাং নদীর ভাঙ্গনে কয়েকটি বসতবাড়ি ও মসজিদ নদী গর্ভে চলে গেছে বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল আলী জানিয়েছেন।

জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান জানিয়েছেন, জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বেশিভাগ এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, বন্যায় পানিবন্দি মানুষ কে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণ কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যেতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে ১০ মেট্রিকটি চাল প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বন্যা কবলিত চারিকাটা, দরবস্ত, জৈন্তাপুর ও নিজপাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে তিনি নিম্নাঞ্চল এলাকায় বসবাসরত মানুষ সতর্ক থাকার আহবান জানান। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

অনেক সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার ও শুকনা খাবার বিতরণ করছেন। গতকাল শনিবার সকালে সিলেটের (ভারপ্রাপ্ত) জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বন্যা দুর্গত অসহায় জনগণের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।