রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
খায়রুল আনামের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «   মনসা পূজোর জন্যে আবার প্রস্তুত সিকদার বাড়ি  » «   স্পেনে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস  » «   মিলান কনস্যুলেটে জাতীয় শোক দিবস পালন  » «   লন্ডনে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক তাজুল মোহাম্মদের সাথে অন্তরঙ্গ আড্ডা  » «   সৌদি আরবে জাতীয় শোক দিবস পালিত  » «   সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজি নিহত  » «   সৌদির তেল স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা  » «   বাংলাদেশ কনসুলেট জেদ্দার শোকদিবস পালন  » «   জেদ্দা ইংরেজি মাধ্যমে স্কুলে ৪৪তম “জাতীয় শোক দিবস” পালন করেছে।  » «   আমিরাতে বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনী  » «   বাংলাদেশ সমিতি ফুজাইরাহতে শোকদিবসের ৩দিন ব্যাপি কর্মসূচি পালিত  » «   অসাধারণ দেশ প্রেমিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু : গ্রীসের রাষ্ট্রদূত  » «   ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের শোক দিবস পালন  » «   পুর্তগালে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দুতাবাস  » «  

ধর্ষণ ও হত্যার মিছিলে রক্তাক্ত সমাজ



বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন যত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে মানুষগুলোর নৈতিক মূল্যবোধ ও তার অবক্ষয় মনে হয় তার চেয়ে বহুগুণ দ্রুত অধঃপতনের  দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ।

এখনই সময় সামগ্রিক উন্নয়নের সাথে সাথে দেশের মানুষগুলোর নৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় সকল অন্যায় বিশেষ করে শিশু নির্যাতন,শিশু ও নারী ধর্ষণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইন চুড়ান্ত ও রেপিড বাস্তবায়ন করা ।

এক নয়ন ভন্ডের ভিডিও ভাইরালের কারণে তা সকলের নজরে এসেছে কিন্তু শত শত বন্ডরা প্রতিদিন এমন নৃশংস, জঘণ্য, নোংরা কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে । স্কুল ও কলেজগুলোতে পরিমলদের উত্তরসূরিরা নিয়মিত আতংক ছড়াচ্ছে। অভিযোগের পাহাড়ে হারিয়ে যাচ্ছে এসব অসভ্য ও বর্বর কৃতকর্মগুলো।
নিকট অতীতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতে খুব একটা শুনা যায়নি। যার কারণে এখন সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধর্ষণ, তারপর হত্যা ;প্রতিদিনকার টপ নিউজ।

রাষ্ট্রীয় হিসেবে এ বছরের জুলাই পর্যন্ত ধর্ষণ ও হত্যার মিছিলে ৩৯৯ জনে ঠেকেছে। যা ২০১৮ তে ছিলো ৩৬৬।মুসলিম বিশ্বে সবচাইতে বেশি ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলের  আয়োজন বাংলাদেশে সবচাইতে বেশি হয়।  এই দেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও কম নয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আবাসিক মাদ্রাসায় কিছু ‘নামধারী ও লেবাসধারী’ হুজুর কর্তৃক শিশু নির্যাতন ও বলৎকার,মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীদের ধর্ষণের পর কুরআন ছুঁয়ে কাউকে না বলার প্রতিশ্রুতি  ইতিমধ্যে ভয়াবহ আতংকের বার্তা-ই বহন করছে।

আমরা কথায় কথায় পাশ্চাত্যের কালচার অনুকরণে প্রজন্ম রসাতলে যাচ্ছে বলে গলা ফাটাই কিন্তু তাদের আদর্শ,মূল্যবোধ,জীব জন্তুর প্রতি,মানুষের অধিকারের প্রতি  তাদের অনুকরণীয় দায়বদ্ধতা ও নীতিবোধ ও মানবীয় গুণ চর্চার কথা বলিনা, গ্রহণ করিনা !

কোনো সভ্য দেশে হত্যা,ধর্ষণ ও সামাজিক যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদে গণ আন্দোলন করতে হবে,বিচারপ্রার্থীকে সংবাদ সম্মেলন করে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে আধুনিক বিশ্বে বিশেষ করে কল্যাণকামী তথা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য কোনভাবে
কাম্য হতে পারে না।

সাগর-রুনী থেকে শুরু করে তনু হত্যা,নুসরাত ও  সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া  বহুল হত্যা কাণ্ডের জন্য দেশ ব্যাপী আন্দোলন প্রতিবাদ চললেও  বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন জনগণ দেখেনি।

ক্লান্তির ও যে ক্লান্তি থাকে,
এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে এই প্রজন্ম ভবিষ্যতের জন্য  কতোটা  ‘মানবিক মানুষ’ হবে ,এমন প্রশ্নকে ফেলে দেওয়া যায়?

আইন প্রয়োগ ও তার বাস্তবায়ন-ই পারে একটা অসুস্থ্ জাতিকে সভ্য বানাতে। বাংলাদেশের মতো অপরাধ করে বেঁচে যেতে পারলে ইউরোপের  যুদ্ধ বিদ্ধস্ত, ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আজকের সভ্য জাতিগুলো মূল্যবোধ ও নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে আবার পৃথিবীতে রাজত্ব করতে পারতো না !

সুমু মির্জা: কবি ও সাংবাদিক