বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃক আঙ্গুরায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান  » «   স্পেনে বিয়ানীবাজার পৌরসভা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট বার্সেলোনা কমিটি গঠিত  » «   স্পেনে বাংলাদেশ কালচারাল ইয়ং ফেডারেশন কমিটি গঠিত  » «   গোলাপগঞ্জে সাংবাদিক জাহেদের উপর সন্ত্রাসী হামলা  » «   মাসা আমিনির মৃত্যুতে ইরানের ‘নীতি পুলিশ’ এখন আলোচনায়  » «   অনশনে বসতে আ’লীগ কার্যালয়ে ইডেন ছাত্রলীগের ১২ নেত্রী  » «   ইতালিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিএনপি’র ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   ইতালির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি ও সিনেট পদপ্রার্থীদের রোমের বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে মতবিনিময়  » «   রানির প্রস্থান, রাজার আগমন এবং আধুনিক ব্রিটেন  » «   আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বাংলাদেশি তাকরিম  » «   ফুটবলার আঁখির বাবার সঙ্গে অসদাচরণ, দুই পুলিশ ক্লোজড  » «   গোলাম কিবরিয়া  : সংগ্রামেই যিনি সাফল্যের উচ্চশিখরে  » «   ফুডেক্স সৌদি মেলায় বাংলাদেশি খাদ্য পন্য নিয়ে চার বৃহৎ কোম্পানি  » «   দশ বছর পর রোমে ইতালী আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্বনেতারা রানির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাবেন বাসে চড়ে  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


সুলতান মনসুরের শপথঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বৃহত্তর সিলেটবাসীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছাস



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের স্মৃতিধন্য দিনে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবেক ডাকসু ভিপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানের খবরে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সিলেটবাসী যেন খুশির জোয়ারে প্লাবিত। নির্বাচনকালীন সময়ে নানা কারণে যেমন সকলের দৃষ্টি ছিলো সুলতান মনসুরের আসন মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়ায়, তেমনি তুমুল প্রতিদ্ধন্ধিতা শেষে বিজয়ী হিসেবে সকলেই তাঁর রাজনৈতিক পুনরুজ্জীবন লাভে আনন্দিত। একই সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রধান শরীক জাতীয় পার্টি যদিও বর্তমান সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ, তথাপি নানা কারণে মানুষ সুলতান মনসুরকেই জাতীয় সংসদে সরকারের প্রধান সমালোচকের ভূমিকায় দেখতে আগ্রহী। স্বাধীনতাত্তোর  আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলবিহীন সংসদে সরকারের সমালোচক হিসেবে প্রয়াত বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান শ্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের নাম এবং তার সংসদের সরব উপস্থিতি এখনও এক ভিন্ন ইতিহাস।আমরা মনে করি বর্তমান সংসদে সুলতান মনসুরের ভূমিকা স্বাধীনতা পরবর্তী সেই সুরণ্জিতের মতোই হতে পারে। বিরোধী দলহীন সংসদে ২০১৯ থেকে সাংসদ সুলতান সেই উত্তাপটুকুই ছড়াতে পারেন। কারন সুলতান মনসুরের দেশপ্রেম, দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের লব্ধ অভিজ্ঞতা এবং তাঁর সৎ সাহস ও স্পষ্টবাদীতাই মানুষের নিকট তাঁর গ্রহনযোযোগ্যতাকে অনন্য উচ্চতায় ইতিমধ্যে অধিষ্টিত করেছে। প্রবাসীগণ সুলতান মনসুরকে দেশের কল্যানে অবদান রাখতে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজের সহযোগী হিসেবে দেখতেও আগ্রহী। প্রবাসীরা সুলতান মনসুরকে দেশের কল্যানে অবদান রাখতে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজের সহযোগী হিসেবে দেখতেও আগ্রহী।

আজীবন একজন নির্লোভ, দেশপ্রেমিক ও দূর্ণীতিবিরোধী রাজনীতিক হিসেবে প্রবাসীগণ দেশের বিভিন্ন সেক্টরে বিরাজমান সর্বব্যাপী দূর্ণীতির বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি ও দূর্ণীতি নির্মূলে সরকারকে উৎসাহিত করতে তাঁর কার্যকর ভূমিকা দেখতে চান। প্রবাসীগণ সুলতান মনসুরকে দেশের শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়ন ও সর্বস্থরে আধুনিক শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে জ্ঞান বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ জাতি গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালনে অগ্রণী ভূমিকায় দেখতে চায়। দেশে গণতন্ত্রের বিকাশ, অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচন ব্যবস্থা বলিষ্টকরণের লক্ষে সুলতান মনসুর অনন্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন বলে প্রবাসীগণ প্রত্যাশা করেন। এছাড়াও যেহেতু সুলতান মনসুর নিজে প্রবাসীদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে একাত্ন, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা সমগ্র দেশের ব্যাপকসংখ্যক প্রবাসীদের নানাবিদ সুযোগ সুবিধা প্রদানে প্রবাসের বাংলাদেশ কনস্যুলেটগুলোকে পরিপূর্ণ পেশাদারীত্বের পর্যায়ে আনতে কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন বলে প্রবাসীগণ ব্যাপক প্রত্যাশা করছেন।

এ প্রসঙ্গে নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি, সিলেটের সন্তান কামাল আহমেদ বলেন, ‘সুলতান মনসুর একজন পরিচ্ছন্ন দেশপ্রেমিক। দীর্ঘদিন পর তিনি জাতীয় সংসদে জাতির কল্যানে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন। তাতেই আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা তাঁর সফলতা কামনা করি।’ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বৃহত্তর সিলেটবাসীর প্রধান সামাজিক সংস্থা জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব নিউ ইয়র্ক ইনক এর সভাপতি বদরুল হোসেন খান সুলতান মনসুরকে সিলেটের মাটি ও মানুষের গৌরব আখ্যায়িত করে বলেন- ‘সুলতান মনসুর সিলেটের মাটি ও মানুষের গৌরব, তিনি সিলেটের ভূমিপুত্র। সততা, স্পষ্টবাদীতা, পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক চিন্তা চেতনার আলোকে তিনিই হতে পারেন দেশের প্রধান বিরোধী দলের মুখপাত্র। তাঁর কন্ঠই হয়ে উঠতে পারে দেশের গণ মানুষের কন্ঠ। দেশের সর্বব্যাপী দূর্ণীতি নির্মূলে ও শিক্ষার মানোন্বয়নে সুলতান মনসুর ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আমি মনে করি। আমি তাঁর সর্বাঙ্গিন মঙ্গল কামনা করি।জননেতা সুলতান মনসুরের শপথগ্রহনের সংবাদে আনন্দে চিত্ত বিগলিত প্রবাসের অন্যতম ব্যাপক কমিউনিটি বিয়ানীবাজার সামাজিক সাংস্কৃতিক সোসাইটির সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন-‘সুলতান মনসুর সিলেটবাসীর অহংকার। বর্তমান সরকারের সময়ে সংসদে প্রধান বিরোধীদল হিসেবে দেশবাসী সুলতান মনসুরকেই বেশী প্রধান্য দেবে। দেশের দূর্ণীতি, দলীয়করণ ও চুরি ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে সুলতান মনসুরের ভূমিকা হোক ঐতিহাসিক। আমরা তাই চাই।’

সুলতান মনসুরকে ঘিরে প্রবাসের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভেতর আশার আলো জ্বলছে। অনেকে মনে করেন সুলতান মনসুর শীগ্রই আওয়ামী লীগে ফিরবেন। তাঁর হারানো বাগানে আবার ফুটবে ঐশ্বর্যের পুষ্পরাজী। সুলতান মনসুরের একসময়ের একনিষ্ট অনুরাগী যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও যুবলীগের সাবেক সভাপতি মিছবা আহমদ বলেন, ‘যে যাই বলুক, সুলতান মনসুর বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ট সৈনিক একথা নতুন করে প্রমানের প্রয়োজন নেই। তাঁর জীবন ও কর্মই উজ্জল প্রমান। আমরা তাঁকে আওয়ামী লীগের পতাকাতলে দেখতে চাই। সুলতান মনসুর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। সমগ্র দেশের কল্যানে তাঁর নতুন অভিযাত্রা আরো সাফল্যময় হোক।’ উচ্ছসিতকন্ঠে নিউ ইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক সিলেট জেলা ছাত্রলীগনেতা শেখ আতিকুল ইসলাম বলেন- ‘সুলতান মনসুর যখন বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী তখন আমরা আশাবাদী হই। আমরা তাঁকে আবার আওয়ামী লীগের পতাকাতলে দেখতে চাই। সুলতান মনসুরকে অন্য কোথাও মানায় না।’

এদিকে সুলতান মনসুরের শপথগ্রহনকে ঘিরে তাঁর নির্বাচণী এলাকা কুলাউড়ার জনগণের মধ্যে প্রত্যাশার আলো প্রোজ্জ্বলিত হয়েছে। তারা যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে গত উনিশ বছরে কাংখিত উন্নয়ন বঞ্চিত কুলাউড়া আবার উন্নয়নের ছোঁয়ায় আলোকিত হবে বলে ব্যাপক আশাবাদী। এ বিষয়ে কুলাউড়ার সন্তান, জর্জিয়া যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল তালুকদার বলেন-‘সুলতান মনসুর কুলাউড়ার উন্নয়নের বরপুত্র। তাঁর সময়ে ১৯৯৬-২০০১সময় ছিলো কুলাউড়ার ইতিহাসে সবচেয়ে সমৃদ্ধ সময়। যখন তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে কুলাউড়ার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। পরবর্তীতে যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে কুলাউড়া কাংখিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছিলো।’ তিনি বলেন-‘এবার সুলতান মনসুরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কুলাউড়াবাসী আবার উন্নয়নের স্বপ্ন ধারণ করছে। আমি সুষম ও পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যনে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি কুলাউড়াকে একটি মডেল জনপদে পরিণত করতে জননেতা সুলতান মনসুরকে আহ্বান জানাচ্ছি। এজন্য তাঁকে যে কোনরকম সহযোগিতা করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’ তিনি বলেন-‘সকল বাধা অতিক্রম করে কুলাউড়ার জনগণের প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দিয়ে শপথ গ্রহন করে কুলাউড়ার উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর থাকায় কুলাউড়াবাসীর পক্ষ থেকে জননেতা সুলতান মনসুরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সাবেক আওয়ামী লীগনেতা সুলতান মনসুরের সঙ্গে বৃহত্তর সিলেটের মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। ১৯৬৮সালে মৌলভীবাজার বহুমূখি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রাবস্থায় তিনি উক্ত স্কুলের ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা সফল ছাত্রনেতায় পরিণত হন। একজন ছাত্রনেতার জীবনের কাংখিত সকল পদই তিনি অর্জন করতে সক্ষম হন। তিনি ছিলেন ১৯৭০সালে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সহ সম্পাদক। তিনি ১৯৬৯সালের গণ অভ্যুত্থান ও ৭০’র নির্বাচনে অবদান রাখার পাশাপাশি ১৯৭১সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন।
স্বাধীন বাংলাদেশে সুলতান মনসুরের রাজনৈতিক জয়যাত্রা সিলেট থেকেই শুরু হয়। একাধারে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সিলেট এম সি ইন্টারমেডিয়েট কলেজ (বর্তমান সিলেট সরকারী কলেজ) ও মদনমোহন কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি এমসি কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেলের জি এস মনোনীত হয়েছিলেন। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫সালের ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে সকল ভয় উপেক্ষা করে প্রধানত তারই নেতৃত্বে সিলেটে প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। একই সালের ৩রা নভেম্বর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রতিবাদ মিছিলের উদ্যোক্তা ও তৎকালীন ছাত্রনেতা সুলতান মনসুর। এছাড়াও সুলতান মনসুর নিজেকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেন ৭৫’র ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে দখলদার সরকার তথা খুনীচক্রের উপর প্রতিশোধ গ্রহনের লক্ষে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তমের নেতৃত্বে গঠিত ভারতে নির্বাসিত ‘জাতীয় মুক্তিবাহিনী’তে অংশ গ্রহনের মধ্য দিয়ে। তিনি অনেক বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে জাতীয় মুক্তিবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি ভারতের ইন্দিরা গান্ধী সরকারের সমর্থিত জাতীয় মুক্তিবাহিনীর তথ্য ও প্রচার সেলের কমান্ডার নিযুক্ত হন। যদিও ১৯৭৭সালে ভারতে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের স্থলে মোরারজী দেশাইয়ের সরকার ক্ষমতায় আরোহন করলে জাতীয় মুক্তিবাহিনীর লড়াইয়ের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং রণে ভঙ্গ দিতে বাধ্য হন। বৃহত্তর সিলেটের মানুষের সাথে সুলতান মনসুরের সম্পর্ক নিবিড় হয়ে উঠে ১৯৭৯সালের নভেম্বরে ভারত থেকে প্রত্যাবর্তনের পর। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগে পুনরায় অন্তর্ভূক্তি ঘটে। দেশব্যাপী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূনরুজ্জীবন আন্দোলনে তিনি সম্মূখ থেকে নেতৃত্ব দেন। এসময় তিনি টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া আর সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবনসহ সমগ্র দেশে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করার সংগ্রামে আত্ননিয়োগের পাশাপাশি বৃহত্তর সিলেটে ছাত্রলীগকে সংগঠিত ও পুনরুজ্জীবিত করার দায়িত্বভার নিজ স্কন্ধে তুলে নেন। সে সুযোগে তাঁরই হাত ধরে ছাত্রলীগের পতাকাতলে হাজার হাজার নেতাকর্মীর আগমন ঘটে। বৃহত্তর সিলেটের প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি জনপদে সুলতান মনসুরের হাতে গড়া কর্মীদের উপস্থিতি রয়েছে। রাজনীতির ধারাবাহিকতায় পবর্তীতে ডাকসু ভিপি নির্বাচিত হওয়া এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগটনিক সম্পাদক হওয়ার মধ্য দিয়ে যা আরো সু সংহত হয়। একই সূত্রে সমগ্র দেশে সুলতান মনসুরের হাতে গড়া অনুরাগী নেতাকর্মীদের অবস্থান সুদৃঢ়।

প্রবাসের মাঠিতে সুলতান মনসুরের অনুরাগী অজস্র নেতাকর্মী ও সুভানূধ্যায়ী বিগত নির্বাচনে তাঁর পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে অবদান রেখেছেন। যদিও তারা অনেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন দলের নানা পর্যায়ে নেতৃত্বে রয়েছেন, তথাপি, প্রবাস থেকে তাঁর প্রতি সমর্থন ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করতে বলিষ্ট ভূমিকা রাখেন। যারা তাঁর সংসদ সদস্য পদে শপথ গ্রহনের সংবাদে আনন্দে বিহ্বল।

উল্লেখ্য যে, গত ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্টিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার ২ কুলাউড়া আসনে সুলতান মনসুর ডঃ কামাল হোসেনের নেতূত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে গণফোরামের হয়ে ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৭৯,৪৪২ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্ধন্ধি ছিলেন নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি থেকে বিকল্পধারায় যোগ দেওয়া এম এম শাহিন। যিনি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতিকে নির্বাচন করে ৭৭,১৭০ ভোট লাভে সক্ষম হন। এ নির্বাচনে সুলতান মনসুরের ব্যাপকসংখ্যক নেতাকর্মী পুলিশী নির্যাতনের শিকার হন, যার মধ্যে কয়েকজন ইউ/পি চেয়ারম্যান ও ছিলেন। এ বিষয়ে নির্বাচনের পূর্বে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন এবং কুলাউড়াবাসীর প্রতি খোলা চিটি লিখে তা বিলি করেন। এসকল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয় এবং তিনি সকল বাধা অতিক্রম করে কাংখিত বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হন। তাঁর নেতাকর্মীরা স্বাধীনভাবে নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহন করতে পারলে প্রতিদ্ধন্ধি প্রার্থীর বিপরিতে তাঁর ভোটের ব্যবধান আরো কয়েকগুণ বাড়তো বলে সুলতান মনসুর মনে করেন।
নির্বাচন পরবর্তীতে নির্বাচনে ভোট কাঁরচুপির অভিযোগে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরীক বি এন পির অনীহার কারণে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহন নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। কিন্তু, প্রথম থেকেই সুলতান মনসুর শপথগ্রহন প্রশ্নে ইতিবাচক ছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে আগামী ৭ই মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল সকাল ১১টায় সংসদ সচিবালয়ে সুলতান মনসুর এবং সিলেট ২আসন থেকে নির্বাচিত ঐক্যফ্রন্টের অপর সংসদ সদস্য গণফোরামের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মোকাব্বির খানের শপথ গ্রহনের সময়সূচি ধার্য্য করা হয়েছে।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক