রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
খায়রুল আনামের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «   মনসা পূজোর জন্যে আবার প্রস্তুত সিকদার বাড়ি  » «   স্পেনে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস  » «   মিলান কনস্যুলেটে জাতীয় শোক দিবস পালন  » «   লন্ডনে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক তাজুল মোহাম্মদের সাথে অন্তরঙ্গ আড্ডা  » «   সৌদি আরবে জাতীয় শোক দিবস পালিত  » «   সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজি নিহত  » «   সৌদির তেল স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা  » «   বাংলাদেশ কনসুলেট জেদ্দার শোকদিবস পালন  » «   জেদ্দা ইংরেজি মাধ্যমে স্কুলে ৪৪তম “জাতীয় শোক দিবস” পালন করেছে।  » «   আমিরাতে বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনী  » «   বাংলাদেশ সমিতি ফুজাইরাহতে শোকদিবসের ৩দিন ব্যাপি কর্মসূচি পালিত  » «   অসাধারণ দেশ প্রেমিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু : গ্রীসের রাষ্ট্রদূত  » «   ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের শোক দিবস পালন  » «   পুর্তগালে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দুতাবাস  » «  

বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট ক্ষুব্ধ—- নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ ?



একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে গিয়ে বাংলাদেশের শতাধিক নেতা-কর্মীকে হোঁচট খেতে হয়েছে। দেশের আলোচিত মুখ খালেদা জিয়া,মীর নাসির,ডাঃ ইমরান এইচ সরকার, রেজা কিবরিয়া, কাদের সিদ্দিকী,গোলাম মওলা রনি,ব্যরিষ্টার নাজমুল হুদাসহ অনেক নেতা-কর্মীর মেনোনয়নপত্রে ও নির্বাচন বিধিমালা অনুসরণে বিভিন্ন অনিয়ম-অসংগতির কথা উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন এসব প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষনা করেছে।

বিএনপি কিংবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে দাবী করা হচ্ছে, তাদের হেভি ওয়েট প্রার্থী দেখে দেখে নির্বাচন কমিশন মূলত তাদের প্রার্থীদেরই মনোনয়নপত্র অবৈধ হিসেবে ঘোষনা করছে। তারা আরও বলছেন যে, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হবেন এরকম সম্ভ্যাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনে বেছে বেছে অযোগ্য ঘোষনা করছে নির্বাচন কমিশন।

বিএনপি‘র সিনিয়র মহাসচিব এ্যডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ শুধু তাঁদের দলেরই ৫০ জন হেভী ওয়েট নেতা এবং সাবেক এমপি’র মনোনয়ন বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তিনি অভিযোগ করেন বিনা অজুহাতেই বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষনা করছে নির্বাচন কমিশন। এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের পরিব্যপ্ত ছায়া হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর প্রচ্ছন্ন নির্দেশেই পরিচালিত হচ্ছে।

মনোনয়ন বাতিল প্রসংগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান নেতা ও গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, প্রার্থীতা বাতিলের মধ্য দিয়ে সরকার একতরফা নির্বাচনের নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীতা বাতিল হওয়ার প্রার্থীদের প্রায় সকলেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরদার একেএম নাসির উদ্দিনের (কালু) মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত টেলিফোন বিল বকেয়া থাকায় বাছাইকালে তার মনোনয়পত্রটি বাতিল ঘোষণা করেন শরীয়তপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী আবু তাহের। ওই সময়কালে নাসির উদ্দিনের কাছে ৩ হাজার ৮১৫ টাকা বিল বকেয়া রয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী সরদার নাছির উদ্দিন কালু বলেন, আমার কোনো টেলিফোন বিল বকেয়া নেই। আমি ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। ২০০৪ সালে শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হই। এতদিন পরে আমার টেলিফোন বিল কিভাবে বকেয়া হলো তা আমার জানা নেই। আমি প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করব।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, নগণ্য ইস্যুকে কেন্দ্র করে আমার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। আমারসহ অন্যদের মনোনয়ন বাতিলে যেসব কারণ দেখানো হয়েছে, সেই হিসেবে দেশে কোনো বৈধ প্রার্থীই থাকার কথা নয়। আজ নিজের মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিলের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ইমরান এইচ সরকার কুড়িগ্রাম-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। গতকাল বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটানিং কর্মকর্তা। বলা হয়, ভোটারদের এক শতাংশ সমর্থনে ‘ত্রুটি থাকায়’ তার মনোনয়নপ্রত বতিল করা হয়েছে।

গণজাগরণ মঞ্চের এই মুখপাত্র বলেন, আমার সমর্থকদের নামের সিরিয়াল একটু এদিক-সেদিক হয়েছে। এতেই অবৈধ বলে ঘোষণা দেয়া হলো।আমার বাড়তি ৫শ’ সমর্থন ছিল। তারা সেটি নেননি। এক শতাংশের তালিকা ঠিক ছিল। হয়তো সিরিয়াল এদিক-সেদিক ছিল। এরপর আমি বলেছি, এটা ঠিক করে দেই। কিন্তু, রিটার্নিং কর্মকর্তা আমার আবেদন রাখেননি।

গোলাম মওলা রনি বলেন, এটা একটি সাধারণ ভুল ছিলো। এ ধরণের সাধারণ ভুলের জন্য অতীতে কখনই কোন মনোনয়পত্র বাতিল হয় নাই। আমরা সাপ্লিমেন্টারী ডকুমেন্ট নোটারী পাবলিক করে জমা দেই। আমরা যেটা করি এটার দুটো কপি করি। এতে ভুলক্রমে আমার স্বাক্ষরটা পড়েনি। সাধারণত যাচাই বাছাইয়ে এ ধরণের ভুল হলে বলা হয় আপনি একটা স্বাক্ষর করে নিন। আমাকে স্বাক্ষরের সুযোগ না দিয়ে তিনি সরাসরি বললেন আপনার মনোনয়নপত্র বাতিল।

বিএনপি‘র সিনিয়র মহাসচিব এ্যডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অসংখ্য মনোনয়ন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। টার্গেট করে ৫০ জনের মতো দলের হেভী ওয়েট জনপ্রিয় নেতা ও সাবেক এমপিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে বগুড়ার ডিসি মনোনয়নপত্র বাতিল করার মাধ্যমে খালেদা জিয়া আরও একটি আক্রোশের শিকার হলেন। বিনা অজুহাতেই বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না করা সত্ত্বেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে-সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্রে টিপসই দেয়া হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অচেতন হয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। কেউ বিদেশে অবস্থান করলে তার স্বাক্ষর কিংবা টিপসই সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ এ্যাম্বেসি’র একজন ফাস্ট সেক্রেটারি কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে, যার মর্যাদা হবে প্রথম শ্রেণীর একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের সমমানের। এধরণের কর্মকর্তার দ্বারা সত্যায়িত হয়নি সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র। তার মনোনয়নপত্র নোটারী করা হয়েছে বাংলাদেশে, যা আইনসিদ্ধ নয়। সৈয়দ আশরাফের নামে নির্বাচনী কোন ব্যাংক একাউন্ট নেই, যেখান থেকে নির্বাচনী খরচ চালানো হবে। তাহলে সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র বৈধ হলো কিভাবে ?

একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।সোমবার সকাল ১১ টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি ।
এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মনোনয়নপত্র বাতিল করা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচন চায় না। যাহা সত্য তাই আমি বলছি। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাও একতরফা নির্বাচনের মনোভাব পোষণ করেন না বলে জানান সেতুমন্ত্রী।

উল্লেখ্য যে, একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সংক্ষুব্ধরা সোমবার থেকে বুধবারের মধ্যে ইসিতে অভিযোগ করতে পারবেন। পরে তাদের আবেদনের ওপর ৬ থেকে ৮ই ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি করে সিদ্ধান্ত দেবে ইসি।