বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
ঈদে ছুটি নাই  » «   কমিউনিটি ও পরিবারের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে ঈদের ছুটি নিয়ে দ্বি-মত থাকবে না- শায়খ আব্দুল কাইয়ুম  » «   ব্রিটেনে ঈদ হলিডে : আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা  » «   দয়া নয়, ঈদের ছুটি শ্রমজীবি মুসলমানদের অধিকার  » «   ব্রিটেনে ঈদের ছুটি নিয়ে কমিউনিটি ও মানবাধিকার নেতারা যা বলেন  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃক বন্যা দুর্গতদের চিকিৎসার্থে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   যুক্তরাজ্যে ঈদের ছুটির দাবীতে  আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ অনুষ্ঠিত  » «   পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে স্পেনে দূতাবাসের বিশেষ আয়োজন  » «   পদ্মা সেতুর স্মারক নোট বাজারে আসবে রবিবার  » «   পদ্মা সেতুর জন্য অভিনন্দন বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধির  » «   অদম্য বাংলাদেশ, খুলল পদ্মার দ্বার  » «   আছে শুধু ভালোবাসা, দিয়ে গেলাম তাই: প্রধানমন্ত্রী  » «   রেমিটেন্স প্রেরণে উদ্বুদ্ধকরণে মাদ্রিদে মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্বনাথে মায়ের কোল থেকে ভেসে গেল শিশু, ৫ জনের মৃত্যু  » «   লন্ডনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ইউকের বিশ বছরপূর্তি উদযাপন  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


আঁধার মুছে যাক, অব্যাহত থাকুক সংলাপ



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুব দ্রুত কিছু পরিবর্তন এসেছে গত ক’দিনে। বর্তমান সংসদের শেষ সময়ে এসে কিছু সিদ্ধান্তও এসেছে, যেগুলো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও আছে অনেক। সরকারের শেষ সময়ে এসব সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা-আবশ্যকতা নিয়ে সমালোচনাগুলোকে এড়িয়ে যাওয়াও যাবে না।

গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক হাওয়ায় উল্লেখ করার মতো দুটি ঘটনা ঘটেছে। এ দুটিই পজেটিভ। যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবিটা ছিল দীর্ঘদিনের। সব স্বাধীনতার পক্ষের দলগুলো এ দাবি করে আসছিল। কিছু ইসলামী দল এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ছাড়া সব দলই এই ইস্যুতে ছিল এক। বাংলাদেশে অনেক ইসলামী দল আছে যেগুলোতে সে সময়ে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া অনেকেই আছেন।

এমনকি দেশের প্রধান দলগুলোতেও কয়েকজন স্বাধীনতাবিরোধী মানুষের নাম উল্লেখ করা যাবে। এদের কেউ কেউ একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পক্ষে কথা বলেন নি। বরং বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু যেহেতু তারা এখনকার বিভিন্ন দলে অনুপ্রবেশ করেছেন এবং একাত্তরের কৃতকর্মকে ভুল হিসেবে মেনে নিয়েছেন, সেহেতু এদের অপরাধ কিছুটা হালকা হিসেবেই দেখছে এই প্রধান দলগুলো। কিন্তু এই জায়গাটাতে জামায়াতে ইসলামী ছিল অনড়। এরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপরীতে অবস্থান নেয়াটাকে অপরাধ হিসেবে দেখেনি এবং ভুলও স্বীকার করেনি।

সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই এদের প্রতি প্রগতিকামী মানুষের একটা বিদ্বেষ থাকাটা স্বাভাবিক। স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে এমন কেউ কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হেয় করে দেখে এমন কোনো রাজনৈতিক দলকে নৈতিকভাবেই বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দেয়া যায় না। আর সে জন্যই নির্বাচন কমিশন দেরিতে হলেও জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে।

খুবই স্বাভাবিকভাবে সরকারের শেষ সময়ে এসে নির্বাচন কমিশনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য ভোটের মাঠে এক বিরাট সফলতা এনে দেবে বলেই বিশ্বাস রাখা যায়। কারণ বিগত কয়েক বছরে স্বাধীনতার চেতনার প্রতি তরুণদের একটা শ্রদ্ধাবোধ কিংবা আবেগ এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে, এই ইস্যুটাকে তারা তাদের প্রাণের কিংবা অস্তিত্বের সঙ্গেই একীভূত করে ফেলেছে। এই প্রাণের আবেগটা সৃষ্টি করাতে গণজাগরণ মঞ্চ একটা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।

দ্বিতীয়টি ছিল, ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেনের আহ্বানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপে বসতে সম্মতি। সেই দিন থেকে সারাদেশের জনগণ এমনকি দেশের বাইরের লাখো-কোটি বাঙালি একটা সফল সংলাপের দিকে চোখ রাখছিল। গণমাধ্যমের দিকে চেয়ে ছিল দেশের কোটি কোটি মানুষ।

বহু প্রতীক্ষিত সংলাপ হয়েছে ১ নভেম্বর সন্ধ্যায়। এই সংলাপ দেশের জন্য কি কোনো ভালো ফলাফল নিয়ে এলো, নাকি সাড়ে তিন ঘণ্টার আলাপন ভেস্তেই যাবে শেষ পর্যন্ত, সে শঙ্কা হয়তো অনেকেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

কারণ দেখা গেছে, অতীতে এ রকম সংলাপ খুব একটা কার্যকরী ফলাফল নিয়ে আসেনি। প্রয়াত আব্দুল জলিল এবং মান্নান ভুঁইয়ার সংলাপও এভাবেই চলেছে, চলেছে চিঠি চালাচালি। দুজনের মুচকি হাসিতে তখনো দেশের মানুষের সামনে আলোর ঝলকানি এসেছিল কিন্তু তা ছিল শুধু ঝলকই। ফলাফল কিছু আসেনি। সংকট থেকে উত্তরণ হয়নি।

এবারে আমরা হয়তো এভাবে ভাবতে পারি না। কারণ এ সংলাপটা আরো উচ্চপর্যায়ের। খোদ প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এতে উৎসাহ দেখিয়েছেন। অন্যদিকে বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ বাংলাদেশের রাজনীতির একজন বিজ্ঞ মানুষ, যিনি বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে এই দেশ নিয়ে কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটা ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে গড়ার প্রাণ-পুরুষ ছিলেন তিনিও। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই এ সংলাপটা এবারে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।

আওয়ামী লীগের ওপর বিএনপির অভিযোগ বিস্তর। আজকের ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের সব বড় বড় নেতাই বিএনপির এই অভিযোগগুলোর প্রতিধ্বনিই করেন তাদের আলাপে কিংবা বক্তৃতায়, ড. কামালসহ সবাই এই সরকারের বিভিন্ন দুঃশাসনের কথা বলেছেন তার আলোচনায় এবং এখনো বলছেন এবং তাদের ভাষায় এই দুঃশাসন থেকে মুক্তির জন্য সরকারের কাছে সাতদফা দাবি দিয়ে তা আদায়ের জন্য লড়ছেন। এই দাবিগুলো নিয়েই তারা গিয়েছিলেন সংলাপে।

সংলাপের প্রধান দাবি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টাকে শেখ হাসিনা আইনের ব্যাপার বলে খুব সহজেই রাজনৈতিক বলটি পোস্ট করেছেন। তিনি আবারো জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু সংলাপে বসা নেতারা প্রধানমন্ত্রীর এ কথাগুলোতে কি পুরো আশ্বস্ত হতে পেরেছেন? মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বাভাবিকভাবেই তার কিংবা তার দল বিএনপির রাজনৈতিক দাবি-দাওয়া থেকে সরতে পারবেন না। দলটির প্রধান দাবি খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারটাকেই প্রাধান্য দিয়েছে। এই মুহূর্তে এটা তাদের প্রধান ইস্যু হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ তারা মনে করছেন, মাত্র আড়াই কোটি টাকার মামলায় তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর এ সাজা হতে পারে না। তারা এটাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছেন।

প্রশ্ন আসতেই পারে, কীভাবে বিএনপি প্রধান এই অল্প টাকার মামলায় ফেঁসে গেলেন। হয়তো এ রকমই কোনো ছোট্ট অভিযোগ আইনের চোখে তাকে অপরাধী করেছে এবং এই প্যাঁচেই মাত্র আড়াই কোটি টাকায়ই তাকে কাবু করা হয়েছে।

সুতরাং আইনের প্যাঁচে খালেদা জিয়ার কারাভোগের রাজনৈতিক ফায়দাটা আওয়ামী লীগের ঘরেই উঠছে এখন। তাছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবিটা একটা পুরনো ইস্যু হলেও এতেও আছে সাংবিধানিক বিধিবিধান। এটাকেই বারবার দেখাচ্ছে সরকার। এ দাবিটার প্রতি সাংবিধানিক বিধিবিধান মেনেই একটা পথ বের করা যেতে পারে বলেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন। সরকার কিছুটা আন্তরিক হয়ে এ ব্যাপারে একটু ছাড় দিয়ে এগুতেই পারে।

সংলাপে ইতিবাচক কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনকে সামনে রেখে সভা-সমাবেশে প্রতিবন্ধকতা কিংবা নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। তার কথায় ইঙ্গিত আছে- গ্রেপ্তার থাকবে না, গায়েবি মামলা হবে না। রাজনৈতিক মামলাগুলো খুব শিগগিরই বিবেচনা করা হবে। আর সে জন্যই হয়তো ড. কামাল আশা ত্যাগ করেননি। মির্জা ফখরুলও তার দলের পুরনো এটিচিউড থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসেছেন। তিনি সংলাপের সফলতাকে প্রত্যাখ্যান করেননি। বলেছেন, সন্তুষ্ট হতে পারেননি। এমনকি দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যিনি সব সময় উষ্ণ বক্তৃতা দেন, তিনিও গরম না হয়ে উত্তপ্ত বাক্য প্রয়োগ না করে শুধুই হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন সংলাপ ‘তিমিরাচ্ছন্ন’ হলো।

অর্থাৎ আঁধার আছে সামনে। কিন্তু এ আঁধার দূর হওয়ার সম্ভাবনাকে তিনি উড়িয়ে দেননি। সন্তুষ্টি না এলেও পথ খোলা আছে, ড. কামাল সেই পথ খোলা রেখেই এসেছেন। সংলাপের পর রাজনীতির আগামী তিমিরাচ্ছন্ন দেখলেও আঁধার ঘোচানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ চোখে পড়ছেই।৬ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্ট সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে, কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই।

আঁধার মুছে যাক, অব্যাহত থাকুক সংলাপ। শেখ হাসিনার উচ্চারিত উন্নয়নের ধারা আরো গতিশীল হয়ে গণতন্ত্রের ধারা হোক উজ্জ্বল। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারে যে দলই কিংবা জোটই ক্ষমতায় আসুক না কেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের স্লোগানটি প্রতিধ্বনিত হোক সারা দেশের প্রতিটি কোনায় কোনায়।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক