ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রাজা তৃতীয় চার্লসের ‘হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ইউনূস : একান্ত বৈঠকে জানালেন সংস্কার কার্যক্রম

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫
  • / 313
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘হারমনি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ প্রদান করেছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস।

শান্তি, পরিবেশগত ভারসাম্য ও মানবতার সঙ্গে প্রকৃতির সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে আজীবন অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের রাজার পক্ষ থেকে এই সম্মাননা দেওয়া হয় ইউনূসকে।

২০২৪ সালের জুনে রাজা চার্লস এই পুরস্কার চালু করেন, যার উদ্দেশ্য— প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানে উৎসাহ জোগানো এবং টেকসই উন্নয়নের দর্শন ছড়িয়ে দেওয়া।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আগে বাকিংহাম প্যালেসে অধ্যাপক ইউনূসকে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ দেন রাজা।

প্রায় ৩০ মিনিটের এ বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান রূপান্তর ও সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম।

“এটি ছিল পুরো সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা,” বলেন তিনি।

প্রেস সেক্রেটারি জানান, রাজা চার্লস বহুদিন ধরে অধ্যাপক ইউনূসের কাজের ভক্ত। ক্ষুদ্রঋণের ধারণা, সামাজিক ব্যবসা এবং ‘থ্রি জিরো’ আন্দোলনের প্রতি তার গভীর আগ্রহ রয়েছে।

“রাজা এমনকি অধ্যাপক ইউনূসের একটি বইয়ের ভূমিকা পর্যন্ত লিখেছেন,” বলেন শফিকুল আলম।

বাকিংহাম প্যালেসের ঐতিহ্য অনুযায়ী, রাজা যখন কাউকে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানান, সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার কাজের গুরুত্বকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

হারমনি অ্যাওয়ার্ডের প্রথম বিজয়ী ছিলেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন।

রাজা চার্লস বহুবার বলেছেন, “মানুষকে প্রকৃতির বিরুদ্ধে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে চলতে হবে।” তিনি এই দর্শনকেই নিজের নেতৃত্বের একটি কেন্দ্রীয় নীতিতে পরিণত করেছেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক অধ্যাপক ইউনূসকে আগাম অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে একটি বিরাট সম্মান।”

সম্প্রতি ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে হাইকমিশনার এই শুভেচ্ছা জানান।

বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত কুক বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “এই সপ্তাহে সম্মানীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাজ্যে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।”

তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের যুক্তরাজ্য সফরে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো দুই দেশের মধ্যে গণতন্ত্র, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার চার দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান। সফরের মূল লক্ষ্য— দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়া, বিশেষত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগে আরও জোর দেওয়া।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফর।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক বহুস্তরবিশিষ্ট এবং গভীর। এই সফরের মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে একান্ত বৈঠক

যুক্তরাজ্য সফররত বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন।

একান্ত বৈঠকে তারা বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রদান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বাসস জানিয়েছে, শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল ১১:২০ মিনিটে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়, যা ছিল একেবারে ব্যক্তিগত।”

বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা তার সরকার গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে রাজা চার্লসকে অবহিত করেন।

তিনি আরও জানান, প্রায় ৩০ মিনিটের এ বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। যেহেতু রাজা চার্লস বহুদিন ধরে মুহাম্মদ ইউনূসকে চেনেন, সেহেতু নানা বিষয় নিয়ে তাদের আলোচনা হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, “এই পুরো সফরের মধ্যে আমি বলব, এটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।”

একান্ত সাক্ষাতের পর, রাজা ও রাণীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি ছবি উপহার হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে দেওয়া হয়, যা প্রধান উপদেষ্টার জন্য একটি বড় সম্মানের ছিল বলে জানান প্রেস সচিব।

বাকিংহাম প্যালেসে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের জন্য স্বাগত জানান রাজা চার্লস।

নিয়মিত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সাক্ষাতের পাশাপাশি রাজা চার্লস এমন ব্যক্তিদের সাক্ষাৎ দেন, যারা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন- বিশেষ করে যারা রাজকীয় নিয়োগ পেয়ে থাকেন বা তাদের নামে প্রদত্ত পুরস্কার গ্রহণ করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাজা তৃতীয় চার্লসের ‘হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ইউনূস : একান্ত বৈঠকে জানালেন সংস্কার কার্যক্রম

আপডেট সময় : ১২:৪৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘হারমনি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ প্রদান করেছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস।

শান্তি, পরিবেশগত ভারসাম্য ও মানবতার সঙ্গে প্রকৃতির সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে আজীবন অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের রাজার পক্ষ থেকে এই সম্মাননা দেওয়া হয় ইউনূসকে।

২০২৪ সালের জুনে রাজা চার্লস এই পুরস্কার চালু করেন, যার উদ্দেশ্য— প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানে উৎসাহ জোগানো এবং টেকসই উন্নয়নের দর্শন ছড়িয়ে দেওয়া।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আগে বাকিংহাম প্যালেসে অধ্যাপক ইউনূসকে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ দেন রাজা।

প্রায় ৩০ মিনিটের এ বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান রূপান্তর ও সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম।

“এটি ছিল পুরো সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা,” বলেন তিনি।

প্রেস সেক্রেটারি জানান, রাজা চার্লস বহুদিন ধরে অধ্যাপক ইউনূসের কাজের ভক্ত। ক্ষুদ্রঋণের ধারণা, সামাজিক ব্যবসা এবং ‘থ্রি জিরো’ আন্দোলনের প্রতি তার গভীর আগ্রহ রয়েছে।

“রাজা এমনকি অধ্যাপক ইউনূসের একটি বইয়ের ভূমিকা পর্যন্ত লিখেছেন,” বলেন শফিকুল আলম।

বাকিংহাম প্যালেসের ঐতিহ্য অনুযায়ী, রাজা যখন কাউকে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানান, সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার কাজের গুরুত্বকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

হারমনি অ্যাওয়ার্ডের প্রথম বিজয়ী ছিলেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন।

রাজা চার্লস বহুবার বলেছেন, “মানুষকে প্রকৃতির বিরুদ্ধে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে চলতে হবে।” তিনি এই দর্শনকেই নিজের নেতৃত্বের একটি কেন্দ্রীয় নীতিতে পরিণত করেছেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক অধ্যাপক ইউনূসকে আগাম অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে একটি বিরাট সম্মান।”

সম্প্রতি ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে হাইকমিশনার এই শুভেচ্ছা জানান।

বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত কুক বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “এই সপ্তাহে সম্মানীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাজ্যে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।”

তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের যুক্তরাজ্য সফরে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো দুই দেশের মধ্যে গণতন্ত্র, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার চার দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান। সফরের মূল লক্ষ্য— দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়া, বিশেষত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগে আরও জোর দেওয়া।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফর।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক বহুস্তরবিশিষ্ট এবং গভীর। এই সফরের মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে একান্ত বৈঠক

যুক্তরাজ্য সফররত বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন।

একান্ত বৈঠকে তারা বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রদান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বাসস জানিয়েছে, শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল ১১:২০ মিনিটে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়, যা ছিল একেবারে ব্যক্তিগত।”

বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা তার সরকার গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে রাজা চার্লসকে অবহিত করেন।

তিনি আরও জানান, প্রায় ৩০ মিনিটের এ বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। যেহেতু রাজা চার্লস বহুদিন ধরে মুহাম্মদ ইউনূসকে চেনেন, সেহেতু নানা বিষয় নিয়ে তাদের আলোচনা হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, “এই পুরো সফরের মধ্যে আমি বলব, এটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।”

একান্ত সাক্ষাতের পর, রাজা ও রাণীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি ছবি উপহার হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে দেওয়া হয়, যা প্রধান উপদেষ্টার জন্য একটি বড় সম্মানের ছিল বলে জানান প্রেস সচিব।

বাকিংহাম প্যালেসে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের জন্য স্বাগত জানান রাজা চার্লস।

নিয়মিত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সাক্ষাতের পাশাপাশি রাজা চার্লস এমন ব্যক্তিদের সাক্ষাৎ দেন, যারা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন- বিশেষ করে যারা রাজকীয় নিয়োগ পেয়ে থাকেন বা তাদের নামে প্রদত্ত পুরস্কার গ্রহণ করছেন।